
ভিক্টোরিয়ান অ্যাডমিরাল স্যার জ্যাকি ফিশার একসময় বলেছিলেন, পাঁচটি কৌশলগত ‘চাবি’ দিয়ে পুরো বিশ্বকে আটকে রাখা সম্ভব। সিঙ্গাপুর, কেপ টাউন, আলেকজান্দ্রিয়া, জিব্রাল্টার এবং ডোভার—এই পাঁচটি জলপথই ছিল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই তালিকায় আরেকটি নাম যোগ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা এখন সবার ওপরে উঠে এসেছে আরব উপদ্বীপের সংকীর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ। ইরান এই জলপথ অবরোধ করে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ কার্যত অচল করে দিয়েছে। তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হরমুজ নয়, বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন চরম ঝুঁকির মুখে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে।
সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ওপর বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি নির্ভর করে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগেও বিশ্ববাণিজ্যের এই ধমনিগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ আবারও প্রমাণ করেছে। সস্তা প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এখন ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীও অনেক দূর থেকে এসব প্রণালিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাতে পারছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে চালানো হামলা এর বড় উদাহরণ। এর ফলে সুয়েজ খালগামী বিশ্ববাণিজ্যের বড় একটি অংশ এখন আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার আধিপত্য এবং তুরস্কের বসফরাস ও দার্দানেলাস প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
শুধু যুদ্ধ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনও বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র খরার কারণে পানামা খালের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল সীমিত করতে হয়েছে, যা অনেক বড় বাণিজ্যিক কোম্পানিকে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার ফলে বেরিং প্রণালির মতো দূরবর্তী পয়েন্টগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে পানামা খাল এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন, যা এই জলপথগুলোকে নিয়ে নতুন করে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যিক দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালি হরমুজের চেয়ে বেশি ব্যস্ততম। চীনের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছে, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এই পথ অবরোধ করতে পারে। এই ‘মালাক্কা সংকট’ এড়াতে চীন এখন রাশিয়ার সঙ্গে পাইপলাইন তৈরি এবং পাকিস্তান ও মিয়ানমার হয়ে বিকল্প রুট গড়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যদি কোনো বড় সংঘাত বা অবরোধ তৈরি হয়, তবে তা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে বিপর্যয় ডেকে আনবে। কেননা এই শিল্পের বেশির ভাগই চীনের দখলে।
বর্তমান ইরান যুদ্ধের ফলে বিমা কোম্পানিগুলো উচ্চ ঝুঁকির কারণে কাভারেজ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক অবরোধ ছাড়াও অনেক জলপথ জাহাজ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে ৩০০টির বেশি তেলবাহী ট্যাংকার আটকা পড়ে আছে এবং শিপিং চার্টার রেট প্রতিদিন ৯০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। লরি, সড়ক বা পাইপলাইনের মাধ্যমে এই বিশাল পণ্য সরবরাহ বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব।
পরিশেষে মুক্ত নৌ-চলাচলের যে নীতি এক শতাব্দী ধরে বিশ্ববাণিজ্যকে সচল রেখেছিল, তা এখন গভীর সংকটে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্বকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি এই প্রধান চাবিকাঠি বা জলপথগুলো দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়বে, যার প্রভাব থেকে কোনো দেশই মুক্ত থাকতে পারবে না।
দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে চীন ও রাশিয়া। দেশ দুটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে বেইজিং ও মস্কো তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম...
৭ ঘণ্টা আগে
চলতি মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর কোনো নির্দিষ্ট ও তাৎক্ষণিক হুমকির জবাবে রিয়াদের নেওয়া পদক্ষেপ ছিল না, যেমনটা অনেকে মনে করছেন। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এই চুক্তির পেছনে তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের মিল তৈরি হয়েছে। তিন দেশের ভৌগোলিক অ
১৫ ঘণ্টা আগে
২৫ বছর ধরে ক্ষমতার ঘোড়ায় চড়ে আছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তাই এখন তাঁর ক্ষমতার শীর্ষে থাকার দিন যে শেষের দিকে চলে এসেছে, সেটি বিশ্বাস করাও হয়তো তাঁর জন্য কঠিন। কিন্তু পুলওয়ামার মতো আরেকটি ঘটনা বা অন্য কোনো ‘অলৌকিক’ ঘটনা না ঘটলে...
১৮ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
১ দিন আগে