Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা ট্রাম্প: শেষ রক্ষা নাকি চূড়ান্ত বিপর্যয়—যা বলছেন বিশ্লেষকেরা

আব্দুর রহমান 
ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা ট্রাম্প: শেষ রক্ষা নাকি চূড়ান্ত বিপর্যয়—যা বলছেন বিশ্লেষকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই তাঁর অনিশ্চিত মেজাজ বা সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর এই আচরণের কারণে মিত্র ও শত্রু—সবাই অনিশ্চয়তায় থাকে। তাঁর নিজের ভাষায়, ১৩ মাস আগে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত কিংবা জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে রাতে ডেল্টা ফোর্সের কমান্ডো পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর বিছানা থেকে ছিনিয়ে আনার ঘটনাটি এমন সামরিক অভিযান পরিচালনা করার সাহসিকতাই দেখায়, যা তাঁর পূর্বসূরিদের শিউরে তুলত।

ট্রাম্প বলেন, বিশ্বরাজনীতিতে সর্বশক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি কেবল তাঁর ‘নিজের নীতিবোধ’ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাঁকে বেশ কোণঠাসা মনে হচ্ছে। যে যুদ্ধ থেকে তিনি বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না, তা ধীরে ধীরে তাঁর প্রেসিডেন্সিকে গ্রাস করে ফেলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্রুত সমাপ্তি ও দেশটির সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করেন, তখন নিজের ক্ষমতার যে সীমানাগুলো তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, এখন তা অনুধাবন করতে পারছেন।

পাঁচ মাস পর, সেই লক্ষ্যগুলোর প্রায় পুরোটাই অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, চরম শক্তি প্রয়োগ করে তিনি ইরানেও তাঁর সেই গর্বের ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ বাস্তবায়ন করতে পারবেন। অর্থাৎ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে এমন এক সরকার আনা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু এখন তিনি তেহরানে আবারও বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে নামতে দ্বিধাবোধ করছেন। কারণ, তাঁর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সেই কৌশল এবার সেখানে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তিনি তেলের বিশ্ববাজারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি কিংবা শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে যে জাহাজ চলাচল একসময় স্থবির হয়ে পড়েছিল, তা কয়েক সপ্তাহের জন্য খোলার পর আবার ধীরগতিতে নেমে এসেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী দ্বিতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথও—বাব এল–মান্দেব—এখন হুমকির মুখে। যদিও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র খাগ দ্বীপ দখল করবেন কিংবা তাদের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কবজা করবেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে স্থলসেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা বা পরিবেশ নেই।

প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এসব সীমাবদ্ধতা তাঁকে চরম হতাশ করে তুলেছে এবং স্বভাবসুলভ আচরণের তুলনায় তিনি আরও বেশি খামখেয়ালি হয়ে উঠেছেন। কেবল গত সপ্তাহেই, তাঁর জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবকে অসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রদানে সৌদিদের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট সেই চুক্তি একপ্রকার বাতিল করে দেন। ১৮ মাস ধরে আলোচনার পর তৈরি হওয়া এই চুক্তি বাতিল করতে গিয়ে ট্রাম্প সৌদিকে স্তম্ভিত করে জানান—সৌদি আরব যদি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ না দেয় এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে এই চুক্তি মৃত।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক অ্যালেক্স ডেভিড মিলার বলেন, ট্রাম্পের এই আচরণে ‘সৌদিরা আবারও ক্ষুব্ধ হলো, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আনন্দিত হলেন এবং ট্রাম্প ইরানকে শক্তিশালী একটি যুক্তি তৈরি করে দিলেন যে কেন আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করা এক প্রকার বোকামি, যা শেষমেশ বিশ্বাসঘাতকতায় রূপ নেয়।’

এর পরদিনই তিনি ঘোষণা করেন, কানাডা সীমান্তের উভয় পাশের হকি তারকা গোরডি হাউয়ের নামে নামাঙ্কিত ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ‘গোরডি হাউ ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ’ সম্পর্কিত ‘মূল চুক্তিটি’ বাতিল। তিনি কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা দেখে স্পষ্টতই মনে হয়েছে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে করা ‘ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি’র এক চরম লঙ্ঘন, যা তিনি এখন পুরোপুরি বাতিল করতে চান।

প্রত্যাশিতভাবেই, এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার অনুষ্ঠান থেকে আমেরিকানদের বাদ দিয়েছে কানাডা। সোমবার থেকেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

হতাশা বা ক্ষোভ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি নতুন করে লেখার এই প্রবণতা এখন তাঁর নিজ দলের অভ্যন্তরীণ নীতিগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে। ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকানরা আবাসন সম্পর্কিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য চেয়ার গুছিয়ে রেখেছিলেন—যা ছিল হোয়াইট হাউস কর্তৃক উদযাপিত একটি বিরল দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সবাইকে স্তম্ভিত করে দেন। তিনি জানান, তাঁর একমাত্র অগ্রাধিকার হলো ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বা ভোটাধিকার আইন পরিবর্তন করার চেষ্টা, যে বিলে আবার পর্যাপ্ত রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল না। ফলে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই বিলটি আইনে পরিণত হয়—যার কারণে নতুন গৃহ ক্রেতাদের খরচ কমানোর পদক্ষেপের এই ক্রেডিট বা ছবি তোলার সুযোগ থেকে তাঁর নিজের দল বঞ্চিত হয়।

প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সব হতাশা কেবল যুদ্ধ কেন্দ্রিক নয়, তবে এই যুদ্ধ অন্যতম কারণ। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ইপসোসের জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন, যা এই যুদ্ধের চরম অজনপ্রিয়তাই নির্দেশ করে। তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অথচ দেশের মাটিতে তাঁর মিত্ররাই এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রজেন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন গত সপ্তাহে ট্রাম্পের চরম ভক্তদের মনের কথাটিই প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এটি এখন শেষ করা দরকার।’ কিন্তু প্রেসিডেন্টের কাছে এই লক্ষ্য অর্জনের কোনো স্পষ্ট পথ নেই। জয়ের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর, ট্রাম্প এখন নিজের সম্মান বাঁচিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছেন।

মাত্র এক মাস আগে, তিনি ভেবেছিলেন জয়ের ঘোষণা দেওয়ার পথ তিনি পেয়ে গেছেন। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ভার্সাই প্রাসাদে (১৯১৯ সালে যেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল) ঘটা করে দ্রুত প্রস্তুতকৃত ১৪-দফার এক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

ওই সময়ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ইরানের আরও ‘যৌক্তিক’ একদল নতুন নেতা বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছেন এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই তাঁদের পরিচালিত করছে। গত ১৪ জুন ট্রাম্প বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ওদের আর নেওয়ার ক্ষমতা নেই।’ তিনি যুক্তি দেন, একটি ভয়াবহ আক্রমণের হুমকি দেওয়ার কারণেই তিনি চুক্তিটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা ইরানকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত আক্রমণের দিকে যাচ্ছিলাম, আর ওরা বলল—দয়া করে এমনটা করবেন না, আমরা চুক্তি করব। আর তার পরপরই আমরা চুক্তিটি করি।’

তবে সেই চুক্তি টিকল মাত্র দুই সপ্তাহ।

চুক্তিটি করা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আইআরজিসির বাহিনীগুলো যেসব জাহাজ প্রণালী দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত অংশ ব্যবহার করতে চায়নি, সেগুলোর ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি নেতারা বিদেশে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলার ফেরত পেতে এবং জ্বালানি তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে চেয়েছেন। অন্যদিকে ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের মূল লক্ষ্য ছিল যেন তাদের নিজস্ব শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ জাহির করা যায়।

এখন ট্রাম্পের সামনে তিনটি প্রধান পথ খোলা রয়েছে—সামরিক আক্রমণ জোরদার করা, কড়া অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া কিংবা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বেরিয়ে আসা। সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, নিজের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি এই প্রতিটি বিকল্প নিয়েই আলোচনা করেছেন।

তবে বিভিন্ন কারণে এই প্রতিটি বিকল্পই বেশ অপ্রীতিকর ঠেকছে।

ইরানে আবার পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও গত শুক্রবার ট্রাম্প পিছু হটেন। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়ে সেখানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করলেও শেষ পর্যন্ত ইরান কার্যকর কোনো আলোচনায় ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আর এর মাশুলও দিতে হতে পারে অনেক চড়া। ট্রাম্পকে জানানো হয় যে, এত বড় মাত্রার হামলায় বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে যাবে এবং যে সাধারণ ইরানিদের তিনি একসময় তাঁদের নিজস্ব সরকারের হাত থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁরাই তীব্র দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বেন। শুক্রবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে যখন প্রশ্ন করা হয়—বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো উড়িয়ে দিলে তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে বলেই কি তিনি পিছিয়ে যাচ্ছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেব না।’

কিন্তু তাঁর এই দ্বিধার আসল কারণ হতে পারে যে, দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের (প্রতিরোধক) মজুত একদম ফুরিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অনুমান করেছিল, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক মার্কিন মজুত ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই মাসে পরপর ১৩ রাত ধরে চলা আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের পর এই মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প যে যুদ্ধ আরও না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটিও তাঁর অন্যতম একটি বড় কারণ ছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা এখন দুশ্চিন্তায় আছেন, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্রের এই ঘাটতি হিসাব-নিকাশ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন ও ইউরোপের বিষয়ে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তাইওয়ানের বিরুদ্ধে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিকল্প হলো কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখা। তাঁর আশা, হরমুজ প্রণালীতে সব ধরণের জাহাজ চলাচলের ওপর আবার কড়াকড়ি আরোপ করে তেল রপ্তানি বন্ধ করতে পারলে তা কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে। কিন্তু এ ধরনের প্রক্রিয়ার ফল আসতে দেরি হয়। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তি থেকে আমেরিকা বের করে নেওয়ার পর থেকেই ইরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং দেশটির অর্থনৈতিক পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছেন। আট বছর পার হয়ে গেলেও সেই শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে রয়েছে, আর এবার এসেছে এক নতুন নেতৃত্ব যারা হয়তো গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ।

এই কৌশলটি হয়তো ভবিষ্যতে কাজ করলেও করতে পারে। তবে এর জন্য দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাহিনীকে বিপুল অর্থ খরচ করে সেখানে অবস্থান করতে হবে। তাছাড়া মাঝেমাঝেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ফলে আমেরিকানদের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকবে এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর হামলার আশঙ্কাও বেড়ে যাবে।

আর ট্রাম্পের তৃতীয় পথ হলো—নিজের জয় ঘোষণা করে সেখান থেকে কেটে পড়া। প্রায় এক মাস আগে ট্রাম্প হয়তো সে পথেই হাঁটছিলেন, যখন তিনি বলেন যে তিনি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন কারণ ১৯৩০-এর দশকের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হুভারের সঙ্গে নিজের তুলনা হোক, কিংবা কোনো মহামন্দার ঝুঁকি তৈরি হোক—তা তিনি একেবারেই চাননি।

আমেরিকার ৩১ তম প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘তিনি এমন একজন ছিলেন, যার মতো আমি কখনই হতে চাইনি।’ ওই প্রেসিডেন্টের আমলেই শেয়ার বাজারে ধস নেমে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ বা মহামন্দার সূচনা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’ পরে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ চললে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো।

তবে এভাবে হাত গুটিয়ে সরে আসারও পরিণতি রয়েছে। ইরান যদি ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি ধরে রাখতে পারে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর প্রকৃতপক্ষে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, তবে যে সমস্যা সমাধানের জন্য ট্রাম্প এই আক্রমণ চালিয়েছিলেন, তা তো সমাধান হবেই না, বরং তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবেন।

আর এই সিদ্ধান্তই ট্রাম্পের ঐতিহাসিক পরিচয় তৈরি করে দেবে। এতে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, গত জানুয়ারি মাসে নিজের ক্ষমতাকে যেমন অসীম মনে করেছিলেন তিনি, বাস্তবে তাঁর সেই ক্ষমতার পরিধি অতটা বিস্তৃত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান প্রশ্নে এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে প্রতিবারই তাঁর সামনে থাকা বিকল্পগুলো আরও সীমিত হয়ে পড়ছে এবং যে পথই তিনি বেছে নিন না কেন, তার মূল্য আরও বেশি হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প প্রশাসন রোববার ব্যাখ্যা করেছে, টানা ১৩ রাতের বিমান হামলার পর এখন তৃতীয় রাতের মতো হামলায় বিরতি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কূটনীতির জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করা। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছে, প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা ওমানের সঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র তাদের সেই মূল দাবিতে অবস্থান বদলাবে, যে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে। সেটি হলো, হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি।

ট্রাম্প আবারও পরিচিত অবস্থানে ফিরে এসেছেন। তিনি ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে হামলা জোরদার করেছিলেন। কিন্তু প্রথম দফার সংঘাতের পর যেমন এই কৌশল কার্যকর হয়নি, এখনও তেমনই ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি চাইলে স্থলবাহিনী মোতায়েন করে চাপ আরও বাড়াতে পারেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু এতে এমন এক যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গভীরভাবে অজনপ্রিয়।

প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ, যেটিকে ট্রাম্প একসময় কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছিলেন, এখন তাঁকে বারবার তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কৌশলগত জায়গা তৈরির চেষ্টা করতে বাধ্য করছে। কিন্তু তাঁর সব কৌশল যেন শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও কম বিকল্প এবং আরও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোলের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধবিরোধী অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল রোববার ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প তেল পরিবহন পথও এখন ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের মজুতও বিপজ্জনকভাবে কমে আসছে, যা আরও গভীর জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব ঘটছে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, যেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের জন্য আগেই কঠিন লড়াইয়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহের মতো এবারও ট্রাম্পের সামনে থাকা বিকল্পগুলো খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্ভবত এ কারণেই গত সপ্তাহে তাঁকে একদিকে প্রবল সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিতে, আবার অন্যদিকে ইরান আলোচনার জন্য আকুল হয়ে আছে বলে দাবি করতে দেখা গেছে। যুদ্ধের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই ধরনের বক্তব্য যেন তেহরানের চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শ্রোতাদের উদ্দেশ্যেই দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের আরও বিস্তৃত এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার পর ট্রাম্প চাইলে গত সপ্তাহের কঠোর বক্তব্য বাস্তবায়ন করতে পারেন। তিনি পরিবহন অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে আরও শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এতে সাধারণ ইরানি নাগরিকদের ওপর আরও ভয়াবহ দুর্ভোগ নেমে আসবে, যাদের প্রতি যুদ্ধের শুরুতে সহানুভূতি দেখাতে ট্রাম্প আগ্রহী ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহরের অনেকেরও বিশ্বাস, এতে তেহরানের দমনমূলক শাসকদের অবস্থান বদলাবে না।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন যুদ্ধ আরও বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গোলাবারুদের মজুতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ড্যান কেইন উদ্বিগ্ন ছিলেন। সিআইএ এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি মূল্যায়ন করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ যে ধরনের বোমাবর্ষণ করেছে, তা ইরানের আলোচনার অবস্থান বদলাতে পারবে না। এই মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরেকটি পরিকল্পনা হতে পারে, ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত করা, যাতে ইরান সরকারের অর্থায়ন এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এর অসুবিধা হলো, এতে ফল পেতে সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, এবং তারপরও তেহরানের অবস্থান পরিবর্তন নাও হতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ধৈর্য বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে এই দীর্ঘ পথ অনুসরণের সুযোগ দেবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। তাছাড়া ইরান সম্ভবত আবারও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা শুরু করবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের অভিঘাত আরও বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপও বৃদ্ধি করবে।

তৃতীয় একটি বিকল্প হতে পারে, অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা ভেঙে পড়া সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা। কিন্তু তেহরান সম্ভবত তাতে সম্মত হবে না, যদি না তারা শুরু থেকেই সমঝোতা স্মারকে যা পাওয়ার কথা ভেবেছিল, অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও তা থেকে অর্থ আদায়ের অধিকার, সেটি নিশ্চিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি পরাজয় হিসেবে দেখা হবে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্তই ছিল। অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের চেয়েও ইরানকে বেশি সুবিধা দেন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিলের প্রতিশ্রুতি ছিল, তাহলে পররাষ্ট্রনীতির কট্টরপন্থীদের তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখেও পড়তে হবে তাঁকে।

সবাই যেন এখন এমন এক নতুন পথের সন্ধান করছে, যা এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

উদাহরণ হিসেবে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি রোববার বলেন, ট্রাম্পের উচিত একটি ‘জাতীয় সংলাপ’ শুরু করা, যেখানে প্রেসিডেন্ট আমেরিকান জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন, কংগ্রেসের কাছে যাবেন, আর কংগ্রেস কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এগিয়ে যাওয়ার জন্য কি অন্য কোনো পথ আছে?’ তিনি বলেন, তিনি এমন একটি সমাধান চান, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছুর পেছনে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় করতে না হয়, যা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফল দেয়নি। ক্যাসিডির ভাষায়, ‘আমাদের ভিন্ন কিছু দরকার।’

কিন্তু ট্রাম্পের সংকটের গভীরতা এখানেই যে, পাঁচ মাসের যুদ্ধের পরও কেউ এমন কোনো কার্যকর প্রস্তাব দিতে পারেনি, যা সত্যিই ‘ভিন্ন কিছু’ হতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো—ট্রাম্প কি এই জয়হীন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাবেন?

টক শোগুলোতে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনের পরিবর্তিত কৌশল ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব হোয়াইট হাউস মার্কিন জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজকে দেয়। ওয়াল্টজ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি তুলে ধরেন, যা অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি করেছিল যে ট্রাম্প যুদ্ধ আরও তীব্র করতে পারেন।

তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ইরানি শাসকদের প্রেসিডেন্টের কথায় বিশ্বাস করা উচিত, যখন তিনি বলেন, ‘ (আমরা) সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সব ধরনের বিকল্প টেবিলে রয়েছে।’ এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ দাবি করেন, ‘ইরান কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন, অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সামরিকভাবে বিধ্বস্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আগে কখনও এত দুর্বল ছিল না, আর আমরা শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা করছি।’

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সত্য হতে পারে। কিন্তু এই সংঘাতের অসম (asymmetric) চরিত্রের কারণে, যতক্ষণ ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজকে হুমকি দিতে সক্ষম থাকবে, ততক্ষণ তারা যুদ্ধের বৈশ্বিক ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও ধরে রাখবে। আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও দেশটির শাসনব্যবস্থা টিকে থাকায়, বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে তাদের এক ধরনের শক্তির প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরানের যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক বোঝাও হয়ে উঠেছে। সিবিএস–ইউগভের নতুন জরিপে দেখা গেছে, এই সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্টের অসংলগ্ন বার্তার প্রতিফলন হিসেবে মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। মাত্র ৪০ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। আর ৭৬ শতাংশের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবু ওয়াল্টজ জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ইতিহাসে স্বীকৃতি পাবে। তিনি বলেন, ‘কখনও কখনও বিষয়টি...শুরুতে যতটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।’

কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প এমনভাবে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সেই ধরনের মধ্যপ্রাচ্যের স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে, যেগুলোর সমালোচনা তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ওপর যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, তার মধ্যে থেকে এই যুদ্ধ হয়তো জেতা সম্ভব নয়। উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়ানোও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে একই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মুখে ফিরিয়ে আনতে পারে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, এমন কোনো শান্তিচুক্তিরও স্পষ্ট পথ এখনো চোখে পড়ছে না।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতিটি যেন একেবারেই এমন এক যুদ্ধের সংজ্ঞা, যেখানে জয়ের কোনো পথ নেই।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন ও এনবিসি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত