Ajker Patrika

অস্ত্র ছেড়ে কেন অর্থনীতি দিয়ে ইরানকে শায়েস্তা করতে চান ট্রাম্প, সফল হবেন কি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অস্ত্র ছেড়ে কেন অর্থনীতি দিয়ে ইরানকে শায়েস্তা করতে চান ট্রাম্প, সফল হবেন কি
অস্ত্রের পরিবর্তে এখন ইরানকে অর্থের বলে শায়েস্তা করতে চাইছেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর ২৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত সপ্তাহে যে সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তার বদলে তিনি তেহরানের অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথেই বেশি ভরসা করতে চান।

যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও ইরানি বাহিনীর কারণে ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরও শক্ত হচ্ছে।

ইরান ও ওমান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘শুধু আংশিকভাবে আলোচনা করছে।’ অন্যদিকে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

তাহলে কয়েক মাসের ব্যাপক যুদ্ধের পর ট্রাম্প কেন এই সংঘাতে সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঝুঁকছেন?

কৌশল পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্প কী বলেছেন?

গত রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিচু মাত্রায় রাখছি।’ গত সপ্তাহে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান। তখন তিনি ‘প্রতারণাপূর্ণ’ ইরানকে চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য ‘শেষ একটি সুযোগ’ দিয়েছিলেন। তা না হলে দেশটির ওপর ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

এখন ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এর বদলে অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে আঘাত করতে চান। তাঁর দাবি, ইরান আর্থিকভাবে ‘খুব খারাপ অবস্থায়’ রয়েছে। তিনি দেশটির উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিজেদের সেনাদের বেতন দিতে ইরানের অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এপ্রিল থেকে চালু থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ এই অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শুধু দেখছি, ইরানে মূল্যস্ফীতি কতটা বেশি এবং তাদের কোনো টাকা নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর পড়া অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছে। সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৮ ডলারে ছিল। এর আগে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তেলের দাম একসময় ১০০ ডলারেরও বেশি উঠেছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। সবসময়ই ঠিক হয়ে যায়। এটা দাবার খেলার মতো।’

শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা খেলার মাঝামাঝি অবস্থায় আছি এবং আমরা কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকসহ নানা ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করছি, যাতে মার্কিন জনগণের জন্য সবচেয়ে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।’

মার্কিন নৌ অবরোধ ইরানের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে?

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে দেশটির তেল থেকে পাওয়া রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা।

ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল বলে অনুমান করা হয়। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ৫৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে। ট্রাম্প এই অবরোধকে একটি ‘ইস্পাতের অটুট দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অবরোধের কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে তেল রপ্তানির এই সীমাবদ্ধতা ইরানের আগে থেকেই বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে। এই সংকটের পেছনে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যা ও অব্যবস্থাপনা, যার সঙ্গে বহু বছরের কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও যুক্ত হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করে, তাতেও দেশটির অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে এটিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র কি অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটে পড়েছে

বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। গত মাসের শেষ দিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু গোলাবারুদও রয়েছে, যেগুলোর মজুত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। তবে শনিবার পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিটের মেরিটাইম বিভাগের উপপরিচালক জ্যারেড কনলি বলেন, ‘আমাদের হাতে বর্তমান কাজের জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আজ আমাদের যা কিছু প্রয়োজন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে তার সবই রয়েছে।’

এই যুদ্ধ নিয়ে কি দেশে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে

গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘বোকা বোকা যুদ্ধ’ এড়িয়ে চলবেন। কিন্তু বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট এবং তার রিপাবলিকান দল নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেন। নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে যুদ্ধ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলায় কোন রাজনৈতিক দলের পদ্ধতি ভালো, তা জানতে চাইলে ৩৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।

রয়টার্স/ইপসোস ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই প্রশ্ন করা শুরু করার পর এই প্রথম ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে গেল। ওই সময় রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিল ৩৯ শতাংশ, আর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিল ২৮ শতাংশ ভোটার।

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ কি কাজ করবে

কাতারে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের কৌশল আদৌ সফল হবে কি না। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো রয়েছে, সেসব দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরান যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

কামরাভা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইরান আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের ওপর, বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যাতে তারা পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ দিচ্ছে। ... ফলে কোনো পক্ষই প্রথম পদক্ষেপ নিতে এবং হাত বাড়িয়ে বলতে রাজি নয়—চলুন বসে আলোচনা করি।’ কামরাভা বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের মতো ইরানের নেতাদের একই ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘তেহরান ভয়াবহ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত দমনমূলক। যারা সিদ্ধান্ত নেন, তারা যে মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুর্দশার কথা সরাসরি ভাবেন, এমন নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

এ কারণে কামরাভা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, এই কৌশল এই মুহূর্তে কাজ করবে কি না।’

যুক্তরাষ্ট্র কি যুদ্ধের ঘোষিত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে

আসলে তেমন নয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য ও দাবির সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে। ওই দিনই তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখা। তবে তেহরান বলেছিল, তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল না। আরেকটি লক্ষ্য ছিল ইরানে সরকার পরিবর্তন ঘটানো। তবে ট্রাম্প পরে নীরবে এই দাবি থেকে সরে এসেছেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছিল। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাক ও সিরিয়ার অন্যান্য গোষ্ঠী রয়েছে।

যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর এর ব্যয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ওয়াশিংটনের ওপর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ তত বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানও নিজস্ব বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ বা অর্থ অবমুক্ত করা।

তবে ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যে একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষর করেছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু করা। কিন্তু মূলত প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে, তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সমঝোতাটি ভেস্তে যায়। সমঝোতা স্মারকে শেষ পর্যন্ত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের কথা উল্লেখ ছিল।

তবে এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা আঞ্চলিক সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ইরানে সরকার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ চাপিয়ে দেওয়ার আশা যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ছেড়ে দিয়েছে।

আল জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত