‘খাচুয়া মানে খচ্চর, জানিস তো?’
‘কয়েক লাখবার শুনেছি আপনার মুখেই। ডায়লগ চেঞ্জ করেন এবার।’
মুখের ওপরের মাছি তাড়াবার মতো করে হাত নেড়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন তিনি। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। মনে হলো, মাথার ভেতরের রক্ত চলাচলও দেখতে পাচ্ছেন তিনি। এ রকম সময় এক ধরনের অস্বস্তি হয়। আমারও হলো।
‘এমনে তাকানোর মানে কী? আমার অস্বস্তি হয়।’
‘গভীর অভিমান হচ্ছে রে। বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিমান।’
‘কত হবে এই শ্রাবণে?’
আমার পূর্বপুরুষ পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া বহুবার আমাকে বলেছেন, তাঁর বয়স দেড় শ বছর। আমি প্রবলভাবে প্রতিবাদ করেছি প্রতিবারই। কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে কয়েক দিন আগে আমাকে বলেছেন, ‘তোকে খুশি করার জন্য কিছু তথ্য গোপন করেছি। তাতে কী হলো?’ সেদিন থেকে তাঁর বয়স নিয়ে আমি আর কিছু বলি না। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, কোনো এক শ্রাবণ মাসের ঘোর বৃষ্টিবাদলের ঠিক মধ্যরাতে তাঁর জন্ম হয়েছিল। দিবাগত রাত শেষে পুরুত ঠিকুজি করতে এলে বেদম চমকে যান শিশু পূর্ণচন্দ্রের ভাগ্যরেখা দেখে। পুরুত নাকি বলেছিলেন, এ ছেলের জীবনে প্রচুর ফিফটি–ফিফটি আসবে।
পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া বললেন, ‘বললে কি আর বিশ্বাস করবি? এই শ্রাবণে এক শ বাহান্ন হবে।’ আমি মনে মনে হাসি। তিনি এবার হিসাব কষতে বসলেন। ‘তোর বাপের বয়স কত?’ বললাম, ‘বাহাত্তর।’ তিনি বললেন, ‘তোর ঠাকুরদা বেঁচে থাকলে কত বছর হতো?’ একটু হিসাব করে বললাম, ‘নব্বই।’ তিনি বললেন, ‘নব্বই দুকুনে এক শ আশি। আমি তার কয়েক বছর বাদ দিয়ে বলছি এক শ বাহান্ন। তাতেও তোর সমস্যা? মাইনাস তো করলাম আটাশ বছর।’ বললাম, ‘না, ঠিক আছে। মাইনাস করতে হবে না।’
পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া মুখ ঘুরিয়ে রইলেন। বুঝলাম, ভীষণ অভিমান করেছেন তিনি। এবার একটু পটানো দরকার। বললাম, ‘জ্যেঠু। তোমার এত অভিমান করে কেন, বল তো?’ আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে আমার পূর্বপুরুষ পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া আমার দিকে ফিরে তাকালেন। তাঁর চোখের কোণে চিকচিক করছে জল। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে আছি এক ইতিহাসের সামনে। জানি, এবার তিনি মুখ খুলবেন। আর আমার সামনে টুপটাপ ঝরে পড়বে ইতিহাসের কোনো গল্প, যে গল্প কোথাও লেখা নেই, যে গল্প মানুষের মুখে মুখে ফেরে জনপদ থেকে জনপদে, যে গল্প আসলে মহাকালের। আমি সে গল্প বলব আমার সন্তানকে, সে তার সন্তানকে, তার সন্তানও বলবে তার সন্তানকে।
‘ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—তিন আমলই দেখলাম। আজও একটা জিনিস বুঝলাম না।’
‘কী?’
‘দেশ আর রাষ্ট্র। দেশে মানুষ থাকে, বুঝলি। তারা সম্পর্কে আত্মীয়, পড়শি। তাদের মধ্যে এজমালি ছাদের রোদের ভাগাভাগি নিয়ে ঝগড়া হয়, বিবাদ হয়। তাতে কারও ঠিক অপমান হয় না। রাষ্ট্রে থাকে জনগণ। এদের কপালে থাকে অপমান। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল। বাংলাদেশও… দেখ। আচ্ছা, জনগণ অপমানিত হলে তার দায় কে নেবে?’
আরও পড়ুন

যুগে যুগে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়া হিসেবে আমরা ইন্টারনেটের ডেটা খরচ করে সেসব তামাশা দেখি। কিন্তু এবারের তামাশাটা একটু বেশিই ‘স্বর্গীয়’ হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি কিনা নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই খুব একটা গুরুত্ব দেন না, তিনি এবার এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রায় ‘যিশুর আসনে ব
১৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য বা ‘হার্টল্যান্ড’ অঞ্চলে বর্তমানে এক অদ্ভুত সংকট দেখা দিয়েছে। নদীগুলোতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা মাছ ধরার চেয়ে বরং মাছের আঘাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন বেশি। ‘এশিয়ান কার্প’ প্রজাতির মাছ জল থেকে লাফিয়ে নৌকায় জেলেদের ওপর আছড়ে পড়ছে, ফলে অনেকেই এখন আত্মরক্ষার জন্য মাথায় ফুটবল...
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তপ্ত মরুভূমি। মাইলের পর মাইল কেবল ধূ-ধূ প্রান্তর আর ঝোপঝাড়। এই জনমানবহীন রুক্ষ প্রকৃতির মাঝখানেই হঠাৎ চমকে দেবে একটি সাবমেরিন! আর তার পাশেই পতপত করে উড়ছে একটি অজানা পতাকা। এটি কোনো মরীচিকা নয়, বরং বিশ্বের কনিষ্ঠতম এক ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্র’ বা মাইক্রোনেশন, যার নাম ‘রিপাবলিক
৯ দিন আগে
ইউরোপে অদ্ভুত এই চুরির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গয়না বা টাকা নয়, এবার চুরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ চকলেট। গত সপ্তাহে ইতালির একটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ট্রাক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। ট্রাকটিতে ছিল প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বার।
১৪ দিন আগে