Ajker Patrika

মানুষকে হারিয়ে হাফ ম্যারাথনে রেকর্ড গড়ল রোবট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মানুষকে হারিয়ে হাফ ম্যারাথনে রেকর্ড গড়ল রোবট
মানুষের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়ে জিতেছে রোবট। ছবি: এক্স

বেইজিং ই-টাউন হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনে প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা হয়ে গেল। প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে একাধিক মানবসদৃশ রোবট মানব অ্যাথলেটদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল। কেবল তাই–ই নয়, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানও অধিকার করল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আয়োজনটি ছিল ‘মানুষ ও রোবটের যৌথ দৌড়’ প্রতিযোগিতা। এতে ১০০ টির বেশি হিউম্যানয়েড রোবট এবং প্রায় ১২ হাজার মানব দৌড়বিদ ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার হাফ–ম্যারাথনে অংশ নেয়। নিরাপত্তার জন্য তাদের মাঝে ব্যারিয়ার দিয়ে আলাদা রাখা হয়েছিল।

সবচেয়ে আলোচনায় থাকা রোবটটির নাম ‘লাইটনিং’। তৈরি করেছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অনার (Honor)। রোবটটি ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার পথ শেষ করে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে। সময়টি অবিশ্বাস্য। কারণ, এটি মানুষের হাফ-ম্যারাথন বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও প্রায় সাত মিনিট দ্রুত। বর্তমান বিশ্বরেকর্ড ৫৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড, যা গড়েছিলেন জ্যাকব কিপলিমো।

এই ফলাফল গত বছরের তুলনায় বিশাল অগ্রগতি। উদ্বোধনী আসরে সবচেয়ে দ্রুত রোবটটি দৌড় শেষ করতে সময় নিয়েছিল ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটেরও বেশি। পোডিয়ামে শীর্ষ তিনটি স্থানই দখল করে অনারের দল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পাওয়া রোবটগুলো প্রতিযোগিতা শেষ করতে সময় নেয় যথাক্রমে প্রায় ৫১ এবং ৫৩ মিনিট। এসব রোবটে ব্যবহৃত হয়েছে স্মার্টফোনে ব্যবহৃত উন্নত লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি, যা দীর্ঘ দৌড়ে তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের প্রথম আসরে সব রোবট রিমোট কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এবার সেখানে প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪০ শতাংশ রোবট নিজে নিজেই পথ চলেছে। অনবোর্ড সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড় সম্পন্ন করেছে।

প্রকৌশলী দু শিয়াওদির মতে, বিজয়ী রোবটটি নিয়ে বিগত এক বছর ধরে গবেষণা করা হয়েছে। এতে ৯০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ পায়ের মতো কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে মানুষের স্বাভাবিকভাবেই দৌড়ানোর কৌশল অনুকরণ করা যায়। একই সঙ্গে এতে স্মার্টফোন থেকে অনুপ্রাণিত লিকুইড কুলিং প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। দু শিয়াওদির বলেন, ‘দ্রুত দৌড়ানো হয়তো প্রথমে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। কিন্তু এটি প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করে।’

মজার ব্যাপার হলো, অনারেরই একটি আলাদা রিমোট কন্ট্রোলড রোবট ৪৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবচেয়ে দ্রুত দৌড় শেষ করেছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সেটি বিজয়ী হতে পারেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত