
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ সোমবার এই দেশের বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দায়রা জজ কোর্ট এলাকার চারদিকে প্রতিবন্ধকতা (ব্যারিকেড) দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ আদালতে প্রবেশের একটি ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আদালতের কর্মীরাও ওই ফটক দিয়ে ভেতরে যেতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকাল ৮টায় থেকেই আদালত এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দল তৎপর রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এ আদালতে রায় ঘোষণা করবেন। সকাল ১০টার পর যেকোনো সময় বিচারকের আদালতে ওঠার কথা রয়েছে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় শোনার অপেক্ষায় রয়েছে আদালত প্রান্তে আসা ইচ্ছুক জনতারা।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ মাসের মাথায় এই রায়ের দিন ধার্য রেখেছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবির জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আর আসামি পক্ষে আইনজীবীরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এটা, প্রমাণ না হওয়ায়, খালাস পাবেন আসামিরা।
গত বছর ২৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এ হত্যা মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সর্বশেষ দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
আলোচিত এই মামলায় বাদী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাক্ষী ছিলেন ৮৩ জন। এর মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাত সাক্ষ্য দেন। দ্বিতীয় দফায় চার দিনে সাক্ষ্য নেওয়া হয় চারজনের, তৃতীয় দফায় তিন দিনে আটজনের, চতুর্থ দফায় দুই দিনে ছয়জনের, পঞ্চম দফায় তিন দিনে ১৫ জনের, ষষ্ঠ দফার তিন দিনে ২৪ জনের, সপ্তম দফার তিন দিনে পাঁচজনের এবং অষ্টম দফায় তিন দিনে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামের সাক্ষ্য দিয়ে ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়। এরপর আদালত নবম দফায় ৬ ও ৭ ডিসেম্বর ১৫ জন আসামির ৩৪২ ধারায় লিখিত ও মৌখিক সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সর্বশেষ আদালত ৯ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি চার দিনের উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আগামীকাল ৩১ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।
মামলার আসামি যারা
বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা, সাক্ষীরা আদালতে যা বললেন
এ মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস, তদন্ত কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলামসহ ৬৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তা এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে আদালতকে জানান। এ মামলার বাইরেও সাক্ষীরা ওসি প্রদীপ কুমার দাশের দায়িত্ব পালনকালে টেকনাফে নানা নির্যাতনের বর্ণনা দেন আদালতে। সেদিনের নির্মম ঘটনা সাক্ষীরা সবিস্তারে আদালতে তুলে ধরেন।
এ যাবৎকালের বড় মামলা
কক্সবাজারের আদালতে দেশজুড়ে আলোচিত মামলার বিচার হয়নি। আইনজীবীরা বলছেন, ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের এত বড় মামলার ইতিহাস নেই। খুব দ্রুতই এ মামলা রায়ের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, আদালতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য এভিডেন্স তথ্য-প্রমাণে প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পেরেছে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছেন। তাই আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শাপলাপুর পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের পর র্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মেজর সিনহা মামলা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

রাজধানীর মিরপুর-১৩ এলাকার শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে গতকাল শুক্রবার দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাজারবাগ বাজারে পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে বিএনপি কর্মী মো. পলাশকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে....
২ দিন আগে
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীতার অভিযোগে ১ হাজার ৯৫৮ জন, অবৈধ অস্ত্রধারী ৩৩১ জন, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী ১৩ হাজার ২০ জন, ছিনতাইকারী ও দস্যুতা মামলার আসামি ২ হাজার ২১১ জন এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ৮০৮ জন রয়েছেন...
১০ জুন ২০২৬
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২৬ মে ২০২৬
খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সদস্য সন্দেহে রাসেল (২৯) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া রেললাইনের নির্জন একটি স্থানে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। আহত যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
২৬ মে ২০২৬