Ajker Patrika

১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ইইউর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৪০
১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ইইউর
১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সদস্য দেশগুলোতে শিশুদের সুস্থতা বাড়ানো এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সংঘটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করবে ইইউ। এর অংশ হিসেবে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আর ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে।

তবে এ জন্য তাদের মা-বাবা বা অভিভাবকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছে ইইউ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো নকশাগতভাবেই নিরাপদ। ইইউর প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘মা-বাবার হাতে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে’।

উরসুলা ভন ডার লেয়েন আরও বলেন, ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইন মা-বাবাকে ‘তাঁদের সন্তানদের আরও নিরাপদ একটি পৃথিবীর পথে চলতে সহায়তা করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম’ দেবে।

প্রস্তাবিত আইনের অধীনে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরাই নিজেদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে ভন ডার লেয়েন বলেন, ‘বয়সসীমা নির্ধারণের অর্থ এই নয় যে, প্ল্যাটফর্মে থাকা কনটেন্টের দায় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়া হবে।’

আইনটি অনুমোদিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।

ভন ডার লেয়েন আরও বলেন, ‘১৮ বছরের কম বয়সী প্রত্যেকের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপত্তার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিকর ফিচার থাকবে না, কোনো স্ক্যাম থাকবে না এমন।’

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের জন্য ইইউর আগে থেকেই চালু থাকা বয়স যাচাইয়ের অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।

এর আগে ইউরোপের শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ‘বিলম্ব’ বা বয়সসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভন ডার লেয়েন। মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নিয়ে আলোচনা আর উপেক্ষা করা যায় না।’

আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগের দিন বুধবার দেওয়া ইইউ প্রধানের বার্ষিক ভাষণেও এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

ইইউর কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নিজেদের আলাদা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত