
বেশ দরিদ্র পরিবার থেকে ধনকুবেরে পরিণত হয়েছেন চীনের ৫৫ বছর বয়সী নারী উদ্যোক্তা ইউ ওয়েনহং। সৌন্দর্যখাতে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে পরিচিতি পেলেও এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন এক ভিন্ন কারণে। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন এই নারী ধনকুবের। আর এই বিয়েতে ‘যৌতুক’ দিয়েছেন ৫ কোটি ইউয়ান টাকার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রায়)। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
ইউ ওয়েনহং চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান শহরে জন্ম নেন। বাবার মৃত্যুতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিবার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁর। মা ও ছোট ভাইসহ সংসারের খরচ চালাতে সৌন্দর্যসেবা খাতে কাজ শুরু করেন তিনি। ভ্রু ট্যাটু করার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে ইউ নিজের বিউটি পার্লার খোলেন।
এরপর ২০০৪ সালে হংকংয়ে ‘ইয়াং মেরি রিয়াল ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ’ গঠন করেন এই নারী উদ্যোক্তা। ধীরে ধীরে চিকিৎসার মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন ব্যবসার এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এ ধরনের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার ছাড়াই ত্বক ও চেহারার শ্রী বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক বছরেই তাঁর কোম্পানির অংশীদার দোকানের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যায়।

তবে সাফল্যের সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্কও। ইউ ও তাঁর সহযোগীরা ‘পোর্সেলিন ডল’ নামক এক বিতর্কিত চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যেখানে গ্রাহকের শরীর থেকে সিরাম নিয়ে পুনরায় মুখে ইনজেকশন দেওয়া হতো, যা ত্বককে মসৃণ ও ধবধবে ফর্সা করার দাবি করত। যদিও এমন চিকিৎসার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও এর একেকটি সেশনের মূল্য ১৫ হাজার ইউয়ান বা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
পরে ২০২২ সালে ইউ ওয়েনহং বড় ধরনের কর কেলেঙ্কারিতেও জড়ান। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৪৭০ কোটি ইউয়ান আয় গোপন এবং ১৪ কোটি ৭০ লাখ ইউয়ান কর ফাঁকির অভিযোগ ওঠে।
এসবের মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ নাটকীয় সময় পার করেছেন এই নারী উদ্যোক্তা। জানা যায়, এই বিয়ের আগে তিনি আরও পাঁচবার বিয়ে করেছেন। ৪৫ বছর বয়সে রোলান্দো লেকায় নামক ২৫ বছর বয়সী এক আলবেনীয় মডেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ওয়েনহং। ১০ বছরের সেই সম্পর্কে তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে।

অনলাইনে ইউ নিজেকে একজন ‘নির্ভীক নারী’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর স্বাবলম্বী ও লড়াকু নারী প্রতিচ্ছবি ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্র্যান্ডের প্রসারেও সাহায্য করেছে। তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, ‘সুখী হতে হলে নারীকে অবশ্যই অর্থ উপার্জন করতে হবে’ এবং ‘পুরুষ নয়, কেবল নিজের উপার্জিত অর্থই শেষ পর্যন্ত ভরসা দেয়।’
ইউ ওয়েনহংয়ের জীবনে নতুন মোড় আসে লিইউ ইউচেনের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। রেনরেন নামে পরিচিত লিইউ ইউচেনের জন্ম ২০০১ সালে। তিনি ইউ-এর কোম্পানিতে মডেল হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁদের পরিচয় হয়। সম্পর্ক শুরুর পর ইউ তাঁকে রোলস রয়েস ও মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো দামি গাড়ি উপহার দেন।
সম্প্রতি তাঁদের একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়, যেখানে ইউএর ১৭ বছর বয়সী ছেলেকেও দেখা গেছে। ভিডিওতে ছেলের অস্বস্তিকর অভিব্যক্তি নেটিজেনদের নজর কাড়ে।
চলতি মাসে বিয়ে করেছেন ওয়েনহং আর রেনরেন। বিয়েতে ইউ যৌতুক হিসেবে রেনরেনকে নগদ টাকা, সম্পত্তি ও বিলাসবহুল গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি ইউয়ান মূল্যের সম্পদ উপহার দিয়েছেন।

এই সম্পর্ক নিয়ে রেনরেন বলেন, ‘আমি কখনো এমন জীবন কাটানোর পরিকল্পনা করিনি। সবকিছু এভাবে বদলে যাবে তা কেইউ ভাবেনি। সুযোগটি আমার কাছে এমনিতেই এসেছে। এমন সুযোগ কে না চায়?’
এই বিয়ে নিয়ে নেট দুনিয়ায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা। একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘এটি একজন ধনী বুড়োর তরুণী ইনফ্লুয়েন্সারকে বিয়ে করার ঘটনারই নারী সংস্করণ মাত্র। সবাই এখানে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলছে।’
অন্য একজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তিনি বিয়ে করতে এত ভালোবাসেন কেন? এত টাকা থাকলে স্রেফ প্রেম করলেই তো হতো!’
আবার আরেকজন লিখেছেন, ‘আশা করি তিনি একটি শক্ত বিয়ের চুক্তি (প্রিনাপশিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) সই করিয়েছেন।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি আন্তর্জাতিক শিকার ও অশ্বারোহী প্রদর্শনী—আদিহেক্সে (Adihex) একটি সাদা গিরফ্যালকন (Gyrfalcon) বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ দিরহামে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বিরল এই বাজপাখিটির মূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।
৬ ঘণ্টা আগে
ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়ামে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে চালকের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় বেশ কিছু সময় ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সড়কে যানজট তৈরি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
৬ দিন আগে
মুম্বাইয়ের গুণ্ডাভালি মেট্রো স্টেশনের এক আদা রঙের বিড়ালকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে মজার এক কাণ্ড। যাত্রীরা মজা করে তাকে চাকরি দেওয়ার দাবি তুলতেই মেট্রো কর্তৃপক্ষও সেই রসিকতায় সায় দিয়ে বিড়ালটির নাম দিয়েছে ‘চিফ ফেলাইন অফিসার।’
৭ দিন আগে
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট ফুজিতে সাত বছর বয়সী ছেলেকে একা ফেলে চলে গিয়েছিলেন বাবা। শিশুটির কাছে কেবল একটি কোমল পানীয় এবং সামান্য কিছু হালকা খাবার (স্ন্যাকস) ছিল। কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ার মধ্যে ২ হাজার মিটারের (৬,৫০০ ফুট) বেশি উচ্চতায় একটি বেঞ্চে শিশুটি একা বসে ছিল।
৮ দিন আগে