মনে করা হয় হৃদ্রোগ প্রধানত পুরুষের রোগ। কিন্তু এ রোগ যে নারীদের মধ্যেও প্রবল হতে পারে, তার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকায় ৪৪ মিলিয়ন বা প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ নারী হৃদ্রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ নারী হৃদ্রোগের এক বা একাধিক ঝুঁকির মধ্যে আছেন। সে দেশে চারজন নারীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় হৃদ্রোগে। তবে সুখবর হলো, জীবনশৈলীর পরিবর্তনের মাধ্যমে ৮০ শতাংশ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। এ ছাড়া সচেতনতা বাড়লে একে আগেই চিনে ফেলা সহজ।
নারীদের হৃদ্রোগ আগে চিহ্নিত হয় না। কারণ-
- পুরুষের চেনা উপসর্গের চেয়ে ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে নারীদের।
- কিছু নারীর মধ্যে উপসর্গ তেমন দেখা যায় না।
- অনেক সময় লক্ষণীয় উপসর্গ অবহেলা করা হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে হার্টের রোগ পুরুষের থেকে কিছুটা ভিন্ন।
নারীদের জানা ঝুঁকিগুলো হলো: ডায়াবেটিস, উচ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, নিষ্ক্রিয় জীবন, ধূমপান, স্থুলতা।
নারীদের অন্যান্য ঝুঁকি: ঋতুবন্ধ বা মেনোপজ, মানসিক স্ট্রেস ও বিষণ্নতা, গর্ভধারণে জটিলতা।
- নারীদের হৃদ্রোগের লক্ষণ
- মাথা হালকা লাগা
- ঘাম হওয়া
- বমি ভাব ও বমি
- গলা, ঘাড়, চোয়াল, পিঠে
অস্বস্তি
- বুকে ব্যথা, অস্বস্তি, চাপ
- এক বা দুই বাহুতে ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট
- পেটে অস্বস্তি।
সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ
স্ক্রিনিং করানো: সমস্যা হলে বা না-হলেও একটি বয়স পর শারীরিক পরীক্ষার সূচি মেনে স্ক্রিনিং করুন।
আদর্শ মান জেনে নিন: রক্তের চাপ, রক্তের গ্লুকোজ, বিএমআই, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এগুলোর আদর্শ মান বজায় আছে কি না, জেনে নিন
নিজের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করুন: ধূমপান বা তামাক সেবনের অভ্যাস থাকলে ছাড়ুন, শরীরচর্চা করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ










