
পণ্য নয়, মানুষ রপ্তানি—এই ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, শিল্পপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ধনী হওয়ার প্রচলিত পথ এখন আগের মতো সহজ নয়। ফলে কিছু দেশ ক্রমেই শ্রমশক্তি বা ‘মানুষ রপ্তানি’-কে বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে।
বিশেষ করে, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স) বড় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি রপ্তানি আয়ের ঘাটতি পূরণ করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পথ কতটা টেকসই, তা নির্ভর করে সেই শ্রমিকেরা কোথায় কাজ করছেন এবং কী ধরনের অর্থনৈতিক পরিবেশে রয়েছেন, তার ওপর।
এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত দি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপ, জাপান বা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীল পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে; কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতার কারণে সেই পথ অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, শ্রমশক্তি রপ্তানিও একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে ইকোনমিস্টের মতে, এই ধারণার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। রেমিট্যান্স আয় বাড়লেও তা সব সময় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা যায় না। বরং অনেক সময় এটি ভোগের ব্যয় বাড়ায়, যা স্বল্প মেয়াদে অর্থনীতিকে চাঙা করলেও দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পায়ন বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে না। এর ফলে অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে দুর্বল থেকে যেতে পারে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—শ্রমশক্তি কোথায় যাচ্ছে। যদি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা উন্নত দেশে গিয়ে উচ্চ আয়ের সুযোগ পান, তাহলে তা দেশের জন্য বেশি লাভজনক হতে পারে। কিন্তু কম দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাবও সীমিত হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত অভিবাসন দেশের ভেতরে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, মানুষ রপ্তানি একদিকে আয় বাড়ালেও অন্যদিকে অর্থনীতির ভিত দুর্বল করার ঝুঁকিও তৈরি করে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনশক্তি রপ্তানি কিছু দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হতে পারে, কিন্তু এটি এককভাবে সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। টেকসই উন্নয়নের জন্য এখনো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনীতির বৈচিত্র্যই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনীতিতে আরেকটি ফাটল স্পষ্ট হলো। মে মাসের ১ তারিখ থেকে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল সৌদি আরবের দিকে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একধরনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলেও মনে করা হচ্ছে।
৭ ঘণ্টা আগে
বহুপক্ষীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমিরাতের আপাতত আর কোনো সংগঠন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
১৬৩৩ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি যখন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে—এই বৈজ্ঞানিক সত্য প্রচারের জন্য রোমের ক্যাথলিক চার্চের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন, তখন বিজ্ঞান ও ধর্মের সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। প্রায় চার শতাব্দী পর প্রেক্ষাপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। আজ খোদ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদেরা তাঁদের তৈরি
১ দিন আগে
জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাদের প্রভাব কিছুটা হারাতে পারে। কারণ, জোটের সদস্য দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ মে থেকে এই দুই জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জোটের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বাকি উৎপাদক দেশগুলো একসঙ্গেই থাকবে এবং তেল সরবরাহ নীতিতে সমন্বয় চালিয়ে যাবে।
১ দিন আগে