Ajker Patrika

এমন ম্যাচ হেরে গেলে দুঃখজনক হতো, বলছেন আর্জেন্টিনার কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৩২
এমন ম্যাচ হেরে গেলে দুঃখজনক হতো, বলছেন আর্জেন্টিনার কোচ
শততম ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

সমানে সমানে লড়াই বলতে যা বোঝায়, তাই হয়েছে। মায়ামিতে আজ শেষ বত্রিশের আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের বাঁক বদলেছে ক্ষণে ক্ষণে। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে আলবিসেলেস্তেরা। এ ধরনের ম্যাচ চাইলেও ভুলে যেতে পারবেন না আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

মায়ামিতে আজ মাঠে নেমেই আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে শততম ম্যাচের মাইলফলক ছুঁয়েছেন স্কালোনি। মাইলফলকের এই ম্যাচটিতে তাঁর হৃদযন্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা যে নিয়েছে কেপ ভার্দে, সেটা ম্যাচ শেষে তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে নবাগত হলেও ম্যাচটা টানতে টানতে ১২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ে গেছে তারা। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘নিশ্চয়ই শত শত ম্যাচের মধ্যে এটিই আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে। কারণ, এটা বিশ্বকাপের ম্যাচ। এখানে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছিল।’

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে মূল ম্যাচ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ৩-২ গোলে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। যেখানে মায়ামিতে আজ দুই দফা পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। একেবারে অন্তিম সময়ে কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেস আত্মঘাতী গোল না করলে হয়তো ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। শেষ ষোলো নিশ্চিতের পর স্কালোনি বলেন, ‘এটি এমন এক ম্যাচ যা একজন কোচ হিসেবে আমাকে সাহায্য করবে। আর এটি জেতা তো আরও দারুণ ব্যাপার। যদি আমরা হেরে যেতাম, তবে এটি কেবলই একটি দুঃখজনক পরিসংখ্যান হয়ে থাকত।’

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাও তো ভুল শোধরানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু নকআউট পর্বে সেই সুযোগটুকু নেই। হারলেই বাদ-এমন সমীকরণ মাথায় নামে দলগুলো। মায়ামিতে আজ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের মাঝপথে স্কালোনি কিছুটা দুশ্চিন্তায়ও পড়ে গিয়েছিলেন। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমি একটু অবিশ্বাসী স্বভাবের। নিজেকে কখনোই পুরোপুরি যোগ্য বলে মনে করি না। অভিজ্ঞতাই আমাকে এমনটা শিখিয়েছে। তবে এটাও সত্য যে ম্যাচটি খুব কঠিন ও অগোছালো ছিল। যদিও আমরাই খেলায় আধিপত্য বিস্তার করছিলাম। তবু ফল উল্টোটাও হতে পারত।’

কেপ ভার্দে যে আর্জেন্টিনাকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল, সেটা স্বীকার করেছেন মেসিও। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনার আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে এবং সামনের ম্যাচগুলোতে ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। শিষ্যর সঙ্গে একমত কোচ স্কালোনি।

রুদ্ধশ্বাস জয়ের দিনে আর্জেন্টিনার গোল দুটি করেছেন মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস। যার মধ্যে মেসি ২৯ মিনিটে গোল করেছেন মার্তিনেসের অ্যাসিস্টে। এই মার্তিনেস গোল করেছেন ৯২ মিনিটে। আর কেপ ভার্দের গোল দুটি ৫৯ ও ১০৩ মিনিটে করেছেন দেরয় দুয়ার্তে ও সিদনি লোপেস কাবরাল।

৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ের দিনে মেসি একগাদা রেকর্ড গড়েছেন। দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ অ্যাসিস্টের রেকর্ডটাও মেসি করতে পারতেন। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট আটটি। তবে আজ ১১১ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নামে গোল লেখা হলেও পরে সেটা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল ধরা হয়েছে। যার ফলে অ্যাসিস্ট আর মেসির নামে লেখা হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত