মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলের পাশাপাশি তেলের ট্যাংকারের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এমন দাবির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকার এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার ঘটনা তেলের বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.২১ ডলার বেড়ে ১০৭.৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবং বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যকার বৈপরীত্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভৌগোলিক ও সাময়িক পরিস্থিতির বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট রোববার জানান, গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার কিছুটা আঁটসাঁট হলেও তা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই সুরে দাবি করেছেন, হরমুজে মার্কিন বাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই নৌপথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সব ধরনের বাণিজ্যিক জলযানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত রুটের বাইরে যাওয়া জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই প্রণালি ঘিরে একটি নতুন সংরক্ষিত অঞ্চলও ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ নজরদারি সংস্থাগুলোর উপাত্ত মার্কিন দাবির সঙ্গে মেলেনি। রয়টার্সের প্রকাশিত প্রাথমিক শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে এক অঙ্কে—যা সাম্প্রতিক ১০ দিনের গড় দৈনিক ১৪টি জাহাজের চেয়েও কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ পথ দিয়ে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত।
রোববার হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজে হামলা এবং একই দিনে ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের প্রধান ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরপর আজ সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে।
বাজারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ৩.২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে উঠেছে। ডব্লিউটিআই ৩.১৭ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.২২ ডলারে পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করতে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও মূল বাস্তবতা হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেলের ঘাটতি মেটানোর মতো অতিরিক্ত মজুত ব্যবস্থা বর্তমানে নিঃশেষিত।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক আইজি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্পের মতে, মার্কিন দাবির বিপরীতে মূল সত্য হলো—হরমুজ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেই এবং তেল অবাধে পরিবাহিত হতে পারছে না। নৌযান চলাচলে চরম কড়াকড়ি এবং নতুন নতুন অবকাঠামোগত হামলা আন্তর্জাতিক বাজারকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্ব তেল বিভাগের প্রধান ক্রিস্টোফার হেইনস আল জাজিরাকে জানান, গত ছয় মাস ধরে যে বৈশ্বিক তেল মজুত বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রেখেছিল, তা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। তিনি বলেন, ‘মার্কিন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) খালি হয়ে গেছে। অন্যদিকে, শীতকালে উত্তরাঞ্চলে হিটিং অয়েলের চাহিদা বেশি থাকায় চীন তাদের জ্বালানি কেনা কমাতে পারবে না। ফলে চড়া দাম ছাড়া চাহিদা কমানোর আর কোনো উপায় নেই।’
লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান আবদুল খালিক তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন বিমা বা ওয়ার-রিস্ক প্রিমিয়ামের বৃদ্ধিকে। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যেখানে জাহাজ মূল্যের ০.২৫ শতাংশ বিমা মাশুল ছিল, তা এখন বেড়ে ৩ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, একটি ১০০ মিলিয়ন ডলারের তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য একক ট্রিপের যুদ্ধ বিমা প্রিমিয়ামই লাগছে ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার। এই অতিরিক্ত খরচ সরাসরি এসে পড়ছে তেলের মূল্যের ওপর।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও আপাতত থমকে আছে। ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে রুট সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা ইয়েমেন পরিস্থিতির অজুহাতে সৌদি আরব স্থগিত করেছে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের আশাও আপাতত ম্লান হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জাতিসংঘের নতুন বিশ্ব মানচিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আয়তন তুলনামূলকভাবে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার পর ভারত, জাপান ও ইউক্রেন মানচিত্রে নিজেদের বিতর্কিত ভূখণ্ডের উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের চাপে একই সঙ্গে বাব এল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নভেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীর পাশাপাশি গত শুক্রবার
৯ ঘণ্টা আগে
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিদের ইয়েমেনে দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি বিকল্প হাতে নেই সৌদি আরবের। যে পথই তারা বেছে নিক, প্রতিটির সঙ্গেই রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি ও ব্যয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্রিটিশ মুসলমানরা কতটা ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হতে পেরেছেন? এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এই জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান।
১ দিন আগে