ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লেও দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকাদের বড় অংশই নীরব থেকেছেন। কয়েক দশক ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার, নারীর অধিকার, ধর্মীয় উত্তেজনা কিংবা জাতীয় সংকটের মতো বিষয়ে সরব থাকা বলিউডের তারকাদের এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের ঘনিষ্ঠতা, সরকারি প্রতিশোধের আশঙ্কা, অনলাইন হয়রানি ও বয়কটের ভয়ই বলিউডের এমন সংযমের প্রধান কারণ।
গত মাসে ভারতের বিভিন্ন শহরে লাখো তরুণ রাস্তায় নামেন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ-পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত ব্যতিক্রমী এই ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত অনলাইনে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘ককরোচ ও পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এমন অভিযোগের পর ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিজেপির জন্ম হয়। পরে এটি বড় ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে দিল্লির জন্তর মন্তর। ৪৫ দিনের বেশি সময় ধরে সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এর মধ্যে ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট—নিট—নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মে মাসে প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, অথচ আসন ছিল ১ লাখ ৩০ হাজারেরও কম। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশকর্মী ও র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারজয়ী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনে যোগ দিয়ে ২৬ দিনের অনশন করেন। তীব্র গরম, বর্ষা ও আর্দ্রতার মধ্যেও আন্দোলন চলতে থাকে।
২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে জন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। পরে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত দুই শিক্ষার্থী পেলেট বন্দুকের গুলিতে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু বলিউডের বড় তারকাদের অধিকাংশই তখনো নীরব। শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজের মতো অল্প কয়েকজন প্রকাশ্যে কথা বলেন। সালমান খান প্রথমে আন্দোলনকারীদের সমর্থন করলেও পরে তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। অমিতাভ বচ্চন, বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মাকেও নীরবতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ভিডিও প্রকাশ করার পর কয়েকজন তারকা আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। কারিনা কাপুর খান, আলিয়া ভাট ও অনন্যা পান্ডে শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
সমালোচকদের মতে, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বলিউডের ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বেড়েছে। শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের মাদক মামলা, আমির খানের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক এবং দীপিকা পাড়ুকোনের চলচ্চিত্র নিয়ে ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ—এসব ঘটনাকে শিল্পীদের ওপর চাপের উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
একই সময়ে দ্য কাশ্মীর ফাইলস, দ্য কেরালা স্টোরি, স্বতন্ত্র বীর সাভারকর ও আর্টিকেল ৩৭০-এর মতো চলচ্চিত্র নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, এগুলো ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক বয়ানকে শক্তিশালী করেছে।
চলচ্চিত্র ব্যবসা বিশ্লেষক গিরিশ জোহরের মতে, তরুণ প্রজন্ম এখন খেয়াল করছে—কোন তারকা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আর কে নীরব থেকেছেন। তিনি বলেন, এই নীরবতা বলিউড তারকাদের জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধের সাত মাস পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে হাজির হয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
১ দিন আগে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সরকারের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। কারাগারে বন্দী থাকার তিন বছরের বেশি সময় পরও ইমরানের জনপ্রিয়তা কমেনি।
১ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাননি। তাঁর স্থলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিউইয়র্কে চলা সাধারণ পরিষদের বিতর্কে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে...
২ দিন আগে
আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ–মিছিলের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টি (পিটিআই)। এই বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শিপিং কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ করছে।
২ দিন আগে