
বিশ্বকাপ ফাইনাল সাধারণত নির্ধারিত হয় একটি মুহূর্তে, একটি ভুলে। কিন্তু নিউজার্সি স্টেডিয়ামের ফাইনাল সেই চেনা নিয়ম মানেনি। স্পেনের ১-০ জয়কে শুধু ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গোলটি ছিল ১২০ মিনিট ধরে চলা এক কৌশলগত লড়াইয়ের স্বাভাবিক পরিণতি। প্রশ্ন হলো, সেই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা কোথায় পিছিয়ে পড়ল?
প্রথম উত্তরটি পাওয়া যায় বলের দখলে। কিন্তু সেটি শুধু ‘পজেশন’ নয়, পজিশনাল কন্ট্রোল। স্পেন বল দখলে রেখেছে শুধু আক্রমণ করার জন্য নয়, আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ করতে না দেওয়ার জন্যও। ৮৫৩টি পাস প্রমাণ করে ম্যাচের গতি, ছন্দ ও দিকনির্দেশনা পুরোপুরি স্পেনের হাতে ছিল। আর্জেন্টিনা দৌড়েছে, কিন্তু খেলেনি।
স্কালোনির সবচেয়ে বড় সমস্যাও ছিল এখানেই। তাঁর দল কখন প্রেস করবে, কখন নিচে নেমে রক্ষণ করবে—এই সিদ্ধান্তগুলো তারা নিজেরা নিতে পারেনি। স্পেনের বাঁধা সুতোতেই নড়তে হয়েছে তাদের।
এরপর আসে মাঝমাঠের প্রশ্ন। অনেকের চোখ ছিল মেসির দিকে, কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে তাঁর অনেক পেছনে। রদ্রি পুরো ম্যাচে এমনভাবে নিজেকে মেলে ধরেন, যাঁকে থামানোর কোনো কার্যকর উপায় বের করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। লেয়ান্দ্রো পারদেসকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্তে রদ্রির ওপর চাপ আরও কমে যায়। ফলে তিনি কখনো দুই সেন্টারব্যাকের মাঝখানে নেমে, কখনো মাঝমাঠে উঠে সহজেই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
এই জায়গাতেই স্পেন ও আর্জেন্টিনার দর্শনের পার্থক্য স্পষ্ট। স্পেন আক্রমণ শুরু করেছে রদ্রিকে দিয়ে। আর্জেন্টিনা আক্রমণ শুরু করতে চেয়েছে মেসিকে দিয়ে। কিন্তু মেসির কাছে বলই যদি না পৌঁছায়, তাহলে তাঁর প্রভাব পড়বে কীভাবে?
স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল বল হারানোর পরের প্রথম কয়েক সেকেন্ড। সাধারণভাবে বল হারালে দলগুলো রক্ষণে ফিরে যায়। স্পেন তা করেনি। বরং বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই চার-পাঁচজন খেলোয়াড় মিলে বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এর ফলে আর্জেন্টিনা কখনোই দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পায়নি।
ফলাফল ছিল স্পষ্ট। এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বারবার লম্বা বল খেলতে হয়েছে। অথচ স্কালোনির দলের আক্রমণ এমনভাবে গড়া নয়, যেখানে দীর্ঘ বল ধরে দ্বিতীয় বল জিতে আক্রমণ গড়া সম্ভব। হুলিয়ান আলভারেস একা পড়ে গেছেন, মেসি বাধ্য হয়েছেন অনেক নিচে নেমে আসতে। এতে আর্জেন্টিনার আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে।
মেসির ম্যাচটি তাই ব্যর্থতার নয়, বিচ্ছিন্নতার। মাত্র ৫৬ বার বল স্পর্শ করেছে তিনি। স্পেন তাঁকে ড্রিবল করার সুযোগ দেয়নি, দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে বল পাওয়ার সুযোগ দেয়নি, এমনকি দ্রুত ট্রানজিশনের অবস্থাও তৈরি হতে দেয়নি। পুরো টুর্নামেন্টে যিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন, ফাইনালে তাঁকে ম্যাচের গতির বাইরে রেখেছে স্পেন।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি তাই কোনো অভিযোগ করেননি। মেনে নিয়েছেন স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব, ‘ওরা ভালো দল ছিল, এটা সত্যি। আমার খেলোয়াড়েরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। তাই তাদের দোষ দেওয়া কঠিন।’
কথাটা আবেগের, কিন্তু বাস্তবতাও আছে। খেলোয়াড়দের চেষ্টার অভাব ছিল না। অভাব ছিল স্পেনের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ে। সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কালোনি, ‘এভাবে চালিয়ে যেতে হলে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করতে হয়, মানসিকভাবে আবার শুরু করতে হয়, এমন একটি দল আবার গড়ে তোলা খুবই কঠিন।’
বলতে বলতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কথাগুলো শুধু একজন কোচের ক্লান্তির প্রকাশ নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবলেরও এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত। স্পেনের নিখুঁত ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনা যেমন মুকুট হারাল, তেমনি স্কালোনির এই কান্না আভাস দিচ্ছে—আলবিসেলেস্তেদের এক সোনালি অধ্যায়ের বিষাদময় সমাপ্তির।

বিশ্বকাপ মিশন শেষে সোমবার দিবাগত রাতে দেশে ফেরেন আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ ফুটবলার। যে কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন, লিওনেল মেসি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এবার এই তারকা ফরোয়ার্ডও দেশে ফিরলেন।
৩৩ মিনিট আগে
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর লিওনেল মেসির অশ্রুসিক্ত মুখ ভক্তদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অনেকের দাবি, আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী ফুটবলার। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালই মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়—এমনটাই জানিয়েছেন টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক গাস্তন এদুল।
১ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সবে শেষ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু হচ্ছে জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হলেও টুর্নামেন্টের আগে তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হবে।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। সেই হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি দলটি মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল। তবে হারের আক্ষেপের পাশাপাশি সমালোচকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে