Ajker Patrika

অলিম্পিকে বেশি সময় উড়তে ‘পুরুষাঙ্গে ইনজেকশন’ নিচ্ছেন স্কি জাম্পাররা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অলিম্পিকে বেশি সময় উড়তে ‘পুরুষাঙ্গে ইনজেকশন’ নিচ্ছেন স্কি জাম্পাররা
আজ থেকে মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। ছবি: এএফপি

অলিম্পিক মানেই রেকর্ড আর সাফল্যের লড়াই। কিন্তু ২০২৬ মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের মঞ্চে এবার এক নজিরবিহীন ও বিচিত্র বিতর্কের জন্ম হয়েছে। পুরুষ স্কি জাম্পাররা তাঁদের লিঙ্গে ‘হায়ালুরোনিক অ্যাসিড’ ইনজেকশন দিয়ে শরীরের আয়তন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্দেশ্য—শরীরের পরিধি বাড়িয়ে বড় মাপের সুট পরা, যা বাতাসে ওড়ার সময় বাড়তি সুবিধা দেবে।

জার্মান সংবাদপত্র বিল্ডের এক প্রতিবেদনে প্রথম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। স্কি জাম্পিংয়ে ব্যবহৃত জাম্প সুটের উপরিভাগ বা সারফেস এরিয়া যত বড় হয়, বাতাসে ওড়ার সময় অ্যাথলেট তত বেশি সময় ভেসে থাকতে পারেন। ফিস (এফআইএস) বা আন্তর্জাতিক স্কি ফেডারেশনের পুরুষ রেস ডিরেক্টর সান্দ্রো পার্টিলে বলেন, ‘সুটের প্রতি সেন্টিমিটার অংশ গুরুত্বপূর্ণ। সুটের উপরিভাগ যদি ৫ শতাংশও বড় হয়, তবে আপনি অনেকটা পথ বেশি উড়ে যেতে পারবেন।’

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিযোগীরা তাঁদের লিঙ্গে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন নিচ্ছেন যাতে পরিধি ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। যেহেতু বডি স্ক্যানারের মাধ্যমে অ্যাথলেটের মাপ নিয়ে সুট তৈরি করা হয়, তাই শরীরের মাপ বাড়লে বড় সুট পরার বৈধতা পাওয়া যায়।

মিলান-কোর্টিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (ওয়াদা বা ডব্লিউএডিএ) মহাপরিচালক অলিভিয়ের নিগলি বলেন, ‘স্কি জাম্পিংয়ের কারিগরি বিষয়গুলো আমার বিস্তারিত জানা নেই। তবে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য যদি ডোপিং-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আমরা অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব।’

সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ওয়াদার পোলিশ সভাপতি উইটোল্ড বাঙ্কা কৌতুক করে বলেন, ‘পোল্যান্ডে স্কি জাম্পিং খুবই জনপ্রিয়। আমি কথা দিচ্ছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখব!’

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাথলেটদের থ্রি-ডি বডি স্ক্যানারের মাধ্যমে মাপ নেওয়া হয়। তাঁদের সুটের মাপ শরীরের চেয়ে মাত্র ২ থেকে ৪ সেন্টিমিটার বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে। উল্লেখ্য, স্কি জাম্পিংয়ে সুট নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত আগস্টে নরওয়ের দুই অলিম্পিক পদকজয়ী মারিয়াস লিন্ডভিক এবং জোহান আন্দ্রে ফরফাং তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা বিশেষ সুতার সাহায্যে সুটের আকার পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন।

হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের প্রভাব শরীরে ১৮ মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক স্কি ফেডারেশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের ইনজেকশন ব্যবহারের কোনো অকাট্য প্রমাণ তাদের হাতে নেই।

উল্লেখ্য, আজ থেকে মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে শুরু হবে শীতকালীন অলিম্পিকের স্কি জাম্পিং প্রতিযোগিতা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি, ছাত্রদলে ১১ হল ভিপি ও জিএস

তবে কি এপস্টেইনই ছিলেন বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা ‘সাতোশি’

ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চ, জাবের-আম্মারসহ আহত কয়েকজন

চীনের হোটেলে গোপন ক্যামেরার বাণিজ্য, পর্নো সাইটে নিজেকে আবিষ্কার করছেন দর্শকেরা

ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৮

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত