মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সেকশন

 

রপ্তানির আড়ালে চার প্রতিষ্ঠানের ৩৮২ কোটি টাকা পাচার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩, ১৮:৫৬

রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ফখরুল আলম। ছবি: সংগৃহীত বিদেশ পণ্য রপ্তানির আড়ালে দেশীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সহযোগিতায় চারটি প্রতিষ্ঠান মিলে ৪৮২ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চলতি বছরের শুরুতে কাগজ জাল করে পণ্য রপ্তানির অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল উত্তর পতেঙ্গা ডিপোয় অভিযান চালায়। এতে প্রমাণ মেলে জালিয়াতির।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ও ইলহাম। 

এই প্রতিষ্ঠানগুলো জাল নথি তৈরি করে এক হাজার ৭৮০টি চালানের বিপরীতে ৩৮২ কোটি টাকা পাচার করে। এর মধ্যে এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন পাচার করেছে ২৮২ কোটি টাকা, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ৬২ কোটি টাকা, ইলহাম ১৭ কোটি টাকা এবং ২১ কোটি টাকা পাচার করেছে সাবিহা সাইকি ফ্যাশন। 

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ফখরুল আলম।

এরই ধারাবাহিকতায় ৭টি কন্টেইনারে রাখা ৯টি পণ্যের চালানের কায়িক পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ঘোষণাবহির্ভূত একাধিক পণ্য পাওয়া যায়। ঘোষণা মোতাবেক টি-শার্ট এবং লেডিস ড্রেস রপ্তানির কথা থাকলেও পরীক্ষায় বেবি ড্রেস, জিনস প্যান্ট, লেগিন্স, শার্ট ও শালসহ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য মেলে। অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্তে দেখা যায়, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন নামের প্রতিষ্ঠানটি বিগত সময়ে ৮৬টি বিলে পণ্য রপ্তানি করে। রপ্তানি করা পণ্য চালানগুলোতে সাবিহা সাইকি ফ্যাশন ১৯৭ টন মেনস ট্রাউজার, টি-শার্ট, বেবি সেট, ব্যাগ, পোলো শার্ট, জ্যাকেট, প্যান্ট ও হুডি রপ্তানি করে। যার মূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা। চালানগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, সৌদি আরব ও নাইজেরিয়াতে রপ্তানি করা হয়।

কাস্টমসের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এস্যাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইএক্সপি যাচাই এবং অগ্রণী ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ৮৬টি বিল অব এক্সপোর্টে থাকা ইএক্সপিগুলো ভিন্ন ভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা। যেহেতু একটি ইএক্সপি একাধিক বিল অব এক্সপোর্টে ব্যবহারের সুযোগ নেই; সেহেতু ৮৬টি বিল অব এক্সপোর্টে ভিন্ন ভিন্ন রপ্তানিকারকের ইএক্সপি ব্যবহার করা হলেও বিল অব এক্সপোর্টের ফিল্ড ২৪ এ কোড ২০ ব্যবহার করার কারণে ইএক্সপি এবং সংশ্লিষ্ট বিল অব এক্সপোর্টের রপ্তানিকারকের বিন অটো ম্যাচ হয়নি। এ ক্ষেত্রে ইএক্সপির কার্যকারিতা নেই। ফলে বৈধপন্থায় ২১ কোটি টাকা দেশে আসার সুযোগ নেই। একইভাবে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য রপ্তানিকারকের ইএক্সপি ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি করেছে। এ কারণে এই চালানগুলোর বিপরীতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বৈধপথে দেশে আসার সুযোগ না থাকায় মানি লন্ডারিং হয়েছে।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমাক্স শিপার্স লিমিটেডের সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম করে। অন্য প্রতিষ্ঠানের ইএক্সপি ব্যবহার করায় এ জাতীয় ইএক্সপির কোনো প্রকার কার্যকারিতা না থাকায় বৈধপন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার হওয়ার সুযোগ নেই, অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং হয়েছে। ওই চার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্য আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এমন কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    ৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শিল্পীর তুলিতে বুদ্ধর ‘নির্বাণ’ অনুসন্ধান

    ধানমন্ডিতে অফিসমুখী যুবকের গলায় চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪ 

    শরীয়তপুরে মারধরের শিকার ভোট কর্মকর্তাকেই অব্যাহতি

    আশুলিয়ায় দম্পতির লাশ উদ্ধার: স্ত্রী–শ্যালিকার অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে স্বামীর চিরকুট

    ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে তরুণীকে বিয়ে, ডিভোর্স দেওয়ায় অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রকাশ

    ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা ৩৫ বাংলাদেশি উদ্ধার

    সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

    রেইনড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছবি ‘ডেথ অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ’

    সপ্তাহে ২৫০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত সেভিংস খোলা যাচ্ছে বিকাশ অ্যাপে

    রাইসির মৃত্যুতে তেল ও সোনার বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

    ভাইরাল খুদে ভ্লগার শিরাজের সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার কারণ জানালেন বাবা