Alexa
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

জমিদার নেই, আছে বাড়িটি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩১

 মুক্তাগাছা রাজবাড়ি। প্রায় ৯০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। tছবি: আজকের পত্রিকা ময়মনসিংহ জেলার একটি প্রাচীন স্থাপনা মুক্তাগাছা রাজবাড়ি। কালের পরিক্রমায় রাজবাড়িটি আজ জরাজীর্ণ। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই রাজবাড়ি আজও মানুষকে টানে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকারীরা প্রায়ই মুক্তাগাছা রাজবাড়িতে আসেন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে।

ময়মনসিংহ শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে মুক্তাগাছা উপজেলায় রাজবাড়িটির অবস্থান। আচার্য চৌধুরী জমিদার বংশ ১২ শতকে মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করে। এই বংশের প্রথম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। নবাবের অত্যন্ত আস্থাভাজন এই কর্মকর্তা ১১৩২ সালে তৎকালীন আলাপসিং পরগনার বন্দোবস্ত নেন। বর্তমান মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাই ছিল আলাপসিং পরগনার অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাসবিদদের মতে, শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর চার ছেলে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম বগুড়া থেকে আলাপসিংয়ে এসে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময়ে আলাপসিং পরগনায় খুব একটা জনবসতি ছিল না। চারদিকে ছিল অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্যের চার ছেলে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী আলাপসিং পরগনার বিনোদবাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন। তখনকার রেওয়াজ ছিল, রাজা-বাদশারা এলাকায় এলে প্রজারা তাঁদের সাধ্যমতো নজরানা দিতেন। মুক্তা নামে একজন দরিদ্র কর্মকার জমিদার শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীকে নিজ হাতে তৈরি পিতলের একটি ‘গাছা’ নজরানা দিয়েছিলেন। ‘গাছা’ হচ্ছে দীপাধার বা প্রদীপ। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীকে সব নজরানার মধ্যে পিতলের গাছাই বেশি আকর্ষণ করেছিল। তাই তিনি ‘মুক্তা’ আর ‘গাছা’ শব্দ দুটি একত্র করে বিনোদবাড়ির নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মুক্তাগাছা’।

রাজবাড়ির মূল ফটক বা সিংহ দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে বেশ কিছু খালি ফোকর। রাজপ্রাসাদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ফটকের দুই পাশে করিডরের পাশে সিমেন্ট, চীনামাটি ও মূল্যবান পাথরে তৈরি তিনটি করে মোট ছয়টি সিংহমূর্তি ছিল। সিংহ দরজা পেরিয়ে একটু এগোলে একটি মন্দির চোখে পড়বে। সম্প্রতি মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছে। এখানকার কষ্টিপাথরের বিগ্রহ চুরি হয়ে গেছে আগেই। শূন্যই পড়ে আছে পূজামণ্ডপ। মণ্ডপের মেঝেতে মূল্যবান মার্বেল টাইলস বিছানো ছিল। লোপাট হয়েছে সেগুলোও। চুরি হয়েছে দরজা-জানালার কপাটও।

রাজবাড়ির ভেতরে আছে জমিদারের মায়ের ঘর, অতিথি ঘর ও সিন্দুক ঘর। সিন্দুকের ভগ্নাবশেষ আজও রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ আচার্যের উত্তরপুরুষ জগৎ কিশোর আচার্য চৌধুরী বেশ জ্ঞানচর্চা করতেন। তাঁর ছিল একটি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, নাম ‘জিতেন্দ্র কিশোর গ্রন্থাগার’। ধারণা করা হয়, তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার ছিল এটি। এখানে বইয়ের সংগ্রহ ছিল প্রায় ১০ হাজার। তালপাতায় লিখিত পুঁথি থেকে শুরু করে এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার মতো অনেক দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ ছিল এখানে। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়েছে অনেক বই। স্বাধীনতার পর এই গ্রন্থাগার থেকে বইগুলো মুক্তাগাছা সংগ্রহ নামে বাংলা একাডেমিতে স্থানান্তর করা হয়। এই জমিদার বংশের আরেক উত্তরপুরুষ ভূপেন্দ্র ছিলেন নাট্যপ্রিয় মানুষ। তাঁর নামানুসারে নির্মাণ করা হয়েছিল ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ। এটি একটি ঘূর্ণায়মাণ মঞ্চ।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    মাগুরার সন্দেশ

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ৩৮ বছর পাঠদান

    ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৭ বিদ্রোহী

    সরকারি চাকরি

    ২৮০টি পদে জনবল নেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে

    সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি রোধে ডিসিদের তৎপর থাকতে হবে: তথ্যমন্ত্রী 

    শ্রীপুরে মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন দুটি বগি লাইনচ্যুত

    আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে সর্বোচ্চ ৩ বাংলাদেশি

    বদলগাছীতে পর্নোগ্রাফি ভিডিও সরবরাহকারী ৭ ব্যক্তি গ্রেপ্তার 

    সরকারি চাকরি

    ৮টি পদে জনবল নেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বরিশাল