আজকের পত্রিকা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসুক। কিন্তু সমস্যা হলো, গ্রিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবেই ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত, আর বেশির ভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না।
তাই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে ভেনেজুয়েলা স্টাইলের দখলদারিত্ব কায়েম করার বিষয়টি কল্পনা করা গেলেও আপাতদৃষ্টিতে তা অবাস্তব। যদিও কারাকাসে সামরিক হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে একধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তবু বাস্তবে এমন একটি পথ আছে, যেটি ধরে এগোলে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের দিকে যেতে পারে। আর ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সেই পথে অনেকটা এগিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়দের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কৌশলটি অনেকটাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্প্রসারণবাদী ছক অনুসরণ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৯ জন কর্মকর্তা, ন্যাটোর একাধিক সূত্র, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের মতো খনিজসমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দখল করতে পারে—তা বিশ্লেষণ করতে।
ডেনমার্কের এক রাজনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটা পাঁচটা হেলিকপ্টার দিয়েই করা সম্ভব...খুব বেশি সেনার দরকার হবে না। গ্রিনল্যান্ডবাসীদের করার মতো কিছুই থাকবে না।’
ধাপ ১: গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদারে প্রভাব বিস্তার
ক্ষমতায় আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাম্প প্রশাসন ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা শুরু করে। স্বাধীন গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করতে পারবে, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় নুককে সবকিছুর জন্য কোপেনহেগেনের অনুমোদন নিতে হয়।
গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীন হতে হলে প্রথমে গণভোট হতে হবে। এরপর নুক ও কোপেনহেগেন—উভয়ের সম্মতিতে একটি চুক্তি করতে হবে। ২০২৫ সালের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবেন, আর ২৮ শতাংশ বিপক্ষে।
ড্যানিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে গোপন প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম চালিয়েছেন। এ বিষয়ে ডেনমার্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ‘বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তারমূলক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।’
ডিজিটাল নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স কার্টে বলেন, মলদোভা, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে রাশিয়া যেসব কৌশল ব্যবহার করেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের কৌশলই ব্যবহার করে। মাঠপর্যায়ে তারা উগ্রপন্থী দল, প্রবাসী নেটওয়ার্ক কিংবা রুশপন্থী ধনকুবেরদের সঙ্গে কাজ করে। এমনকি মানুষকে টাকা দিয়ে ইইউ বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ছদ্ম-মিডিয়ার বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে নির্দিষ্ট প্রার্থী বা মতাদর্শকে জোরালো করে তোলে। লক্ষ্য সাধারণত মানুষকে বোঝানো নয়, বরং কোনো অবস্থানকে বাস্তবের চেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মনে করানো—যাতে অনিবার্যতার অনুভূতি তৈরি হয়।’
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত কিছু ক্ষেত্রে এই কৌশল প্রয়োগ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সোমবার সিএনএনকে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ সামরিকভাবে যুদ্ধ করবে না।’ গত মাসে ট্রাম্প ‘গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত’ পদ সৃষ্টি করে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা।’
এদিকে, গত বছরের মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আশা করি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হতে চাইবে, কারণ পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান করব।’
ধাপ ২: গ্রিনল্যান্ডকে লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া
ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোট হলো এবং জনগণ ডেনমার্ক ছাড়ার পক্ষে রায় দিল। তখন পরবর্তী ধাপ হবে দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনা। সবচেয়ে সরাসরি উপায় হতে পারে, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত করা। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলে এই ধারণা একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সোমবার বাধ্য হয়ে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’
এর আগে স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে মার্কিন পতাকা ও ‘শিগগির’ লেখা ছিল। তবে ডেনমার্কের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার ধারণা গ্রিনল্যান্ডের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না। এমনকি স্বাধীনতাপন্থী, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ নেতারাও এতে আগ্রহী নন।
তবে বিকল্প পথ আছে। গত বছরের মে মাস থেকেই খবর ছড়ায়, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তিতে আনতে চায়। মাইক্রোনেশিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও পালাউয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেবা, নিরাপত্তা ও মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেয়, আর বিনিময়ে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে অবাধ সামরিক উপস্থিতি পায়। এই সপ্তাহে আবারও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী বিরোধী দলের এমপি কুনো ফেন্কার বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের বোঝানোর চেষ্টা করি—আমরা পুয়ের্তো রিকোর মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঞ্চল হতে চাই না। তবে ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা অন্য কোনো ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই গণভোটে সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের তুলনায় পরিস্থিতি ‘এর চেয়ে খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই।’ ট্রাম্পের ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’—মন্তব্য প্রসঙ্গে ফেন্কার বলেন, ‘ডেনমার্ক কখনো বলেনি যে, তাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। বরং তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ড তাদের জন্য ব্যয়বহুল। স্বাধীন হলে তারা আমাদের ছেড়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনেক বেশি ইতিবাচক।’
তবে রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক থমাস ক্রসবি সতর্ক করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড লাভবান হবে—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রাম্প একজন দর কষাকষিকারী হিসেবে পরিচিত, যিনি অন্যদের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেন। তাঁর অতীতে বহুবার চুক্তি ভাঙার নজির আছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য এতে কোনো বাস্তব লাভ নেই—শুধু সাময়িক আত্মতৃপ্তি ছাড়া।’
ধাপ ৩: ইউরোপকে রাজি করানো
ডেনমার্কের ইইউ মিত্ররা গ্রিনল্যান্ড আলাদা করার যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি বড় তাস আছে—ইউক্রেন। শান্তি আলোচনায় ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দরকার। কিন্তু ওয়াশিংটন বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে, আর কিয়েভও অতীত অভিজ্ঞতায় সন্দিহান।
এক ইইউ কূটনীতিক বলেন, সম্ভাব্য এক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর সমঝোতা হতে পারে। এটি তিক্ত হলেও, ট্রাম্পকে ক্ষেপানোয় যে পরিণতি হতে পারে—নিষেধাজ্ঞা, শান্তি আলোচনা ভেঙে দেওয়া বা পুতিনের পক্ষে ঝুঁকে পড়া—তার চেয়ে কম ক্ষতিকর হতে পারে।
ধাপ ৪: সামরিক আগ্রাসন
যদি গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্ক ‘না’ বলে, তাহলে কী হবে? ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের থমাস ক্রসবি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি হতে পারে ফেই অ্যাকমপ্লি (বা আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয় কী করা হবে। মাঝে সময়ক্ষেপণ করে কেবল বাড়তি সুবিধা নিয়ে উপযুক্ত সময়ে আঘাত হানাকেই ফেই অ্যাকমপ্লি বলা হয়) কৌশল—পুতিন যেভাবে ইউক্রেনে করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সহজেই সেনা নামিয়ে বলতে পারে—এখন থেকে এটা আমেরিকার।’
ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক লিন মর্টেনসগার্ড জানান, গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই পিটুফিক স্পেস বেসে ৫০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে। নুকে রয়েছে প্রায় ১০ জন কনস্যুলেট কর্মী। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে নিউইয়র্ক ন্যাশনাল গার্ডের ১০০ সেনা মোতায়েন থাকে।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। ডেনমার্কের আর্কটিক কমান্ডের সামরিক সক্ষমতা সীমিত—চারটি জাহাজ, কিছু হেলিকপ্টার ও একটি নজরদারি বিমান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আধা ঘণ্টার মধ্যেই নুকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে’ বলে মনে করেন মর্টেনসগার্ড।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য স্টিন বোসে বলেন, ‘ট্রাম্প যা বলেন, অনেক সময় সেটাই করেন। গ্রিনল্যান্ডের ৬০ হাজার মানুষের জন্য এটা ভয়ংকর চিন্তার বিষয়।’ ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্কটিক ইনস্টিটিউটের প্রধান রোমাঁ শুফার বলেন, এমন আগ্রাসনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ৬০ দিনের বেশি দখল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। তিনি বলেন, কিন্তু ‘এটি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে।’
সাবেক মার্কিন ইউরোপীয় বাহিনী কমান্ডার বেন হজেস বলেন, ‘এর ফলে মিত্রদের আস্থা ভেঙে পড়বে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান কমবে, ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হবে—যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
ন্যাটোর সর্বসম্মতির নিয়মের কারণে জোট সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে না। তবে যুক্তরাজ্য-স্ক্যান্ডিনেভিয়ান যৌথ বাহিনী বা নর্ডিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিকল্প কাঠামোর মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে পারে। তবে আপাতত ন্যাটো কূটনীতিকরা শান্ত। এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। আলোচনা কঠিন হতে পারে, কিন্তু জবরদখলের কাছাকাছি আমরা নেই।’
পলিটিকো থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসুক। কিন্তু সমস্যা হলো, গ্রিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবেই ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত, আর বেশির ভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না।
তাই গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে ভেনেজুয়েলা স্টাইলের দখলদারিত্ব কায়েম করার বিষয়টি কল্পনা করা গেলেও আপাতদৃষ্টিতে তা অবাস্তব। যদিও কারাকাসে সামরিক হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে একধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। তবু বাস্তবে এমন একটি পথ আছে, যেটি ধরে এগোলে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের দিকে যেতে পারে। আর ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সেই পথে অনেকটা এগিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়দের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কৌশলটি অনেকটাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্প্রসারণবাদী ছক অনুসরণ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৯ জন কর্মকর্তা, ন্যাটোর একাধিক সূত্র, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের মতো খনিজসমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দখল করতে পারে—তা বিশ্লেষণ করতে।
ডেনমার্কের এক রাজনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটা পাঁচটা হেলিকপ্টার দিয়েই করা সম্ভব...খুব বেশি সেনার দরকার হবে না। গ্রিনল্যান্ডবাসীদের করার মতো কিছুই থাকবে না।’
ধাপ ১: গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদারে প্রভাব বিস্তার
ক্ষমতায় আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাম্প প্রশাসন ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা শুরু করে। স্বাধীন গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করতে পারবে, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় নুককে সবকিছুর জন্য কোপেনহেগেনের অনুমোদন নিতে হয়।
গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীন হতে হলে প্রথমে গণভোট হতে হবে। এরপর নুক ও কোপেনহেগেন—উভয়ের সম্মতিতে একটি চুক্তি করতে হবে। ২০২৫ সালের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবেন, আর ২৮ শতাংশ বিপক্ষে।
ড্যানিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে গোপন প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম চালিয়েছেন। এ বিষয়ে ডেনমার্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ‘বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তারমূলক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।’
ডিজিটাল নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স কার্টে বলেন, মলদোভা, রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে রাশিয়া যেসব কৌশল ব্যবহার করেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের কৌশলই ব্যবহার করে। মাঠপর্যায়ে তারা উগ্রপন্থী দল, প্রবাসী নেটওয়ার্ক কিংবা রুশপন্থী ধনকুবেরদের সঙ্গে কাজ করে। এমনকি মানুষকে টাকা দিয়ে ইইউ বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ছদ্ম-মিডিয়ার বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে নির্দিষ্ট প্রার্থী বা মতাদর্শকে জোরালো করে তোলে। লক্ষ্য সাধারণত মানুষকে বোঝানো নয়, বরং কোনো অবস্থানকে বাস্তবের চেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মনে করানো—যাতে অনিবার্যতার অনুভূতি তৈরি হয়।’
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত কিছু ক্ষেত্রে এই কৌশল প্রয়োগ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সোমবার সিএনএনকে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ সামরিকভাবে যুদ্ধ করবে না।’ গত মাসে ট্রাম্প ‘গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত’ পদ সৃষ্টি করে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা।’
এদিকে, গত বছরের মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আশা করি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হতে চাইবে, কারণ পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান করব।’
ধাপ ২: গ্রিনল্যান্ডকে লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া
ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোট হলো এবং জনগণ ডেনমার্ক ছাড়ার পক্ষে রায় দিল। তখন পরবর্তী ধাপ হবে দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনা। সবচেয়ে সরাসরি উপায় হতে পারে, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত করা। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলে এই ধারণা একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সোমবার বাধ্য হয়ে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’
এর আগে স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে মার্কিন পতাকা ও ‘শিগগির’ লেখা ছিল। তবে ডেনমার্কের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার ধারণা গ্রিনল্যান্ডের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না। এমনকি স্বাধীনতাপন্থী, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ নেতারাও এতে আগ্রহী নন।
তবে বিকল্প পথ আছে। গত বছরের মে মাস থেকেই খবর ছড়ায়, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তিতে আনতে চায়। মাইক্রোনেশিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও পালাউয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সেবা, নিরাপত্তা ও মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দেয়, আর বিনিময়ে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে অবাধ সামরিক উপস্থিতি পায়। এই সপ্তাহে আবারও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী বিরোধী দলের এমপি কুনো ফেন্কার বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের বোঝানোর চেষ্টা করি—আমরা পুয়ের্তো রিকোর মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঞ্চল হতে চাই না। তবে ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা অন্য কোনো ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই গণভোটে সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের তুলনায় পরিস্থিতি ‘এর চেয়ে খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই।’ ট্রাম্পের ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’—মন্তব্য প্রসঙ্গে ফেন্কার বলেন, ‘ডেনমার্ক কখনো বলেনি যে, তাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। বরং তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ড তাদের জন্য ব্যয়বহুল। স্বাধীন হলে তারা আমাদের ছেড়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনেক বেশি ইতিবাচক।’
তবে রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক থমাস ক্রসবি সতর্ক করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড লাভবান হবে—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রাম্প একজন দর কষাকষিকারী হিসেবে পরিচিত, যিনি অন্যদের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেন। তাঁর অতীতে বহুবার চুক্তি ভাঙার নজির আছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য এতে কোনো বাস্তব লাভ নেই—শুধু সাময়িক আত্মতৃপ্তি ছাড়া।’
ধাপ ৩: ইউরোপকে রাজি করানো
ডেনমার্কের ইইউ মিত্ররা গ্রিনল্যান্ড আলাদা করার যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি বড় তাস আছে—ইউক্রেন। শান্তি আলোচনায় ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দরকার। কিন্তু ওয়াশিংটন বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে, আর কিয়েভও অতীত অভিজ্ঞতায় সন্দিহান।
এক ইইউ কূটনীতিক বলেন, সম্ভাব্য এক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর সমঝোতা হতে পারে। এটি তিক্ত হলেও, ট্রাম্পকে ক্ষেপানোয় যে পরিণতি হতে পারে—নিষেধাজ্ঞা, শান্তি আলোচনা ভেঙে দেওয়া বা পুতিনের পক্ষে ঝুঁকে পড়া—তার চেয়ে কম ক্ষতিকর হতে পারে।
ধাপ ৪: সামরিক আগ্রাসন
যদি গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্ক ‘না’ বলে, তাহলে কী হবে? ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের থমাস ক্রসবি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি হতে পারে ফেই অ্যাকমপ্লি (বা আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয় কী করা হবে। মাঝে সময়ক্ষেপণ করে কেবল বাড়তি সুবিধা নিয়ে উপযুক্ত সময়ে আঘাত হানাকেই ফেই অ্যাকমপ্লি বলা হয়) কৌশল—পুতিন যেভাবে ইউক্রেনে করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সহজেই সেনা নামিয়ে বলতে পারে—এখন থেকে এটা আমেরিকার।’
ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক লিন মর্টেনসগার্ড জানান, গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই পিটুফিক স্পেস বেসে ৫০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে। নুকে রয়েছে প্রায় ১০ জন কনস্যুলেট কর্মী। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে নিউইয়র্ক ন্যাশনাল গার্ডের ১০০ সেনা মোতায়েন থাকে।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। ডেনমার্কের আর্কটিক কমান্ডের সামরিক সক্ষমতা সীমিত—চারটি জাহাজ, কিছু হেলিকপ্টার ও একটি নজরদারি বিমান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আধা ঘণ্টার মধ্যেই নুকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে’ বলে মনে করেন মর্টেনসগার্ড।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য স্টিন বোসে বলেন, ‘ট্রাম্প যা বলেন, অনেক সময় সেটাই করেন। গ্রিনল্যান্ডের ৬০ হাজার মানুষের জন্য এটা ভয়ংকর চিন্তার বিষয়।’ ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্কটিক ইনস্টিটিউটের প্রধান রোমাঁ শুফার বলেন, এমন আগ্রাসনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ৬০ দিনের বেশি দখল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। তিনি বলেন, কিন্তু ‘এটি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে।’
সাবেক মার্কিন ইউরোপীয় বাহিনী কমান্ডার বেন হজেস বলেন, ‘এর ফলে মিত্রদের আস্থা ভেঙে পড়বে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান কমবে, ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হবে—যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
ন্যাটোর সর্বসম্মতির নিয়মের কারণে জোট সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে না। তবে যুক্তরাজ্য-স্ক্যান্ডিনেভিয়ান যৌথ বাহিনী বা নর্ডিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিকল্প কাঠামোর মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে পারে। তবে আপাতত ন্যাটো কূটনীতিকরা শান্ত। এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। আলোচনা কঠিন হতে পারে, কিন্তু জবরদখলের কাছাকাছি আমরা নেই।’
পলিটিকো থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ইরানে চলমান নতুন দফার বিক্ষোভ দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার মান দ্রুত কমে যাওয়া দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।
১ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের জর্জরিত অর্থনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি দাবি করেছেন, লিবিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমানের যে বিপুল অর্ডার আসছে, তা পাকিস্তানকে...
১১ ঘণ্টা আগে
কারাকাসে এই সপ্তাহজুড়ে যাওয়া নাটকীয় ঘটনাবলির পর থেকেই বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে একটি প্রশ্ন যেন বারবার ফিরে আসছে। সেটি হলো—এখন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষায় ভেনেজুয়েলার ‘অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই চশমাধারী নারীকে ঘিরে প্রশ্ন—দেলসি রদ্রিগুয়েজই কেন...
১৩ ঘণ্টা আগে
কিছুদিন আগে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারতের হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত দেয় বিসিসিআই।
১৪ ঘণ্টা আগে