কাশফিয়া আলম ঝিলিক, ঢাকা

বাবার ইচ্ছা, মেয়ে হবে সেনাসদস্য। আর মেয়ের ইচ্ছা পাইলট হওয়া। তবে কীভাবে যেন মেয়ে হয়ে গেলেন প্রশিক্ষক, একেবারে সনদধারী জুম্বা ও ফিটনেস প্রশিক্ষক।
গুলশানের একটি জিমে যেতে বলেছিলেন কৃতিকা। সে জিমের ভেতর ঢুকতেই ভারী ভারী ডাম্বেল, ট্রেডমিল, সাইকেলের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ কানে এল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সেই জিমে যন্ত্রের ধাতব শব্দ ছাপিয়ে হালকা একটা মিউজিক বেজে চলেছে। কিছুটা ভেতরে গিয়ে দেখলাম, মেঝেতে বসে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলছেন কৃতিকা। ডাকতেই ঘুরে তাকালেন। জুম্বার একটা সেশন মাত্রই শেষ করেছেন বলে কিছুটা সময় চেয়ে নিলেন তিনি।
জুম্বা একটি ফিটনেস প্রোগ্রাম, যেখানে সংগীতকে কাজে লাগিয়ে ছন্দোবদ্ধ শারীরিক নড়াচড়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায়। ফিটনেস লাইফস্টাইলে ভারসাম্য আনার জন্য এটি ‘পারফেক্ট ওয়ার্কআউট’। ওজন কমানো, বডি টোনিং, সহনশীলতা বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ দূর করতে জুম্বা দ্রুত কাজ করে। তরতাজা হয়ে ফিরে এসে এসব জানিয়েছিলেন কৃতিকা।
জুম্বার অনেক ধরন
জুম্বার অনেক ফরম বা ধরন আছে। এখানে গানের তালে চলে শরীরের কসরত। অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে অনেক সময় জোরে হাসতে হয়, চিৎকার করতে হয় কিংবা কাঁদতেও হয়। এগুলো জুম্বাকারীকে মানসিক শান্তি দেয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনা
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল তাঁকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হঠাৎ আগ্রহ জন্মাল ফিটনেসবিষয়ক লেখাপড়ার দিকে। তিনি যখন বিষণ্ন থাকতেন, ফিটনেস ক্লাসগুলো দেখে অনেক ভালো লাগত তাঁর। তাই এ বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বাবা কিংবা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাধা পাননি কৃতিকা। বরং পরিবারে একজন ফিটনেস ট্রেইনার থাকবে, এটা ভেবে সবাই নাকি বেশ আনন্দ পেয়েছিলেন।
অনলাইনে বিশ্বজুড়ে
২০২১ সালের শেষ থেকে কৃতিকা অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস করান। অনলাইনে তাঁর তিনটি ব্যাচের একটির শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের, একটির শিক্ষার্থীরা নাইজেরিয়ার, অন্যটিতে বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে ক্লাস করেন।
এ ছাড়া কৃতিকা অভিনয়শিল্পী দোয়েল ম্যাস, সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা, বিটিআইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ বেশ কিছু মানুষের জুম্বা প্রশিক্ষক। তাঁর ১ হাজার শিক্ষার্থীর কেউ কলেজশিক্ষক, কেউ শিক্ষার্থী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ আবার প্রকৌশলী কিংবা ব্যাংকার। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষও জুম্বা করেন কৃতিকার সঙ্গে। যাঁরা জুম্বা করতে আসেন, তাঁদের অনেকেরই শারীরিক সমস্যা থাকে। তাই সবার অবস্থা বুঝে জুম্বা ও খাদ্যতালিকা তৈরি করেন তিনি। কৃতিকা জানান, এ জন্যই জুম্বা করাতে গেলে সার্টিফায়েড হতে হয়।
ধারণা যখন বদলে গেল
দেশের মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ে খুব একটা ভাবে না, এটাকে ভ্রান্ত ধারণা মনে করেন কৃতিকা। করোনার পর তাঁর নিজের ক্লাসে যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছেন, তাতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যবিষয়ক ধারণার যে নেতিবাচক গল্প তিনি জানতেন, সেটা বদলে গেছে। দেশেই কিছু করতে চেয়েছিলেন কৃতিকা। তবে তিনি জানতেন, দেশে জুম্বাকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জের।
সোনার মেডেল জয়
সম্প্রতি ব্যাংককে আয়োজিত এশিয়া ফিটনেস কনফারেন্স ২০২৩ আয়োজনে সবচেয়ে বেশি মেডেল নিজের ঝুলিতে সাজিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কৃতিকা। এই আয়োজনে মোট ৫টি মেডেল পেয়েছেন তিনি। এর আগেও ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এশিয়া ফিটনেস কনফারেন্সে ২৮টি দেশের প্রায় ৫০০ জন প্রশিক্ষকের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ছয় মাসব্যাপী বিভিন্ন কেস স্টাডি, ওয়ান টু ওয়ান সেশন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁদের। শুধু একজন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে নয়, সেখানে দেশকেও বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হয়েছে। সেই আয়োজনের ৮টি অংশের মধ্যে ৫টিতে সোনার মেডেল জিতে নেন কৃতিকা। সে সুবাদে পুরো আয়োজনের প্রথম রানার্সআপ আপ হন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবা
কৃতিকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। সেগুলোর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কিছু মানুষকে জুম্বা শেখান তিনি। তিন মাস পরপর এই কাজটি করেন কৃতিকা। সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য একটি জুম্বা ও ফিটনেস ট্রেনিং আয়োজন করে। সেখানে প্রশিক্ষক ছিলেন কৃতিকা।

বাবার ইচ্ছা, মেয়ে হবে সেনাসদস্য। আর মেয়ের ইচ্ছা পাইলট হওয়া। তবে কীভাবে যেন মেয়ে হয়ে গেলেন প্রশিক্ষক, একেবারে সনদধারী জুম্বা ও ফিটনেস প্রশিক্ষক।
গুলশানের একটি জিমে যেতে বলেছিলেন কৃতিকা। সে জিমের ভেতর ঢুকতেই ভারী ভারী ডাম্বেল, ট্রেডমিল, সাইকেলের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ কানে এল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সেই জিমে যন্ত্রের ধাতব শব্দ ছাপিয়ে হালকা একটা মিউজিক বেজে চলেছে। কিছুটা ভেতরে গিয়ে দেখলাম, মেঝেতে বসে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলছেন কৃতিকা। ডাকতেই ঘুরে তাকালেন। জুম্বার একটা সেশন মাত্রই শেষ করেছেন বলে কিছুটা সময় চেয়ে নিলেন তিনি।
জুম্বা একটি ফিটনেস প্রোগ্রাম, যেখানে সংগীতকে কাজে লাগিয়ে ছন্দোবদ্ধ শারীরিক নড়াচড়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায়। ফিটনেস লাইফস্টাইলে ভারসাম্য আনার জন্য এটি ‘পারফেক্ট ওয়ার্কআউট’। ওজন কমানো, বডি টোনিং, সহনশীলতা বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ দূর করতে জুম্বা দ্রুত কাজ করে। তরতাজা হয়ে ফিরে এসে এসব জানিয়েছিলেন কৃতিকা।
জুম্বার অনেক ধরন
জুম্বার অনেক ফরম বা ধরন আছে। এখানে গানের তালে চলে শরীরের কসরত। অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে অনেক সময় জোরে হাসতে হয়, চিৎকার করতে হয় কিংবা কাঁদতেও হয়। এগুলো জুম্বাকারীকে মানসিক শান্তি দেয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনা
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল তাঁকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হঠাৎ আগ্রহ জন্মাল ফিটনেসবিষয়ক লেখাপড়ার দিকে। তিনি যখন বিষণ্ন থাকতেন, ফিটনেস ক্লাসগুলো দেখে অনেক ভালো লাগত তাঁর। তাই এ বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বাবা কিংবা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাধা পাননি কৃতিকা। বরং পরিবারে একজন ফিটনেস ট্রেইনার থাকবে, এটা ভেবে সবাই নাকি বেশ আনন্দ পেয়েছিলেন।
অনলাইনে বিশ্বজুড়ে
২০২১ সালের শেষ থেকে কৃতিকা অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস করান। অনলাইনে তাঁর তিনটি ব্যাচের একটির শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের, একটির শিক্ষার্থীরা নাইজেরিয়ার, অন্যটিতে বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে ক্লাস করেন।
এ ছাড়া কৃতিকা অভিনয়শিল্পী দোয়েল ম্যাস, সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহা, বিটিআইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ বেশ কিছু মানুষের জুম্বা প্রশিক্ষক। তাঁর ১ হাজার শিক্ষার্থীর কেউ কলেজশিক্ষক, কেউ শিক্ষার্থী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ আবার প্রকৌশলী কিংবা ব্যাংকার। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষও জুম্বা করেন কৃতিকার সঙ্গে। যাঁরা জুম্বা করতে আসেন, তাঁদের অনেকেরই শারীরিক সমস্যা থাকে। তাই সবার অবস্থা বুঝে জুম্বা ও খাদ্যতালিকা তৈরি করেন তিনি। কৃতিকা জানান, এ জন্যই জুম্বা করাতে গেলে সার্টিফায়েড হতে হয়।
ধারণা যখন বদলে গেল
দেশের মানুষ স্বাস্থ্য বিষয়ে খুব একটা ভাবে না, এটাকে ভ্রান্ত ধারণা মনে করেন কৃতিকা। করোনার পর তাঁর নিজের ক্লাসে যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছেন, তাতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যবিষয়ক ধারণার যে নেতিবাচক গল্প তিনি জানতেন, সেটা বদলে গেছে। দেশেই কিছু করতে চেয়েছিলেন কৃতিকা। তবে তিনি জানতেন, দেশে জুম্বাকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জের।
সোনার মেডেল জয়
সম্প্রতি ব্যাংককে আয়োজিত এশিয়া ফিটনেস কনফারেন্স ২০২৩ আয়োজনে সবচেয়ে বেশি মেডেল নিজের ঝুলিতে সাজিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কৃতিকা। এই আয়োজনে মোট ৫টি মেডেল পেয়েছেন তিনি। এর আগেও ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে আয়োজিত এশিয়া ফিটনেস কনফারেন্সে ২৮টি দেশের প্রায় ৫০০ জন প্রশিক্ষকের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ছয় মাসব্যাপী বিভিন্ন কেস স্টাডি, ওয়ান টু ওয়ান সেশন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁদের। শুধু একজন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে নয়, সেখানে দেশকেও বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হয়েছে। সেই আয়োজনের ৮টি অংশের মধ্যে ৫টিতে সোনার মেডেল জিতে নেন কৃতিকা। সে সুবাদে পুরো আয়োজনের প্রথম রানার্সআপ আপ হন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবা
কৃতিকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। সেগুলোর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কিছু মানুষকে জুম্বা শেখান তিনি। তিন মাস পরপর এই কাজটি করেন কৃতিকা। সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষের জন্য একটি জুম্বা ও ফিটনেস ট্রেনিং আয়োজন করে। সেখানে প্রশিক্ষক ছিলেন কৃতিকা।

সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’। ৪০ পেরোনো নারীর মন, শরীর আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র ‘থেমে যাওয়া নয়, সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে বিশেষ সেশনের আয়োজন করে। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
২ দিন আগে
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
৪ দিন আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৫ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
৫ দিন আগে