
রাশিয়া ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে বলে জানা গেছে। তেহরানকে কেবল আরেকটি অস্ত্র সরবরাহ করার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেওয়া হচ্ছে। আর সেটা হলো—নিজ দেশে এই ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত রেকর্ড এবং সামরিক পেটেন্টের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ‘সি ৪৩০ এল’ সাংকেতিক নামে পরিচিত এই গোপন কর্মসূচি ২০২৩ সালে শুরু হয় এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়ও তা অব্যাহত রয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে র্যামজেট প্রপালশন বা র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে উড়ে সুপারসনিক গতি বজায় রাখতে পারে। ইরান এরই মধ্যে র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রুশ সহায়তায় তৈরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র এরই মধ্যে সরাসরি সামরিকভাবে কার্যকর ব্যবহারে প্রবেশ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনো।
রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের এই র্যামজেটের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, এয়ার ইনটেক বা বায়ুপ্রবেশপথ এবং ইঞ্জিনের নজেলসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের ইরানি সমকক্ষদের পরামর্শ দিয়েছেন। এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের কাছে একটি সম্পূর্ণ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রি করার বদলে মস্কো সম্ভবত ইরানি প্রকৌশলীদের সেই প্রযুক্তিগত বাধাগুলো অতিক্রম করতে সহায়তা করছে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে তাদের নিজস্ব কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
এই সহায়তা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন পরিবার নিজস্বভাবে উৎপাদন ও আরও উন্নত করার সক্ষমতা দিতে পারে।
ইরানের কাছে এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্থলভিত্তিক হামলার জন্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রমেই উন্নত হয়ে ওঠা অ্যান্টি-শিপ বা জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়ন করানো একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে দেশটির জন্য। তেহরান বহু বছর ধরে এই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ২০১৬ সালে ইরানি কর্মকর্তারা সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৮ সালে ইউক্রেনে দুই ইরানি কূটনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত নকশায় তৈরি কেএইচ–৩১এ অ্যান্টি-শিপ বা জাহাজা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান ও নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল।
সমুদ্রে এই সক্ষমতার সামরিক মূল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ফারজিন নাদিমি লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবি আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবকে বলেন, ‘সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের নৌ অস্ত্রভান্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে।’
উচ্চতর গতিপথ থেকে নিচে নেমে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে, র্যামজেটচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কম উচ্চতায় উড়ে কোনো জাহাজের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং একই সময়ে ম্যাক ২ বা ম্যাক ৩ গতি বা শব্দের গতির চেয়ে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি গতি বজায় রাখতে পারে। এতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিহত করার জন্য প্রতিপক্ষের হাতে থাকা সময় কমে যায়।
বর্তমান সংঘাতে ইরানের অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন পর্যন্ত কৌশল পরিবর্তন করে চলা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি বা ডেস্ট্রয়ারে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে নাদিমির মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে উড়ে আসা একটি সুপারসনিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্ররোধী এজিস (Aegis) প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত জাহাজগুলোকে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম সময় দেবে। তিনি বলেন, ‘এটাই সেই হুমকি, যা এখন অবরোধ ধরে রাখা গালফ অব ওমান/আরব সাগরের পিকেটের জন্য তৈরি হচ্ছে।’
ভবিষ্যতে যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ আরও আধুনিক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে হুমকিটি আরও সমুদ্রের গভীরে বিস্তৃত হতে পারে। ইরান বহু বছর ধরে রুশ যুদ্ধবিমান পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে তারা এমন একটি বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে, যা এখনো মূলত ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে সংগ্রহ করা বিমানগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
ফাঁস হওয়া রুশ নথিতে দেখা যায়, ইরানের জন্য সামরিক বিমান সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি ২০২১ সালের জুনেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পরও সেটির বাস্তবায়ন চলতে থাকে। এর প্রথম দৃশ্যমান ফল ছিল ২০২৩ সালে ইরানে ইয়াক–১৩০ উন্নত জেট প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ। অন্তত আটটি বিমান দেশটিতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এগুলো তেহরানকে আধুনিক প্ল্যাটফর্মে উন্নত পাইলট প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছে এবং আরও সক্ষম রুশ যুদ্ধবিমান পরিচালনার দিকে যাওয়ার সম্ভাব্য সেতু তৈরি করেছে।
ইরানকে চতুর্থ প্রজন্মের সুখোই সু–৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়া হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জুলাইয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের জন্য নির্ধারিত প্রথম ২০টি যুদ্ধবিমান রাশিয়া তৈরি সম্পন্ন করেছে। ফাঁস হওয়া নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, শেষ পর্যন্ত এই বহর আরও বড় হতে পারে। তবে বিমানগুলোর সরবরাহ এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীতে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়েছে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
নাদিমির মতে, এমন একটি বিমানের সঙ্গে সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থান ইরানের মাকরান উপকূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং আরব সাগরের আরও গভীরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য ঝুঁকি বাড়বে। তবে আপাতত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়ন পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, রুশ সহায়তা ‘সম্ভবত এখনো অপারেশনাল লেভেল বা (operational level) কার্যকর সামরিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’
সি ৪৩০ এল কর্মসূচি একই সঙ্গে দেখিয়ে দিচ্ছে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক কতটা বদলে গেছে। শুরুতে ইরানই ছিল সরবরাহকারী। ২০২২ সাল থেকে তেহরান রাশিয়াকে শাহেদ–১৩১ এবং শাহেদ–১৩৬ একমুখী অ্যাটাক বা হামলাকারী ড্রোন সরবরাহ করে এবং পরে রাশিয়াকে নিজ দেশে এসব ড্রোন উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। এর পাশাপাশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করা হয়।
এরপর রাশিয়া ইরানি প্রযুক্তিকে নিজেদের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নেয়। রাশিয়ায় উৎপাদিত গেরানের বিভিন্ন সংস্করণে নেভিগেশন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ওয়ারহেডে পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে মস্কো বিপুল সংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ও ডিকয় বা প্রতারণামূলক লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার করে ক্রমেই আরও উন্নত কৌশল তৈরি করে। সেই শিল্পভিত্তিক অবকাঠামো এখনো সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের স্যাটেলাইট চিত্রে তাতারস্তানের আলাবুগা উৎপাদন কমপ্লেক্সে অন্তত ১০টি নতুন স্থাপনা নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব পরিবর্তনের কিছু পরে ইরানি ড্রোনেও দেখা যায়। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে তেহরানের কাছেও ফিরে যেতে শুরু করেছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা হলো ইরান ও মস্কোর সামরিক সহযোগিতা একমুখী কোনো পথ নয়।’
বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া ইরানকে আগের শাহেদ সংস্করণগুলোর জন্য তৈরি করা উন্নয়ন এবং ইউক্রেনে সেগুলোর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য সরবরাহ করেছে। রুশ সামরিক গোয়েন্দা সহযোগিতাও ইরানের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অবদান রেখেছে, বিশেষ করে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে হামলার নির্ভুলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এই বিনিময়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। রাশিয়া শুধু ইরানি প্রযুক্তিকে পরিবর্তিত রূপে ফিরিয়ে দিচ্ছে না, বরং উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত বিশেষজ্ঞ জ্ঞানও সরবরাহ করছে।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যারোডায়নামিক্স, ব্যালিস্টিকস এবং সুপারসনিক র্যামজেট প্রপালশনে কাজ করা জ্যেষ্ঠ রুশ প্রকৌশলীরাও ছিলেন। এর প্রভাব সি৪৩০ এল-এর বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ইরান যদি এই প্রপালশন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে মস্কোর কাছ থেকে সম্পূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন ছাড়াই ভবিষ্যতের ক্ষেপণাস্ত্র নকশাগুলোতে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে পারবে।
এই অর্থে, কর্মসূচিটি এমন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সহযোগিতা আর শুধু পৃথক অস্ত্রব্যবস্থা কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং এমন সহযোগিতা গড়ে উঠছে, যা ইরানের নিজস্বভাবে অস্ত্র নকশা, পরিবর্তন ও উৎপাদনের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারে।
এর অর্থ এই নয় যে রাশিয়া ও ইরান আনুষ্ঠানিক সামরিক মিত্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত তাদের ২০ বছরের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি (Comprehensive Strategic Partnership Treaty) প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। তবে এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মস্কো মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে তেহরানের প্রতি সমর্থনের মাত্রা নির্ধারণ করে চলেছে। আজিজি ইরান-রাশিয়া সম্পর্ককে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার অংশীদারত্ব থেকেও আলাদা করে দেখেছেন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা মস্কোর যুদ্ধে সরাসরি জনবল সহায়তা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর তুলনায় ইরান-রাশিয়া সহযোগিতা এখনো ‘সরাসরি সহায়তার বদলে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের’ ওপর কেন্দ্রীভূত।
সু-৩৫ কর্মসূচির ধীর অগ্রগতিও এই সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করে। তেহরান বহু বছর ধরে যুদ্ধবিমানগুলো চেয়ে আসছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে উৎপাদন এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও, ইরানের সামরিক বাহিনীতে এগুলোর দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেখায় যে সামরিক সহযোগিতার কিছু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাস্তবে রূপ নিতে কতটা ধীরগতি হতে পারে। আজিজি বলেন, ‘তাই সবকিছু মিলিয়ে এটি ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় একটি গুণগত উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এটিও দেখায় যে অন্তত এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে বা একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে চায় না।’
সি ৪৩০ এল ঠিক এই মডেলের মধ্যেই পড়ে—কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, পর্যবেক্ষণ করা কঠিন এবং রুশ বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপে না নামিয়েও ইরানের সক্ষমতা শক্তিশালী করার মতো একটি কর্মসূচি।
ইরানের যুদ্ধকালীন সহযোগিতা রাশিয়ার বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে সি৪৩০ এল-এর পাশাপাশি আরও কিছু প্রযুক্তি ও অস্ত্র হস্তান্তরের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁধে বহনযোগ্য রুশ ভারবা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি হাই-রেজল্যুশন চীনা স্যাটেলাইট ব্যবস্থা। এটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে।
পরে ওয়াশিংটন চীনা স্যাটেলাইট সংস্থা আর্থ আইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ওই স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ইরানের মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলায় সহায়তা করেছে। সবকিছু মিলিয়ে এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে উন্মোচিত নির্দিষ্ট দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় তেহরান বিভিন্ন সম্পর্ককে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও ড্রোন উন্নয়নের ক্ষেত্রে রুশ অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নজরদারি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে চীনা সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে—একটি উদীয়মান ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়া ও চীনের স্বার্থ ভিন্ন, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভিন্ন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রেও তাদের সীমা আলাদা। তবে এসব ঘটনা দেখায়, ইরান ক্রমেই বিভিন্ন অংশীদারত্ব থেকে এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে, যা তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাত এখনো একা সরবরাহ করতে পারে না।
তবে তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিক জোটের চেয়ে সক্ষমতায় প্রবেশাধিকার বা অ্যাকসেসই সম্ভবত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সি ৪৩০ এল-এর তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হলো এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভবিষ্যতে ইরানের আশপাশে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর পেছনের মডেলে। বহু বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এখন মস্কো ক্রমেই যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত জ্ঞান ইরানের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই বিনিময় অব্যাহত থাকলে, ইরানের কাছে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্র হস্তান্তর এমনভাবেও ঘটতে পারে, যেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে কখনো সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি পাঠাতেই হবে না।
নিউ আরব থেকে অনূদিত

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক আইনি ও প্রশাসনিক সংকটের জন্ম দিয়েছে ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের শীর্ষ সামরিক ও কৌশলগত উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে গোপন অপপ্রচার চালানো, গণমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং স্পর্শকাতর সামরিক
২০ ঘণ্টা আগে
জুলাইয়ের শেষ দিকে রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলা চালায়। ক্রেমলিন ওদেসা বন্দরে থাকা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য করিডরের রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ইউক্রেন সরকারও এর জবাবে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ শুধু বাধাগ্রস্তই হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারও। ফলে শোধনক্ষমতার সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পাম্পের ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে।
১ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে সিলিকন ভ্যালির মূলমন্ত্র ছিল—দ্রুত এগিয়ে যাও, প্রয়োজনে ঝুঁকি নাও। কিন্তু মাত্র ১০ দিনের ধারাবাহিক কিছু ঘটনায় সেই ধারণাই বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
৩ দিন আগে