মন্টি বৈষ্ণব, ঢাকা

নড়াইল জেলার মাসিমদিয়া গ্রামে জন্ম বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের। সূচিশিল্পী ইলোরা পারভিনও একই গ্রামের। এস এম সুলতান ছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু। ‘কাকু’ বলে ডাকতেন তাঁকে। শৈশব থেকে ছবি আঁকার শখ ছিল ইলোরার। তাঁর বয়স যখন ৮ কিংবা ১০ বছর, তখন থেকে এস এম সুলতানের ছবি আঁকা দেখতেন। ছবি আঁকা দেখতে দেখতে ছোট্ট ইলোরার মনে প্রশ্ন জাগত, কাকু ছবি আঁকছেন একটা সমান কাগজ বা কাপড়ের ওপর। কিন্তু ছবির ভেতরের দৃশ্য উঁচু-নিচু দেখানো হয় কীভাবে?
উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ইলোরা ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন এবং ওই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ফিরে যান নড়াইলে। তত দিনে এস এম সুলতান মারা গেছেন। তাঁর শিষ্য দুলাল চন্দ্র সাহার কাছে শৈশবের কৌতূহলের বিষয় থেকে জানতে চান, ছবি আঁকার সময় কোনো জায়গা উঁচু, কোনো জায়গাকে নিচু দেখা যায়—কীভাবে হয়? দুলাল বুঝতে পারেন, ছবি আঁকার প্রতি তাঁর আগ্রহ আছে। মূলত সূচিকর্মে আগ্রহ ছিল ইলোরার। তিনি ইলোরাকে শেখান, ছবির প্রাণ হলো রঙের মাধ্যমে আলো-ছায়া তৈরি করা। সেটা সুতা দিয়ে তৈরি করা বেশ কঠিন। কিন্তু তিনি ইলোরাকে সুই-সুতায় মানুষের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করতে থাকেন। এভাবেই ইলোরার সূচিশিল্পী হয়ে ওঠার শুরু।
এস এম সুলতানের আঁকা ছবির অনুপ্রেরণায় শুরু হয় ইলোরার সুই-সুতার কর্মযজ্ঞ। প্রায় ২৫ বছর আগে ১৯৯৮ সালে একরঙা কাপড়ে সুই-সুতায় ফুটিয়ে তোলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। সেটিই তাঁর প্রথম কাজ। ইলোরা পেশাদার চিত্রশিল্পী নন।
কিন্তু তিনি এ পর্যন্ত সুই-সুতার মাধ্যমে ১০০টির মতো ছবি তৈরি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইলোরার সূচিকর্ম’ নামে রয়েছে একটি পেজ। সেই পেজে অনেকে নিজেদের ছবি দিয়ে সেগুলো সুই-সুতায় বানিয়ে দিতে অনুরোধ করেন।
ইলোরার ছবি এখন দেশের বাইরে যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসে শোভা পাচ্ছে তাঁর শিল্পকর্ম। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘর তাঁর তৈরি চারটি ছবি সংগ্রহ করেছে। ইলোরা বলেন, ‘আমার বেশি ভালো লাগার বিষয় হলো, আমার ছবি দেখে কাউকে বলতে হয় না, সেটি কেমন হয়েছে। সবাই বলে অসাধারণ। এ কথা শুনে আমার মন ভরে ওঠে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
ইলোরা সুই-সুতা দিয়ে তৈরি করেছেন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি। ২০২২ সালে জেলা পর্যায়ে তিনি সেরা জয়িতার পুরস্কার পান। জাতীয় জাদুঘর থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছে সম্মাননা। ইলোরা পারভিনের অধীনে ৮-১০ জন নারী কাজ করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে শুরু করে এ পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, সাত বীরশ্রেষ্ঠ, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ বিখ্যাত অনেক ব্যক্তির প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে তৈরি করেন বঙ্গবন্ধুর বাবা, মা ও শেখ রাসেল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এ ছাড়া তৈরি করেন মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, রায়েরবাজার বধ্যভূমির ছবি। ইলোরা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন। আর একেকটি ছবি তৈরি করতে তাঁর সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস কিংবা দুই মাস। ইলোরার ছবির সর্বনিম্ন মূল্য ১ লাখ আর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। প্রতিটি ছবির নিচে সুতা দিয়ে লেখা থাকে শেষ করার তারিখ।
সুই-সুতার কাজ বেশ কঠিন। অনেক সময় আর ধৈর্যের প্রয়োজন এতে। মনের আনন্দে ইলোরা সেই কঠিন কাজটি করে চলেছেন।
সুই-সুতায় প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে তাঁর কোনো ক্লান্তি নেই; বরং কাজটি শান্তি জোগায় তাঁর মনে।

নড়াইল জেলার মাসিমদিয়া গ্রামে জন্ম বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের। সূচিশিল্পী ইলোরা পারভিনও একই গ্রামের। এস এম সুলতান ছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু। ‘কাকু’ বলে ডাকতেন তাঁকে। শৈশব থেকে ছবি আঁকার শখ ছিল ইলোরার। তাঁর বয়স যখন ৮ কিংবা ১০ বছর, তখন থেকে এস এম সুলতানের ছবি আঁকা দেখতেন। ছবি আঁকা দেখতে দেখতে ছোট্ট ইলোরার মনে প্রশ্ন জাগত, কাকু ছবি আঁকছেন একটা সমান কাগজ বা কাপড়ের ওপর। কিন্তু ছবির ভেতরের দৃশ্য উঁচু-নিচু দেখানো হয় কীভাবে?
উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ইলোরা ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন এবং ওই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ফিরে যান নড়াইলে। তত দিনে এস এম সুলতান মারা গেছেন। তাঁর শিষ্য দুলাল চন্দ্র সাহার কাছে শৈশবের কৌতূহলের বিষয় থেকে জানতে চান, ছবি আঁকার সময় কোনো জায়গা উঁচু, কোনো জায়গাকে নিচু দেখা যায়—কীভাবে হয়? দুলাল বুঝতে পারেন, ছবি আঁকার প্রতি তাঁর আগ্রহ আছে। মূলত সূচিকর্মে আগ্রহ ছিল ইলোরার। তিনি ইলোরাকে শেখান, ছবির প্রাণ হলো রঙের মাধ্যমে আলো-ছায়া তৈরি করা। সেটা সুতা দিয়ে তৈরি করা বেশ কঠিন। কিন্তু তিনি ইলোরাকে সুই-সুতায় মানুষের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করতে থাকেন। এভাবেই ইলোরার সূচিশিল্পী হয়ে ওঠার শুরু।
এস এম সুলতানের আঁকা ছবির অনুপ্রেরণায় শুরু হয় ইলোরার সুই-সুতার কর্মযজ্ঞ। প্রায় ২৫ বছর আগে ১৯৯৮ সালে একরঙা কাপড়ে সুই-সুতায় ফুটিয়ে তোলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। সেটিই তাঁর প্রথম কাজ। ইলোরা পেশাদার চিত্রশিল্পী নন।
কিন্তু তিনি এ পর্যন্ত সুই-সুতার মাধ্যমে ১০০টির মতো ছবি তৈরি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইলোরার সূচিকর্ম’ নামে রয়েছে একটি পেজ। সেই পেজে অনেকে নিজেদের ছবি দিয়ে সেগুলো সুই-সুতায় বানিয়ে দিতে অনুরোধ করেন।
ইলোরার ছবি এখন দেশের বাইরে যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসে শোভা পাচ্ছে তাঁর শিল্পকর্ম। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘর তাঁর তৈরি চারটি ছবি সংগ্রহ করেছে। ইলোরা বলেন, ‘আমার বেশি ভালো লাগার বিষয় হলো, আমার ছবি দেখে কাউকে বলতে হয় না, সেটি কেমন হয়েছে। সবাই বলে অসাধারণ। এ কথা শুনে আমার মন ভরে ওঠে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
ইলোরা সুই-সুতা দিয়ে তৈরি করেছেন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি। ২০২২ সালে জেলা পর্যায়ে তিনি সেরা জয়িতার পুরস্কার পান। জাতীয় জাদুঘর থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছে সম্মাননা। ইলোরা পারভিনের অধীনে ৮-১০ জন নারী কাজ করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে শুরু করে এ পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া, সাত বীরশ্রেষ্ঠ, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ বিখ্যাত অনেক ব্যক্তির প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে তৈরি করেন বঙ্গবন্ধুর বাবা, মা ও শেখ রাসেল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এ ছাড়া তৈরি করেন মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, রায়েরবাজার বধ্যভূমির ছবি। ইলোরা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন। আর একেকটি ছবি তৈরি করতে তাঁর সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস কিংবা দুই মাস। ইলোরার ছবির সর্বনিম্ন মূল্য ১ লাখ আর সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। প্রতিটি ছবির নিচে সুতা দিয়ে লেখা থাকে শেষ করার তারিখ।
সুই-সুতার কাজ বেশ কঠিন। অনেক সময় আর ধৈর্যের প্রয়োজন এতে। মনের আনন্দে ইলোরা সেই কঠিন কাজটি করে চলেছেন।
সুই-সুতায় প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে তাঁর কোনো ক্লান্তি নেই; বরং কাজটি শান্তি জোগায় তাঁর মনে।

লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
২৬ মিনিট আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
২ ঘণ্টা আগে
সত্তর দশকের তেহরান ছিল আজকের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই ভিন্ন তেহরানের এক প্রাণচঞ্চল কিশোরী ছিলেন মেরিনা। যে কিশোরী সমুদ্রসৈকতে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে গানের তালে নেচে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব মেরিনার রঙিন শৈশব নিমেষে ধূসর করে দেয়। ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয়
৩ ঘণ্টা আগে