
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, বাংলাদেশের রানা প্লাজা ধসে পড়ার দিন। আট তলা ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে সেদিন মুহূর্তেই চাপা পড়ে ১ হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়। ধসে পড়ার একদিন আগেই শ্রমিকেরা ভবনের ফাটল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ওয়ালমার্ট, জেসিপেনি ও চিলড্রেনস প্লেসের মতো ২৯টি বড় কোম্পানির জন্য পোশাক তৈরি হত সেখানে।
১৯৯০ এর দশকের শুরুতে ফাস্ট ফ্যাশনের ধারণা আসে। কিন্তু রানা প্লাজার ধসে পড়ার মতোই শুরুতেই এর যাত্রাপথে ফাটল দেখা দেয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ফাস্ট ফ্যাশন শিল্পকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। এর পরিণতিতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট, যা ‘আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন’ নামে পরিচিত। তবুও ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ অনবরত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করছেন এবং এসব ভঙ্গুর কারখানায় তৈরি পোশাক কিনেই যাচ্ছেন। এই পোশাকগুলো মানুষে ‘রক্তে’ রঞ্জিত। সেই রক্ত বিক্রি করে কোম্পানির মালিক ও শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফা কামিয়েই যাচ্ছেন।
কোভিড-১৯ আমাদের জীবনে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ে সূচনা করে। সে সময় আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। মহামারি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারণা বদলে দেয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় থামিয়ে দেয়। শুরুর দিকে তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্যের অর্ডার বাতিল করে। ফ্যাশন শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৭ হাজার ৬৩৭ কর্মী চাকরিচ্যুত হয়। এদের অনেকেই আইন অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাননি। এতে কর্মীরা মোট ৩৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বঞ্চিত হন।
বেশ কিছু টেক্সটাইল কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানার কর্মীরা এক মাসের কম বেতন পেয়ে চাকরি হারান। ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পোশাক কেনার হার কমে যায়। ২০২১ সালে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। তবে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক দূরত্ব, ঘরে বসে কাজ এবং অনলাইন কেনাকাটা মানুষ ‘নিউ নরমাল’ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

২০২২ সালে পোশাক শিল্প মহামারির নতুন নিয়মকানুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। কোম্পানিগুলো দ্রুত অনলাইন কেনাকাটার সুযোগকে কাজে লাগায়। তবে শিল্পের মুনাফা বাড়ানোর তাড়নায় আগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো অবহেলিত থেকে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে পুনরায় চালু করতে বলা হয়। সামাজিক দূরত্ব, সীমিত শ্রমশক্তি এবং মাস্ক ব্যবহারের মতো কোভিড নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়।
তবে এসব নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। কারখানাগুলোর জন্য এসব নিয়মপালন ব্যয়বহুল এবং কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে, অনলাইন কেনাকাটার হার বাড়তে থাকায় চাহিদা পূরণের চাপ আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান, যেমন শেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্রেতাদের ওপর নানা ডিজিটাল ট্রেন্ড চাপিয়ে দেয়। ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করেই পণ্য তৈরি করা হয়। এভাবে তৈরি হয় ক্ষণস্থায়ী ‘মাইক্রো ট্রেন্ড’, যা পোশাকের অপচয় বাড়ায়।
মাইক্রো ট্রেন্ডের সময়কাল এক মাসেরও কম। এসব পোশাক এক-দুবার ব্যবহার করলেই উপযোগিতা হারায়। কোভিড-১৯ ফাস্ট ফ্যাশনের এই প্রবণতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে আজকের আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশনের যুগ এসেছে। বর্তমানে ব্র্যান্ডগুলো স্বল্প খরচে আরও বেশি পণ্য উৎপাদনে শ্রমিক ও পরিবেশের ওপর ভয়াবহ শোষণ চালাচ্ছে। প্রতিদিন ১০ হাজার শ্রমিক বছরে ৩৬৫ দিন, সপ্তাহে ৭৫ ঘণ্টা কাজ করছেন।

তবুও ক্রেতারা মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন না। মাইক্রো ট্রেন্ডের জন্য তৈরি পোশাকের মান নিম্ন, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং এসিডিক ডাই বা অম্লীয় রঙ ব্যবহার হয়, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রকৃতিতে থেকে যায়, কোনো পরিবর্তন ছাড়াই। পোশাক মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু সস্তা পোশাকই যদি অধিকাংশ মানুষের একমাত্র ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সিস্টেমে বড় ধরনের সমস্যা আছে।
ফাস্ট ফ্যাশনের বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এর মুনাফার ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ চলে যায় বিনিয়োগকারী, মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা দিনে মাত্র ৩ দশমিক ৪৩ ডলার আয় করেন। শিল্পের এ বিশাল মুনাফার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশদূষণ এবং নিম্নমানের পণ্য থেকে সৃষ্ট বর্জ্য নিয়ে সরকারের উদাসীনতা উদ্বেগজনক। সব মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পের ভিত্তিতে দেখা দেওয়া ফাটল ক্রমেই বৈষম্যের গভীর খাদে পরিণত হচ্ছে। মানবাধিকার পুনরুদ্ধার না করলে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
সস্তা পোশাক ব্যবহারে আমরা সবাই মজেছি। দ্রুত সরবরাহের কারণে ক্রেতারা সুলভে পোশাক কিনছে, আবার অল্প সময় পর ফেলেও দিচ্ছে। তবে আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন শুধু ক্রেতাদের স্বল্পমেয়াদি মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং এটি তাদের অভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন অস্থায়ী মাইক্রো ট্রেন্ডের প্রসার ঘটায়। এই প্রবণতা ‘থ্রোএওয়ে কালচার’ অর্থাৎ কোনো একটি পণ্য কিনে কিছুদিন ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার প্রবণতাকে আরও জোরালো করে। সস্তা, নিম্নমানের পণ্য সহজে ফেলে দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়। কয়েকবার ব্যবহারের পর এগুলো ফেলে দেওয়া হয়। এর পেছনে থাকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির অভাব।
থ্রোএওয়ে কালচার শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়, এই প্রবণতা সমাজকে গ্রাস করছে। আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন, খনিজ উত্তোলন এবং কৃষি শিল্পে শোষণের ঘটনা আমাদের বড় বৈষম্যগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়। স্থানীয় ও বৈশ্বিক স্তরে এর প্রভাব স্পষ্ট। আমাদের করপোরেশন এবং সরকারগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— আমরা যেন নিজেরা উদাসীন ভোক্তা না হই। প্রতিটি মানুষই এই ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তথ্যের এই যুগে অজানার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের প্রতিটি কাজ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
(মডার্ন পলিসিতে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত)

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, বাংলাদেশের রানা প্লাজা ধসে পড়ার দিন। আট তলা ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে সেদিন মুহূর্তেই চাপা পড়ে ১ হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়। ধসে পড়ার একদিন আগেই শ্রমিকেরা ভবনের ফাটল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। ওয়ালমার্ট, জেসিপেনি ও চিলড্রেনস প্লেসের মতো ২৯টি বড় কোম্পানির জন্য পোশাক তৈরি হত সেখানে।
১৯৯০ এর দশকের শুরুতে ফাস্ট ফ্যাশনের ধারণা আসে। কিন্তু রানা প্লাজার ধসে পড়ার মতোই শুরুতেই এর যাত্রাপথে ফাটল দেখা দেয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ফাস্ট ফ্যাশন শিল্পকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। এর পরিণতিতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট, যা ‘আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন’ নামে পরিচিত। তবুও ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ অনবরত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করছেন এবং এসব ভঙ্গুর কারখানায় তৈরি পোশাক কিনেই যাচ্ছেন। এই পোশাকগুলো মানুষে ‘রক্তে’ রঞ্জিত। সেই রক্ত বিক্রি করে কোম্পানির মালিক ও শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফা কামিয়েই যাচ্ছেন।
কোভিড-১৯ আমাদের জীবনে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ে সূচনা করে। সে সময় আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। মহামারি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারণা বদলে দেয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় থামিয়ে দেয়। শুরুর দিকে তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্যের অর্ডার বাতিল করে। ফ্যাশন শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৭ হাজার ৬৩৭ কর্মী চাকরিচ্যুত হয়। এদের অনেকেই আইন অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাননি। এতে কর্মীরা মোট ৩৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বঞ্চিত হন।
বেশ কিছু টেক্সটাইল কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানার কর্মীরা এক মাসের কম বেতন পেয়ে চাকরি হারান। ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পোশাক কেনার হার কমে যায়। ২০২১ সালে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। তবে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক দূরত্ব, ঘরে বসে কাজ এবং অনলাইন কেনাকাটা মানুষ ‘নিউ নরমাল’ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

২০২২ সালে পোশাক শিল্প মহামারির নতুন নিয়মকানুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। কোম্পানিগুলো দ্রুত অনলাইন কেনাকাটার সুযোগকে কাজে লাগায়। তবে শিল্পের মুনাফা বাড়ানোর তাড়নায় আগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো অবহেলিত থেকে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে পুনরায় চালু করতে বলা হয়। সামাজিক দূরত্ব, সীমিত শ্রমশক্তি এবং মাস্ক ব্যবহারের মতো কোভিড নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়।
তবে এসব নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। কারখানাগুলোর জন্য এসব নিয়মপালন ব্যয়বহুল এবং কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে, অনলাইন কেনাকাটার হার বাড়তে থাকায় চাহিদা পূরণের চাপ আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান, যেমন শেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্রেতাদের ওপর নানা ডিজিটাল ট্রেন্ড চাপিয়ে দেয়। ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করেই পণ্য তৈরি করা হয়। এভাবে তৈরি হয় ক্ষণস্থায়ী ‘মাইক্রো ট্রেন্ড’, যা পোশাকের অপচয় বাড়ায়।
মাইক্রো ট্রেন্ডের সময়কাল এক মাসেরও কম। এসব পোশাক এক-দুবার ব্যবহার করলেই উপযোগিতা হারায়। কোভিড-১৯ ফাস্ট ফ্যাশনের এই প্রবণতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে আজকের আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশনের যুগ এসেছে। বর্তমানে ব্র্যান্ডগুলো স্বল্প খরচে আরও বেশি পণ্য উৎপাদনে শ্রমিক ও পরিবেশের ওপর ভয়াবহ শোষণ চালাচ্ছে। প্রতিদিন ১০ হাজার শ্রমিক বছরে ৩৬৫ দিন, সপ্তাহে ৭৫ ঘণ্টা কাজ করছেন।

তবুও ক্রেতারা মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন না। মাইক্রো ট্রেন্ডের জন্য তৈরি পোশাকের মান নিম্ন, এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং এসিডিক ডাই বা অম্লীয় রঙ ব্যবহার হয়, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রকৃতিতে থেকে যায়, কোনো পরিবর্তন ছাড়াই। পোশাক মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু সস্তা পোশাকই যদি অধিকাংশ মানুষের একমাত্র ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সিস্টেমে বড় ধরনের সমস্যা আছে।
ফাস্ট ফ্যাশনের বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু এর মুনাফার ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ চলে যায় বিনিয়োগকারী, মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা দিনে মাত্র ৩ দশমিক ৪৩ ডলার আয় করেন। শিল্পের এ বিশাল মুনাফার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশদূষণ এবং নিম্নমানের পণ্য থেকে সৃষ্ট বর্জ্য নিয়ে সরকারের উদাসীনতা উদ্বেগজনক। সব মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পের ভিত্তিতে দেখা দেওয়া ফাটল ক্রমেই বৈষম্যের গভীর খাদে পরিণত হচ্ছে। মানবাধিকার পুনরুদ্ধার না করলে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
সস্তা পোশাক ব্যবহারে আমরা সবাই মজেছি। দ্রুত সরবরাহের কারণে ক্রেতারা সুলভে পোশাক কিনছে, আবার অল্প সময় পর ফেলেও দিচ্ছে। তবে আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন শুধু ক্রেতাদের স্বল্পমেয়াদি মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং এটি তাদের অভ্যাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন অস্থায়ী মাইক্রো ট্রেন্ডের প্রসার ঘটায়। এই প্রবণতা ‘থ্রোএওয়ে কালচার’ অর্থাৎ কোনো একটি পণ্য কিনে কিছুদিন ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার প্রবণতাকে আরও জোরালো করে। সস্তা, নিম্নমানের পণ্য সহজে ফেলে দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়। কয়েকবার ব্যবহারের পর এগুলো ফেলে দেওয়া হয়। এর পেছনে থাকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির অভাব।
থ্রোএওয়ে কালচার শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়, এই প্রবণতা সমাজকে গ্রাস করছে। আলট্রা-ফাস্ট ফ্যাশন, খনিজ উত্তোলন এবং কৃষি শিল্পে শোষণের ঘটনা আমাদের বড় বৈষম্যগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়। স্থানীয় ও বৈশ্বিক স্তরে এর প্রভাব স্পষ্ট। আমাদের করপোরেশন এবং সরকারগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— আমরা যেন নিজেরা উদাসীন ভোক্তা না হই। প্রতিটি মানুষই এই ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তথ্যের এই যুগে অজানার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের প্রতিটি কাজ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
(মডার্ন পলিসিতে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত)

ইতিহাস বলে, শক্তিশালী দেশগুলোর সাধারণত বন্ধু কম থাকে। রাশিয়ার উত্থানে তার প্রতিবেশীরা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, চীনের উত্থানে এশিয়ায় ভারত-জাপান-ভিয়েতনাম একে অপরের কাছাকাছি এসেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে গত ৮০ বছর ধরে চিত্রটি ছিল ভিন্ন।
৯ ঘণ্টা আগে
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনী। তবে বিক্ষুব্ধ জনগণের দাবি দাওয়ার চেয়ে তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে এক কঠোর বিভাজনরেখা। তিনি ‘বৈধ’ দাবি এবং ‘বিদ্রোহের’ মধ্যে পার্থক্য টেনে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের সীমিত অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও একটি ‘এয়ারক্রাফট ইকোসিস্টেম’ (কারখানা, টেকনিশিয়ান, ওভারহেলিং, অ্যাসেম্বলি, সাপ্লাই-চেইন ম্যানেজমেন্ট) ছিল—যা জেএফ-১৭-এর মতো প্রকল্পে প্রযুক্তি গ্রহণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
তবে তুলনামূলকভাবে কম দাম—প্রতি ইউনিট আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার—হওয়ায় গত ১০ বছরে বেশ কয়েকটি দেশ এই বিমানে আগ্রহ দেখিয়েছে। নাইজেরিয়া, মিয়ানমার ও আজারবাইজান ইতিমধ্যে তাদের বহরে এই জেট যুক্ত করেছে। আর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধ সক্ষমতার সুনাম আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
১৯ ঘণ্টা আগে