Ajker Patrika

ইন্টারনেট ছাড়াই বার্তা পাঠানোর অ্যাপ ‘বিটচ্যাট’ সরানোর নির্দেশ ভারতের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইন্টারনেট ছাড়াই বার্তা পাঠানোর অ্যাপ ‘বিটচ্যাট’ সরানোর নির্দেশ ভারতের
ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কাশ্মীরে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। গতকাল শ্রীনগরে। ছবি: এএফপি

ইন্টারনেট ও সেলুলার নেটওয়ার্ক ছাড়াই ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানকারী অ্যাপ্লিকেশন ‘বিটচ্যাট’ (Bitchat) সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।

মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন কোড হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিটহাব’-কে এই সংক্রান্ত একটি নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কো–অর্ডিনেশন সেন্টার’ (আই৪সি)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ওই নোটিশের একটি অনুলিপি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে এনেছেন সামাজিক মাধ্যমটির সাবেক প্রধান নির্বাহী ও বিটচ্যাটের অন্যতম ডেভেলপার জ্যাক ডরসি।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া ওই পোস্টে ডরসি লিখেছেন, ‘ভারত সরকার বিটচ্যাটের মতো প্রযুক্তি পছন্দ করে না এবং এটি সরিয়ে নিতে চায়।’ গত ২৩ জুলাই তারিখের ওই নোটিশের বিষয়ে ভারত সরকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আই৪সি-র পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, বিটচ্যাট অ্যাপটি সেলুলার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা কেন্দ্রীয় কোনো সার্ভারের ওপর নির্ভর না করেই ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ দেয়।

এতে মোবাইল নম্বর যাচাই বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না এবং কোনো যোগাযোগের তথ্য বা লগ সংরক্ষিত থাকে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য যেকোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা ও আইনি তদন্ত পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্র আইনি নজরদারি এড়াতে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। নোটিশ অনুযায়ী, সে সময় সেখানে অনেক বিক্ষোভকারীকে ইন্টারনেটের বিকল্প হিসেবে ব্লুটুথভিত্তিক বার্তা আদান-প্রদানকারী অ্যাপ ব্যবহার করতে দেখা যায়।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে আই৪সি জানায়, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বেআইনি সমাবেশ, সহিংস আন্দোলন সমন্বয়, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও উগ্রবাদ ছড়াতে অপব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কেন্দ্রীয় সেবা প্রদানকারী কেউ না থাকায় ব্যবহারকারীর পরিচয় বা বার্তার রেকর্ড উদ্ধার করতে বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

গিটহাবকে দেওয়া এই নোটিশে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের ৪৩, ৮৪বি ও ৮৪সি ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় বিটচ্যাট অ্যাপটিকে অবৈধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত