ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প একটি অত্যন্ত অপরিণত এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করার আগে আমাদের আরও মৌলিক একটি বিষয় মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পায় না। চুক্তি সইয়ের পরও আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাইনি। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের তথ্য নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল, যেখানে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমরা দেখেছি, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ৫২ শতাংশ সময় বাংলাদেশ তার ন্যায্য পরিমাণ পানি পায়নি। সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় ১১ মার্চ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। এ সময়ে বাংলাদেশ প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় তার প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
মূল সমস্যাটি হলো, বর্তমান চুক্তিতে কোনো ‘নিশ্চয়তা বিধান’ বা গ্যারান্টি ক্লজ নেই। ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে যে পরিমাণ পানি থাকে, তা মোটামুটি ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। ধরুন, প্রবাহ কমে ৫০ হাজার কিউসেকে নেমে এল। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবে ২৫ হাজার কিউসেক, যদিও তার পাওয়ার কথা ছিল ৩৫ হাজার কিউসেক। কারণ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ফারাক্কা পর্যন্তই পৌঁছায় না।
তাই জরুরি প্রশ্ন হলো, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে? আমার মতে, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গঙ্গা চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আকারে নবায়ন করা, যেখানে একটি গ্যারান্টি ক্লজ থাকবে।
১৯৭৭ সালের চুক্তিতে এমন গ্যারান্টি ছিল, কিন্তু বর্তমান চুক্তিতে তা নেই।
পরবর্তী চুক্তি আরও দৃঢ় হওয়া উচিত এবং সম্ভব হলে শুধু শুষ্ক মৌসুমের পাঁচ মাস নয়, পুরো ১২ মাসকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
তথ্যসূত্র: খায়রুল হাসান জাহিন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং পানি বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত, ২০ মে ২০২৬

ভারতবর্ষীয় ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের পরে যখন কৃষকেরা অভ্যুত্থানে যোগ দিলেন, তখন তাঁরা যত কালেক্টরেট, যত তহশিল অফিস—ধ্বংস করেন, নথিপত্র পুড়িয়ে দেন। তাঁদের ধারণা, এই নথিপত্রই ছিল শোষণ করার হাতিয়ার। অত্যাচারের হাতিয়ার। কৃষককে তো আপনি বক্তৃতা দিয়ে শেখাবেন না, তাঁরা জিনিসটা কীভাবে দেখেন, সেটাই আমি বলছি।
২১ ঘণ্টা আগে
প্রাচীনকালে স্লাভিক অঞ্চলের মানুষ একধরনের বুনো উদ্ভিদের ডাঁটা ও পাতা গেঁজিয়ে একটি টক স্যুপ তৈরি করত। প্রাচীন স্লাভিক ভাষায় এই উদ্ভিদকে ‘বোর্শেভিক’ বলা হতো। এটি থেকে পরবর্তীকালে ইউক্রেনের জাতীয় ও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্যুপ ‘বোর্শ’-এর উৎপত্তি হয়। ষোড়শ শতাব্দীর দিকে ইউক্রেনীয়রা রোমানদের...
২ দিন আগে
আফগানিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জাতীয় খাবার কাবুলি পোলাওয়ের উৎপত্তি কিন্তু দেশটির রাজধানী কাবুল শহরে হয়নি। ধারণা করা হয়, উত্তর আফগানিস্তান এবং উজবেকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই খাবারের উৎপত্তি। তবে সৌদি আরবে বসবাসকারী উত্তর আফগান অভিবাসীরা এই পদটিকে ‘বুখারি চাল’ বলে পরিচয় দেয়...
৯ দিন আগে
গ্লানিটা হলো লিখতে না পারায়। একজন কবি লিখতে পারছেন না, এটাই তাঁর জন্য চরম অসুবিধার। অনেকে জীবিত আছেন, কিন্তু আর লিখতে পারছেন না। এটা গ্লানিকর। দুই নম্বর কথা হলো, আমার মতো যাঁরা দীর্ঘ জীবন পার করে এসেছেন, তাঁদের শারীরিক নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়। যেমন আমার চোখ নেই, অস্পষ্ট দেখি।
১৫ দিন আগে