‘অনলি ফ্যানস’-এ যেতে কিশোরীদের প্রলুব্ধ করছে টিকটক

স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের বিরুদ্ধে তরুণী ও কিশোরীদের কাছে ‘অনলি ফ্যানস’-এর প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটির কিছু কনটেন্ট নির্মাতা কৌশলে তরুণীদের অনলি ফ্যানসের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট বিক্রির প্ল্যাটফর্মে যেতে উৎসাহিত করছেন।
যুক্তরাজ্যের সিজ (সেন্টার টু এন্ড অল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন) এবং অস্ট্রেলিয়ার কালেকটিভ শাউটের গবেষকেরা যৌথভাবে ‘টিকটক-টু-অনলি ফ্যানস পাইপলাইন’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
কয়েক মাস ধরে তাঁরা পোস্টগুলো দেখেছেন এবং টিকটকের অ্যালগরিদম তাঁদের যেসব কনটেন্ট দেখার পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলো অনুসরণ করেছেন।
টিকটকে সরাসরি অনলি ফ্যানসের নাম উল্লেখ করা কিংবা ওই প্ল্যাটফর্মের লিংক দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে এ ধরনের অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়ই ইমোজি, সাংকেতিক শব্দ ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট বিক্রির ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে ভাইরাল হওয়া টিকটক ভিডিওগুলোতে কীভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ইঙ্গিত লুকিয়ে রাখা হয়। এসব ভিডিওর অনেকগুলোতেই নির্মাতারা ‘গেট রেডি উইথ মি’ (জিআরডব্লিউএম) ধরনের পোস্ট করেন। অর্থাৎ, কোথাও যাওয়ার বা কোনো কাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাজগোজের ভিডিও ধারণ করেন তাঁরা।
দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে কেউ কেউ ‘পর্ন’ শব্দের পরিবর্তে ‘কর্ন’ লিখছেন। আবার কেউ কেউ ভুট্টার ইমোজির সঙ্গে তারার (স্টার) ইমোজি ব্যবহার করছেন।
ভাইরাল হওয়া কিছু পোস্টে অনলি ফ্যানসের কনটেন্ট নির্মাতারা প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করে কত অর্থ আয় করেছেন, তা অনুসারীদের জানিয়েছেন। সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ওই প্ল্যাটফর্মকে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘এসব পোস্টে সবচেয়ে বেশি প্রচারিত বার্তাগুলোর একটি হলো, অনলি ফ্যানসে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করলে বিলাসবহুল জীবন পাওয়া যায়। এমন জীবন, যেখানে স্বাধীনতা, আনন্দ, বন্ধুত্ব এবং প্রচুর অর্থ রয়েছে।’
প্রতিবেদনটির বিষয়ে টিকটকের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘টিকটকে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শেয়ার করা বা প্রদর্শন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আমাদের কমিউনিটি গাইডলাইন কার্যকর করতে আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করি। পাশাপাশি আমাদের ব্যবস্থাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্ট কিশোর-কিশোরীদের কাছে পৌঁছাতে না পারে।’
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল আদালতে দেওয়া কয়েকটি জবানবন্দির তথ্য তুলে ধরা হয়। সেসব জবানবন্দিতে দেখা গেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে টিকটকের কর্মীরা বারবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। আত্মহত্যাবিষয়ক কনটেন্ট এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।
কর্মীরা অভিযোগ করেন, দর্শকদের অর্থের বিনিময়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণে তৈরি সরাসরি সম্প্রচার দেখার সুযোগ দেওয়া হতো। এ ধরনের ‘লেনদেনভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট’ থেকে প্রতিষ্ঠানটি আয় করত। এতে টিকটক সম্ভাব্য আর্থিক অপরাধের ঝুঁকিতেও পড়তে পারে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে জরিপ পরিচালনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কারণ, এমন জরিপের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) কাছে উপস্থাপন করতে হতো।












