বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে প্রধান উৎসব হলো পয়লা-বৈশাখ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে চলে নানা আয়োজন। এই দিনটি একদিকে যেমন বাঙালির-সংস্কৃতি-র পরিচয় বহন করে, অন্যদিকে এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। রমনার বটমূল থেকে শুরু করে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা—সবখানেই নববর্ষের রঙিন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসবও এই দিনের এক বিশেষ আকর্ষণ। পয়লা-বৈশাখ কেন্দ্রিক সরকারি ও বেসরকারি সকল কর্মসূচি, উৎসবের সংবাদ এবং বিশেষ ফিচারের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের এই পেজে চোখ রাখুন।

বছর যায়, বছর আসে। সময়ের অবিরাম প্রবাহে মানুষের জীবনে জমা হয় অসংখ্য স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা। পুরোনোকে বিদায় এবং নতুনকে বরণে যখন সবাই ব্যস্ত, তখন দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠকবন্ধু শাখাগুলোও বসে থাকেনি।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না, বিশেষ করে যারা অনির্বাচিত শাসক গোষ্ঠী। আমাদের সংস্কৃতিতে সংকোচনের নীতি অনেক শাসকই গ্রহণ করেছে। নিজের মতো করে একটা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। দেশভাগের পর থেকেই জিন্নাহর এই আকাঙ্ক্ষা শুরু হয়।

এবারের পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন ছিল লক্ষণীয়। রমনা বটমূলে ছায়ানটের চিরাচরিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসরোবরে সুরের ধারা ও টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বৈশাখী উৎসবে সংস্কৃতিমনা বাঙালিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। গত বছরের পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন ছিল অনেকটা প্রাণহীন ও শঙ্কায় ভরা।

পয়লা বৈশাখের ক্ষেত্রে, ষাটের দশকের শেষ দিকে ব্যাপারটা একধরনের প্রতিবাদের মধ্য দিয়েই নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেটা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অগণতান্ত্রিক ও বাংলাদেশ-বিরোধী, পূর্ববঙ্গ-বিরোধী, এই অঞ্চলের জনমানুষ ও বাঙালি জনগোষ্ঠী-বিরোধী যে অবস্থান—সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের অংশ হিসেবেই আসলে...