
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। অথচ একই ম্যাচে লেখা হতে যাচ্ছে আরেকটি ইতিহাস। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা স্কালোনির জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব ভিন্ন। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে এটি হবে তাঁর শততম ম্যাচ। একটি মাইলফলক, যা তাঁর অবিশ্বাস্য পথচলার প্রতীক।
নকআউটের লড়াইয়ে বাড়তি চাপ থাকা স্বাভাবিক। একটি ভুল, একমুহূর্তের অসতর্কতা শেষ করে দিতে পারে পুরো অভিযাত্রা। অথচ স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা অনেক আগেই সেই অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে শিখেছে। ২০১৮ সালে অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় খুব কম মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন, এই অনভিজ্ঞ কোচ একদিন আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে সফল যুগের স্থপতি হয়ে উঠবেন। শুরুতে সমালোচকদের তোপের মুখে পড়লেও তিনি জবাব দিয়েছেন মাঠেই।
আর্জেন্টিনার ফুটবলের দুই ঐতিহ্য মেনোত্তির নান্দনিকতা ও বিলার্দোর বাস্তববাদ দুটিকে নিজের দর্শনে মিশিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন নতুন এক পরিচয়, যার নাম এখন ‘স্কালোনেতা’। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াই নয়, স্কালোনির ফুটবল দর্শনেরও শততম অধ্যায়।
২০১৮ সালের সেই অনিশ্চয়তার জায়গা থেকে আজকের স্কালোনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্র। তাঁর অধীনেই আর্জেন্টিনা জিতেছে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের শিরোপাখরা ঘুচিয়ে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন দলের আত্মবিশ্বাস। শুধু ট্রফিই নয়, জাতীয় দলে গড়ে তুলেছেন এমন একটি সংস্কৃতি, যেখানে তারকার চেয়ে দল বড়। সিনিয়র-জুনিয়রের বিভাজন নয়, পারস্পরিক আস্থা আর দায়িত্ববোধই এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
শততম ম্যাচের দল নির্বাচনেও ফুটে উঠেছে তাঁর কোচিং দর্শন। চোট কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে থাকলেও লেফট ব্যাকে আস্থা রাখছেন তরুণ ফাকুন্দো মেদিনার ওপর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির প্রথম গোলে সহায়তা করা এই ডিফেন্ডারকে আবারও সুযোগ দিয়ে স্কালোনি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে অতীতের সুনামের চেয়ে বর্তমানের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেসিংরুমে কার কত বড় নাম, সেটি নয়; দলের জন্য এই মুহূর্তে কে সবচেয়ে কার্যকর, সেটিই তাঁর বিবেচনার মাপকাঠি। এই দর্শনই ৯৯ ম্যাচে তাঁকে এনে দিয়েছে ৭২ জয় এবং ৭৮.৮ শতাংশ জয়ের হার।
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেভাবে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রধান ভরসা হয়ে আছেন, তার পেছনেও রয়েছে স্কালোনির বড় অবদান। পূর্বসূরি অনেক কোচ যা পারেননি, স্কালোনি তা করেছেন মেসির চারপাশে আত্মবিশ্বাসী, ঐক্যবদ্ধ ও চাপমুক্ত একটি দল গড়ে তুলে। মায়ামির সমুদ্রতীরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে যখন শুরু হবে ম্যাচ, পুহাতোর ৪৮ বছর বয়সী সেই শান্ত মানুষটি হয়তো আগের মতোই নির্বিকার চোখে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে তাঁর কাছে বড় লক্ষ্য থাকবে দলকে নিয়ে; টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে জার্মানির বিদায়ের পরই কোচ হুলিয়ান নাগলসমানের চাকরি সুতোয় ঝুলছিল। শেষ পর্যন্ত জার্মানির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় নাগলসমান পদত্যাগ করেছেন বলে বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হয়েছে।
১০ মিনিট আগে
টরন্টোতে ম্যাচ শেষে লুকা মদরিচ হাততালি দিচ্ছেন। তবে তাঁর এই হাততালির কারণ তো জয়ের নয়, বিদায়ের। হাসিমুখে করতালি দিলেও বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায়ের বেদনা কি এত সহজে লুকানো যায়। কখনো মুখ ঢেকেছেন। কোনো রকমে যে চোখের পানি আটকাতে চাইছেন, সেটা তো স্পষ্ট।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপে পরিচিত মুখ হলেও সুইজারল্যান্ডের কাছে নকআউট পর্ব অভিশাপেরই আরেক নাম। গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পরই বেশির ভাগ সময় খেই হারিয়ে ফেলে ইউরোপের এই দল। অবশেষে আজ তারা পেরোল নকআউট পর্বের বাধা।
২ ঘণ্টা আগে
এটাই ফুটবল। মাঝেমধ্যে খুবই নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। টরন্টোতে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটার কথাই চিন্তা করুন। সময়ের দুই কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লুকা মদরিচের যেকোনো একজনের তো বিদায় হতোই। শেষ পর্যন্ত টিকে রইলেন রোনালদো, মদরিচের বেজে গেল বিদায়ঘণ্টা।
৩ ঘণ্টা আগে