Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলায় কী অর্জন করতে চায় ইরান, যুদ্ধ চলবে তেহরানের মর্জিমাফিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলায় কী অর্জন করতে চায় ইরান, যুদ্ধ চলবে তেহরানের মর্জিমাফিক
তেহরানে ইসরায়েলি হামলার পর একটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ছবি: তাসনিম নিউজ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সর্বশেষ এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসন শুরু করলেও—কবে এবং কীভাবে এর সমাপ্তি ঘটবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানই। আর, বিশ্লেষকেরা বলছেন—উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ইরান ‘ঠিক কী করতে চাইছে, তা সে পুরোপুরি জানে।’

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে একুশ শতকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের দিকে আব্বাস আরাগচি লেখেন, গত দুই দশক ধরে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাজয়গুলো ইরান গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে তেহরান।

তিনি আরও লেখেন, তেহরানে বোমাবর্ষণ ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স আমাদের সেই সক্ষমতা দিয়েছে—কখন এবং কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ হবে, তা আমরাই নির্ধারণ করব।’

ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলমান থাকাকালেই গত শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসন ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফার আলোচনা শেষ হয় উভয় পক্ষের ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ স্বীকারের মধ্য দিয়ে। তবে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠায় সেই কূটনৈতিক প্রয়াস এখন কার্যত আড়ালে পড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন। এরপর, ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ শুরু করে। এই অভিযানে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু ও অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এই অপারেশনের আওতায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবগুলো সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলার মাধ্যমে ইরান কী অর্জন করতে চায় সে বিষয়ে কথা বলেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ড। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ইরান ‘ঠিক কী করছে, তা সে পুরোপুরি জানে।’

তিনি বলেন, ‘ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছে, কারণ তাদের সে সহজ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। ইসরায়েলের তুলনায় তাদের ওপর আঘাত হানা সহজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশগুলোর যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ কম। কারণ, শেষ পর্যন্ত এটি তাদের যুদ্ধ নয়। তাই ইরান ধরে নিচ্ছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি চাইবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সে রকম কোনো লক্ষণ দেখিনি।’

পিনফোল্ড আরও যোগ করেন, অন্তত বক্তব্যের পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ‘শক্তি প্রদর্শন’ এবং ‘ঐক্যের বার্তা’ আসছে। তিনি বলেন, ‘তারা বোঝাতে চাইছে যে তারা এক এবং ঐক্যবদ্ধ, এবং তারা দৃঢ় অবস্থানে আছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হবে, কিংবা আদৌ সম্পৃক্ত হবে কি না—এই প্রশ্নে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।’

পিনফোল্ড বলেন, ‘কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে চাপ দেবে। কিন্তু ইরান জানে, তারা এক ধরনের সংকটে রয়েছে। কারণ, তারা যদি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে নিজেদের পক্ষ জুড়ে দেওয়ার মতো হিসেবে দেখা হতে পারে। ফলে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার যে পথটি মূল রাষ্ট্রগুলো এত দিন অনুসরণ করে এসেছে, সেটি এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এখন এই অবস্থায় ‘তাদের দেখাতে হবে যে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম এবং নিজেদের স্বার্থও তুলে ধরতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত