Ajker Patrika

লড়াই জমিয়েও বিদায় নিলেন আলকারাস

ক্রীড়া ডেস্ক    
লড়াই জমিয়েও বিদায় নিলেন আলকারাস
কার্লোস আলকারাস। ছবি: সংগৃহীত

রাত পেরিয়ে নিউইয়র্কে ভোর। ঘড়ির কাঁটা ৩টা ৩৪ মিনিট ছুঁইছুঁই। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তখনো চলছে পাঁচ সেটের তুমুল লড়াই। শেষ পর্যন্ত নির্ধারণী সেটের টাইব্রেকারে হার মানলেন কার্লোস আলকারাস। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও শেষ হলো সেখানেই। ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের মহারণে আলকারাসকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটন।

আলকারাসকে ৬-৭ (৫-৭), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) গেমে হারান শেলটন। স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৪ মিনিটে শেষ হওয়া ম্যাচটি ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে শেষ হওয়া ম্যাচ। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ২টা ৫০ মিনিটের। ২০২২ সালে ইয়ানিক সিনারের বিপক্ষে শেষ আটে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জিতে সেই রেকর্ড গড়েছিলেন আলকারাসই।

চার মাসের চোট কাটিয়ে এই আসর দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরেছিলেন আলকারাস। প্রথম চার ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ আটে এসে তাঁর পথ আটকে দিলেন শেলটন। আলকারাসের বিপক্ষে এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম জয়।

প্রথম সেটে দুজনের লড়াই ছিল সমানে সমান। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৭-৫ পয়েন্টে সেট জিতে এগিয়ে যান আলকারাস। কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় শেলটনের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে টানা ৯টি গেম জিতে স্প্যানিশ তারকাকে চাপে ফেলে দেন তিনি। দ্বিতীয় সেটে আলকারাসের সার্ভিস তিনবার ভাঙেন মার্কিন খেলোয়াড়। তবে চতুর্থ সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান আলকারাস। মাত্র ৩৬ মিনিটে ৬-১ গেমে সেটটি জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। পঞ্চম সেটে তাই আবারও শুরু হয় সমানে সমান লড়াই। ২-২ গেমে ব্রেক পয়েন্ট পেয়েছিলেন আলকারাস, ৪-৩ গেমে সুযোগ আসে শেলটনের সামনেও। কেউই তা কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় ১০ পয়েন্টের টাইব্রেকারে। সেখানে ৮-৭ এগিয়ে ম্যাচ পয়েন্টে এসে এস মেরে জয় নিশ্চিত করেন শেলটন। দীর্ঘ লড়াইয়ে শারীরিকভাবেও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন আলকারাস। ম্যাচের বিরতিতে তাঁকে তোয়ালে বমি করতেও দেখা যায়।

জয়ের পর এটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে উপভোগ্য’ ম্যাচ বললেন শেলটন, ‘এটা ছিল যুদ্ধ, মহাকাব্যিক এক ম্যাচ। শারীরিকভাবেও ভীষণ কঠিন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে আমাদের খেলাটির অন্যতম সেরা চ্যাম্পিয়ন কার্লোস। ওর বিপক্ষে খেলা সব সময়ই উপভোগ্য। আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ এটি।’

হারলেও হতাশ নন আলকারাস। বললেন, ‘হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জিততে না পারায় আমি হতাশ হতে চাই না। আমি যেভাবে লড়াই করেছি, তা নিয়ে গর্বিত। সুস্থ আছি, হাসিমুখে কোর্ট ছাড়ছি— আর এটাই আমার দরকার ছিল।’

সেমিফাইনালে শেলটনের প্রতিপক্ষ স্বদেশি ফ্রান্সেস তিয়াফো। আলেক্স মিশেলসেনকে দুই সেটে পিছিয়ে থেকেও ৫-৭, ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (১০-৬) ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছেন তিয়াফো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত