
নারী কর্মজীবীদের মধ্যে অধিকাংশ চাকরি ছাড়ছেন পারিবারিক দায়িত্ব এবং মাতৃত্বের কারণে। কর্মজীবী নারীদের ৭৫ শতাংশই এই দুটি কারণে স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে চাকরি থেকে বিরতি নিচ্ছেন বা পেশাগত জীবনে ইতি টানছেন। এ ছাড়া বিরূপ কর্মপরিবেশ, সামাজিক চাপ এবং উচ্চশিক্ষার কারণেও অনেকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। কর্মক্ষেত্র থেকে বিরতি নেওয়া নারীদের কাজে ফেরাতে ব্র্যাকের ‘ব্রিজ রিটার্নশিপ’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ব্রিজ রিটার্নশিপের আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীদের কর্মজীবন থেকে বিরতি নেওয়া এবং পুনরায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বছর এই কর্মসূচিতে ১ হাজার ২০০ আবেদনকারীর মধ্যে ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পারিবারিক দায়িত্ব ও ৩৬ শতাংশ মাতৃত্বকালীন সময়কে চাকরি ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণে চাকরি ছাড়ার কথা জানিয়েছেন ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, বিরূপ কর্মপরিবেশ সাড়ে ৮ শতাংশ ও সামাজিক চাপের জন্য ৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, বিরতির পর কাজে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁদের মূল অনুপ্রেরণা ছিল ক্যারিয়ারে উন্নতি। সাড়ে ৭৬ শতাংশ নারী জানান, তাঁরা ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে কাজে ফিরতে চান। আর্থিক স্বাধীনতার জন্য কাজে ফিরতে চান সাড়ে ৫৬ শতাংশ, নিজস্ব পরিচয় তৈরির ৬২ দশমিক ২ শতাংশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পরিবারের জন্য অবদান রাখতে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কাজে ফিরতে চান।
ব্র্যাকের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার মৌটুসী কবীর জানান, কর্মক্ষেত্র থেকে বিরতি নেওয়া নারীদের কাজে ফেরাতে ব্র্যাকের ব্রিজ রিটার্নশিপ কর্মসূচিটি গত বছর থেকে শুরু হয়। সে সময় প্রায় ১ হাজার ১০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
মৌটুসী কবীর আরও জানান, এ বছর কর্মসূচিতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কয়েক ধাপে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ২৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যাঁরা ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আগামী ছয় মাস কাজ করবেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালা, মেন্টরিংসহ পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করা হবে, যেন এই দক্ষ পেশাজীবী নারীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিতে পারেন।
ব্রিজ রিটার্নশিপে এবারের আবেদনকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্র থেকে ছয় বছরের বেশি বিরতি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারীর। সবচেয়ে বেশি ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ আবেদনকারীর এক থেকে দুই বছরের বিরতি ছিল। অন্যদিকে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা ছিল সাত বছরের বেশি। ৫৮ শতাংশ আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্রিজ রিটার্নশিপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, যে নারীরা কোনো কারণে পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাঁদের কর্মক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশে সহায়তা করা। ব্রিজ রিটার্নশিপে অংশগ্রহণকারীরা ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকল্পের তত্ত্বাবধান, গবেষণা ও অন্যান্য কাজে যুক্ত থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এই উদ্যোগ নারীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে সহায়ক হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়।

১৪ বছর বয়সে কাজের অংশ হিসেবে মহাকাশযানের একটি শৌচাগার (স্পেস টয়লেট) পরিষ্কার করতে হয়েছিল ক্লেয়ার পারফিটকে। পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মহাকাশ নিয়ে পেশাজীবন গড়ার ক্ষেত্রে এটিই ছিল তাঁর প্রথম হাতেখড়ি।
৭ ঘণ্টা আগে
একসময় ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে শুধু পুরুষদেরই একচেটিয়া অধিকার ছিল। ধীরে ধীরে সেই অধিকারে ভাগ বসিয়েছেন নারীরাও। আর তাতে নারী সাংবাদিকদের জন্য উন্মোচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত। এ যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমেরিকান ক্রীড়া সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি লেসলি ভিসার। প্রেস বক্সের ‘নিষিদ্ধ’ দেয়াল ভাঙা...
৫ দিন আগে
১৫০৭ সালে ক্যাথরিন অব অ্যারগন স্পেনের দূত হয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখেন। এরপর ১৫২৯ সালে ফ্রান্সের লুই অব স্যাভয় এবং অস্ট্রিয়ার মার্গারেট মিলে ইতিহাসের বিখ্যাত ‘লা পেক্স দেস দামেস’ বা নারীদের শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তখন পর্যন্ত বিশ্বরাজনীতিতে ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ শব্দটির জন্ম হয়নি।
১২ দিন আগে
আমি একজন উদ্যোক্তা। ছয় বছর ধরে রেজিনের পণ্য তৈরি ও বিপণন করছি। পণ্যের ডিজাইন নিজেই করি। সেগুলো কীভাবে কপিরাইট করে নিতে পারি?
১৩ দিন আগে