মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মার্ক্সবাদে আকৃষ্ট হন। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আজীবন এ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘেও সক্রিয় ছিলেন এই খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে ১৯০৮ সালের ১৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি বাড়ি ছিল ঢাকার বিক্রমপুরের মালবদিয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ডাকনাম মানিক।
বাবার সরকারি চাকরির কারণে তিনি দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরসহ নানা জায়গার ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে গণিতে লেটারসহ প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স এবং বাঁকুড়া ওয়েসলিয়ন মিশন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে বিএসসিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।
প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় মাত্র ২০ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি প্রথম গল্প ‘অতসীমামী’ লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। তারপর জীবনের বাকি ২৮ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে গেছেন। মাঝে মাত্র বছর তিনেক তিনি চাকরি ও ব্যবসা করেছেন। আজীবন দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তারপরও তিনি সাহিত্য সাধনা এবং রাজনীতি থেকে কখনো দূরে সরে যাননি।
গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি লিখেছেন কিছু কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ ও ডায়েরি। বিজ্ঞানমনস্ক এই লেখক মানুষের মনোজগৎ তথা অন্তর্জীবনের রূপকার হিসেবে সার্থকতা পেয়েছেন। ‘জননী’, ‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’, ‘চিহ্ন’ প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। ছোটগল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ‘সরীসৃপ’, ‘সমুদ্রের স্বাদ’, ‘কুষ্ঠরোগীর বৌ’, ‘টিকটিকি’, ‘হলুদ পোড়া’, ‘আজ কাল পরশুর গল্প’, ‘হারানের নাতজামাই’, ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ প্রভৃতি।
মাত্র ৪৮ বছর বয়সে এই মহান কথাশিল্পী কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর।

’৭১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০ হাজার টন যুদ্ধসামগ্রী নিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ এমভি সোয়াত চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীতে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি যে, এই জাহাজ পাকিস্তান থেকে রওনা দেওয়ার আগে অন্তত এক মাস সময় লেগেছে বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে, সমরাস্ত্রগুলোকে...
৫ দিন আগে
একটা সময় বিমানবন্দর অফিসার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী। কিন্তু পরে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মেজর হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ায়। অপারেশন সার্চলাইটের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার ঘাঁটিতে পৌঁছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
৬ দিন আগে
একাত্তরের ১৮ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর নাজমুল হককে নওগাঁয় ৭ ইপিআর উইংয়ের অধিনায়ক করে পাঠানো হয়। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যা শুরু হলে পরদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে নওগাঁ মহকুমাকে শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।
১৩ দিন আগে
মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠার প্রথম স্ফুরণটি কিন্তু ঠিক পরিকল্পনা করে হয়নি। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের নিরীহ মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনারা যখন হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যরা আত্মরক্ষার জন্য রুখে দাঁড়ান।
১৯ দিন আগে