
নারীর প্রতি বৈষম্য শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি কতটা জায়গা করে নিচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপে সিডও দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
‘সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬,১ (গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার কর; নারীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত কর’—এই দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই মতবিনিময় সভা আয়োজন করে।
সিডও সনদের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সিডও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়নকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বে সঙ্গে দেখে। এই রিপোর্টে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে সব স্থানে ঘাটতি আছে, সেখানে গুরুত্ব দিতে হবে এবং যে অর্জনগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। সিডও বিষয়ক দাবি তিনি সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান।
নারীদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা বাস চালুর বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর মতে, নারীর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তাঁরা নিরাপদে বাঁচতে পারবেন এবং অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার পাবেন।
নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, সম্প্রতি একটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৯ দিনের মধ্যে রায় হয়েছে। চট্টগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলাতেও মাত্র আট কর্মদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুধু আলোচিত কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে নারীদের ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, নতুন প্রজন্মের তরুণদের রাজনীতিতে আসার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাঠে থাকা তরুণীদের এখন রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। যারা রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁদের মধ্যেও নারী-পুরুষের সমতা বা জেন্ডার সমতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না।
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। একজন মা-বাবার সন্তান, পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-নাতনিদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার ধারণা তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদের সদস্য লুনা নূর এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট ও ইউনিট ম্যানেজার (জেন্ডার রেসপনসিভ গভর্ন্যান্স) তপতী সাহা, অর্থনীতিবিদ ও জননীতি বিশ্লেষক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সম্মানিত আলোচক হিসেব উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী প্রমুখ।

গাজায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্না করছেন মা। লাখো মানুষ অবরোধের মধ্যে খাদ্য এবং ওষুধের জন্য লড়াই করছে। এদিকে আরেকটি যুদ্ধ চলছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সেটি অস্ত্রের নয়, এই যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন—পশ্চিমা নারীবাদ কি সব নারীর জন্য সমানভাবে কথা...
১ দিন আগে
গ্রিক বংশোদ্ভূত আনাস্তাসিয়া ১৫ বছর বয়সে দাসী হিসেবে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে আসেন। রূপ ও বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে সুলতান প্রথম আহমেদ তাঁকে গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম দেন কোসেম। রাজপ্রাসাদে নিজের অবস্থান শক্ত করে ১৬০৫ থেকে ১৬১৭ সাল পর্যন্ত তিনি হাসেকি সুলতান বা সুলতানের প্রিয় স্ত্রী হিসেবে....
১ দিন আগে
নারী অধিকারের অন্যতম মৌলিক সনদ বলা হয় সিইডিএডব্লিউ বা সিডওকে। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৯টি দেশ জাতিসংঘ ঘোষিত এই সনদে স্বাক্ষর বা সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ এখন পর্যন্ত এই সনদের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেয়নি।
১ দিন আগে
কায়রোর অদূরে নীল নদের বদ্বীপ এলাকার এক ছোট্ট ঘর। সেখানে এখন নতুন শিক্ষাবর্ষের আবাহন। বাতাসে ভাসছে নতুন বইয়ের গন্ধ। কিন্তু সাত বছরের মেয়ের মা আমাল আবদেল হামিদ, এক অদ্ভুত দোলাচলে দিন গুনছিলেন। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এক ঘোর অন্ধকার রাত্রির শেষে প্রথমবারের মতো তাঁর চোখে ফুটে ওঠে ভোরের আলো।
২ দিন আগে