কথা ছিল বৃষ্টি হবে, জলের ওপর বৃষ্টির নাচ দেখব আমরা। কথা ছিল হাওরের জলে আগুন জ্বলবে। তবে সেদিন বৃষ্টি হলো না। কিন্তু নৌকা যতই এগিয়ে চলেছে, চোখের সামনে পরতে পরতে খুলে যাচ্ছে হাওরের সৌন্দর্য। স্রোতের টানে আমরা যেন ছুটে চলেছি ‘সুন্দর’ নামের এক মরীচিকার পেছনে।
সামনে ছাতির চর। বড় অদ্ভুত! সেখানে দেখা গেল থইথই পানিতে ডুবে থাকা এক সবুজ বন! স্তরে স্তরে সাজানো সবুজ গাছ। অনেকটা রাতারগুলের মতো। বৃষ্টি না হলেও আকাশে মেঘ। তাই রোদেরও তেমন আনাগোনা নেই। হাওরের জলে বৃষ্টি পড়ার অপার্থিব দৃশ্য দেখা হলো না বলে মন খারাপ। মনে মনে বললাম, পরেরবার নিশ্চয়ই দেখা হবে।
শরৎ একটা আশ্চর্য ঋতু। এ সময় নদ-নদী বা জলাশয়ে পানি থাকে প্রচুর। থাকে লিলুয়া বাতাস। কিন্তু জলের আগ্রাসী ঢেউ থাকে না; বরং এক নিটোল নিস্তরঙ্গ রূপ দেখা যায়। তাই দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে আনন্দের ঢেউ তোলে। এই আনন্দ লহড়িতে ডুব দিতে রওনা হয়েছিলাম ভোর ৫টায়। মানিকগঞ্জ থেকে গন্তব্য কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর। পাঁচটি মাইক্রোবাসে ৪৫ জন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার ভ্রমণসঙ্গী। তাঁরা সবাই বন্ধুবান্ধব ও সমমানসিকতার মানুষ।
সকাল ১০টায় পৌঁছালাম নিকলী বেড়িবাঁধে। দরদাম করে সাত হাজার টাকায় ভাড়া করা হলো একটি বেশ বড় আকারের ট্রলার। হাওরের জলে নীল আকাশের প্রতিবিম্ব দেখে আমরা টাকার কথা ভুলে গেলাম। শরতের নীল আকাশ যেন তার সব সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে হাওরের বুকে! দূরের আকাশকে স্পর্শ করতে উন্মুখ হয়ে আছে শান্ত স্নিগ্ধ দ্বীপের মতো ভাসমান গ্রামগুলো। যত দূর দেখা যায়, চোখের লেন্সে ধরা পড়ে নীল জলরাশির ছোট ছোট ঢেউয়ের ভাঁজে ভেসে থাকা আধডোবা সবুজ গাছপালা। নিকলী হাওরের জলরাশিকে দুই ভাগে ভাগ করে চলে গেছে পিচঢালা পথ। তার পোশাকি নাম অল ওয়েদার সড়ক। হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া এই সড়ক দ্বীপের মতো জেগে থাকা নিকলী, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। দুপাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি ভেদ করে চলে যাওয়া এ রাস্তা পরিচয় করিয়ে দেয় বিশাল হাওরের সঙ্গে। নৌকায় না উঠেও, এই পথ ধরে যতই এগিয়ে যাবেন, হাওরের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে আপনাকে। কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত নিকলী নামের এ হাওর। এখানে জেগে থাকা গ্রামগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় এক অদেখা গ্রামীণ বাংলাদেশ।
শরতে হাওরের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। ঢেউ কম থাকে বলে যাঁদের ফোবিয়া আছে হাওরের উত্তাল ঢেউ আর জলে, তাঁদের জন্য সেখানে ভ্রমণের উত্তম সময় এখন। চাইলে সময় করে এক দিনেই ঘুরে আসতে পারেন নিকলী থেকে।
খাওয়াদাওয়া
নিকলীতে খাবারের জন্য বেড়িবাঁধ এলাকায় ভালো মানের রেস্তোরাঁ আছে। সেখানে দুপুরের খাবারের মেনু হিসেবে হাওরের তাজা ও সুস্বাদু মাছ, ভাত, ডাল ও সবজি পাওয়া যায়। খেতে জনপ্রতি ব্যয় হবে ২৫০ টাকা প্রায়।

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর কুয়াশার পাতলা চাদর। দূরে জেলেদের নৌকা ঢেউ কেটে এগিয়ে চলছে। পুব আকাশে সূর্যের আভা ছড়িয়ে পড়তেই নদীর জল চিকচিক করে উঠল সোনালি আলোয়। ম্যানগ্রোভ বনের ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ছুটে গেল একদল হরিণ। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও মহিষের ঘণ্টার শব্দ, আবার কোথাও...
১৬ মিনিট আগে
‘জীবন একটি রোমাঞ্চকর অভিযান ছাড়া কিছু নয়’—হেলেন কেলারের এই কথার সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কক্সবাজারের সোনাঝরা সৈকতের নোনাজল ছেড়ে সাইকেলে চেপে বীর কুমার যাত্রা শুরু করেছিলেন হিমালয়ের উদ্দেশে।
১ ঘণ্টা আগে
বাহরাইনের রাশা ইউসিফ ‘পৃথিবীর সব দেশ ঘুরে দেখা’ রোমাঞ্চকর কিন্তু কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। ভ্রমণের সঙ্গে ফটোগ্রাফিকে সঙ্গী করে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৫টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তবে রাশার ভ্রমণের...
১ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ট্রিপ অ্যাডভাইজার প্রকাশ করেছে এ বছরের ট্রাভেলার্স চয়েস বেস্ট অব দ্য বেস্ট রেস্তোরাঁর তালিকা। দীর্ঘ ১২ মাসের ভ্রমণকারীদের রিভিউ এবং রেটিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সেরা ১০ ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁর তালিকা।
৩ ঘণ্টা আগে