
কোনো ধরনের ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ‘কিছু বিষয়ে সমঝোতায়’ পৌঁছাতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এখনো বড় ২–৪টি বিষয়ে ব্যবধান রয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আলোচনায় এখনো কোনো ফলাফল না আসলেও এটি ‘একটুখানি আশার আলো দেখাচ্ছে।’
একই সঙ্গে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন—এই আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় মিত্রদের জন্য ‘জয়’ নিশ্চিত হোক। বিপরীতে, ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় এসেছে। এখন বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান আলোচনা থেকে খুব বেশি ইতিবাচক ফলাফল বের হয়ে আসবে, এই আশা নিয়ে যোগ দেয়নি, বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী আচরণের মুখোশ উন্মোচন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জ্যেষ্ঠ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা থমাস ওয়ারিক বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনা ‘একটুখানি আশার আলো’ দেখাচ্ছে। তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘স্পষ্টতই, এই আলোচনা খুব দ্রুত ভেঙে যেতে পারত। কিন্তু পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কারণে সবাই অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার দিকেই মনোযোগ ধরে রেখেছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ওয়ারিক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘জয়’ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। ওয়ারিক আরও বলেন, ‘তিনি চান এটি যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো এবং ইসরায়েলের জন্য একটি জয় হোক।’
ওয়ারিকের ভাষ্য, ‘যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন দেওয়া পরিত্যাগ করে, পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা মেনে নেয়, তাহলে ট্রাম্প “অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানকে আবার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকতে পারেন।’
লেবানন প্রসঙ্গে ওয়ারিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো চাপ প্রয়োগ করবে না। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করেন, ইরান ইস্যুতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর নেতৃত্ব অনুসরণ করবেন। তবে লেবাননের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি সরকারের অবস্থানকে অনেকটাই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে।’
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলোচনা হবে, তা লেবাননের মৌলিক সংকট সমাধানের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। সেই সংকট হলো—‘যুদ্ধের অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে, হিজবুল্লাহর মতো বেসরকারি মিলিশিয়ার হাতে নয়।’
এদিকে, ইসলামাবাদে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি অচলাবস্থার বড় একটি কারণ। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ঠিক কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। আর এই অনিশ্চয়তাই আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। গত ১০ দিনেই ট্রাম্প এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি অবস্থান নিয়েছেন। এক সময় তিনি বলেন, প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো গুরুত্ব বহন করে না, ওয়াশিংটনের এর মধ্য দিয়ে যাওয়া তেলের প্রয়োজন নেই এবং এটি রক্ষা করা বা ইরানের সঙ্গে বিরোধ মেটানো অন্য দেশগুলোর দায়িত্ব। আবার কয়েক দিন পর তিনি বলেন, এই প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কেন্দ্রবিন্দু, এবং এটি খোলা না থাকলে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
এই দুই অবস্থান একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ট্রাম্প আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। গতকাল শনিবার গভীর রাতে পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন জাহাজগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো বাধা ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে, তবে আপাতত এমনটাই জানা গেছে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখে এবং আলোচনা টেবিলে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় না করে তা ছাড়তে চায় না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায়, এই অচলাবস্থা পরবর্তী দফার আলোচনায় কীভাবে কাটবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের ইস্পাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসেন ফারখানি বলেন, ইরান এই আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতির আশায় নয়, বরং বিশ্বকে দেখাতে এসেছে যে ওয়াশিংটন আসলে আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, ‘ইরান অত্যন্ত বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও অবিশ্বাস নিয়ে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে... বিশ্বকে প্রমাণ করার জন্য যে, তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধানে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফারখানি। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন এই আলোচনা ব্যবহার করছে ‘নিজেদের পরাজয়ের ন্যারেটিভ বা আখ্যান ঠিক করতে এবং ‘আগের বড় ক্ষতিগুলো ঢাকতে।’ তিনি বলেন, ট্রাম্প এখন দাবি করছেন আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি উদাসীন, কারণ তিনি জানেন ইরান তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করবে না।
ফারখানি আরও বলেন, ‘তাই তিনি এমন একটি বর্ণনা শক্তিশালী করতে চেয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে থামাতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সক্ষম।’ তাঁর ভাষায়, ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো, কয়েক মাস আগেই ১২ দিনের যুদ্ধের পর তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো তিনি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন সেটিকেই নতুন করে আরেকটি অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।’

কোনো চূড়ান্ত নির্ধারক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদ আলোচনা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এরই মধ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। ফলে আপাতত এই আলোচনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে যুদ্ধ বন্ধই করতে চায়। এর বাইরে তাদের সামনে আসলে উপযুক্ত কোনো বিকল্প নেই।
২৭ মিনিট আগে
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার একটি রুদ্ধশ্বাস কূটনৈতিক ম্যারাথন এবং নিবিড় আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই সমাপ্ত হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ইসলামাবাদ বৈঠক। তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাভিলাষী’ দাবিকে দায়ী করা হলেও...
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। উদ্দেশ্য ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমানো নিয়ে আলোচনা। আলোচনায় জেডি ভ্যান্সের অংশগ্রহণ তেহরানের একটি দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করবে।
২১ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—এ নিয়ে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে মস্কোতে কাজ করা সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, কীভাবে ধারাবাহিক মিথ্যাচার...
১ দিন আগে