৪১ বছর বয়সে বেশির ভাগ ফুটবলার বুটজোড়া তুলে রেখে ধারাভাষ্য কক্ষে বসেন কিংবা কোচিং করান। অথচ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনো প্রস্তুত হচ্ছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে! টেক্সাসের হিউস্টনে আজ রাত ১১টায় যখন পর্তুগাল মাঠে নামবে, তখন সবার চোখ থাকবে ওই একজনের ওপর।
রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে লিওনেল মেসির পাশে বসার অনন্য কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন রোনালদো। সিআর সেভেন। তবে রোনালদোর জন্য এটি শুধু রেকর্ড ভাঙা-গড়ার ম্যাচ নয়, অমরত্ব ছোঁয়ার লক্ষ্যে তাঁর মহাকাব্যের শেষের শুরু। গ্রুপ ‘কে’-এর এই উদ্বোধনী ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)।
বয়সকে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখানো রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে তুমুল তোলপাড়। সম্প্রতি মায়ামির সমুদ্রসৈকতে তাঁর ভাস্কর্যসম পেশিবহুল শরীর দেখে খোদ সতীর্থরাই তাজ্জব বনে গেছেন। ২৬ বছর বয়সী সতীর্থ ভিতিনিয়া তো গণমাধ্যমের সামনে স্পষ্টই বলেছেন, এটি কোনো ফটোশপ নয়, সম্পূর্ণ কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ৪১ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন, তা অবিশ্বাস্য। তবে রোনালদো নিজে ভালো করেই জানেন, আসল পরীক্ষাটা মাঠের সবুজ ঘাসে। ম্যাচের আগে পর্তুগিজ অধিনায়ক হুংকার দিয়ে রেখেছেন—‘শারীরিক ফিটনেস নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা কি আমার খেলা দেখেননি? যখন মাঠের চাপ চরমে পৌঁছাবে, তখনই দেখা মিলবে আসল চ্যাম্পিয়নের।’
রবার্তো মার্তিনেসের অধীনে এবারের পর্তুগাল দলটিকে সাজানোই হয়েছে রোনালদোর এই শেষ মিশনকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। কোচের ৭০ শতাংশ জয়ের রেকর্ড পর্তুগালকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে। তা ছাড়া ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোলের মহোৎসব করতে ভালোবাসে পর্তুগিজরা, শেষ তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচে গড়ে ৫টি করে দিয়েছে তারা।
রোনালদোর এই বিদায়ী মঞ্চে বড় ধাক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা আফ্রিকার ‘চিতাবাঘ’ ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা এই দলের মূল শক্তি তাদের জমাট রক্ষণ ও লড়াকু কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল। আফ্রিকান বাছাইপর্বে তাদের খেলা গত ১৩টি ম্যাচের ১০টিই নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ গোল বা তার কম ব্যবধানে। আক্রমণে তাদের প্রধান ভরসা সেড্রিক বাকাম্বু ও ইয়োয়ান উইসা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দেশের ইতিহাসের প্রথম গোলটি উদ্যাপনের জন্য মরিয়া হয়ে আছেন কঙ্গোর ফরোয়ার্ডরা।
কঙ্গোর জন্য এই ম্যাচ যে স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচের চেয়ে বেশি কিছু, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাঠের বাইরে। এনআরজি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে সরাসরি সমর্থন জোগাতে সস্ত্রীক হিউস্টনে পৌঁছে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি। ইবোলা-আতঙ্কে অনেক সমর্থক টিকিট কেটেও খেলা দেখতে যেতে পারেননি। রাষ্ট্রপ্রধানের এই সরাসরি উপস্থিতি এবং প্রবাসী দর্শকদের অভূতপূর্ব গর্জন কঙ্গোর ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে।
কাগজে-কলমে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি মূলত রোনালদোর রাজকীয় বিদায়ের প্রথম পাতা। ফুটবল রোমান্টিকরা চান, তাঁর এই শেষের শুরুটা হোক চিরস্মরণীয়। কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ভেঙে হিউস্টনের বুকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি পারবেন তাঁর চিরচেনা ‘সিউউউ’ উদ্যাপনে মেতে উঠতে, নাকি আফ্রিকার লড়াকু আবেগ স্তব্ধ করে দেবে তাঁকে।

লিওনেল মেসির একেকটা গোলে কানসাস সিটির গ্যালারিতে উদযাপন করেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। সেটার রেশ যে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করার পর বাংলাদেশে দেখা যায় বাধভাঙা উচ্ছ্বাস। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো তা দারুণভাবে প্রচার করেছে।
১৭ মিনিট আগে
রেকর্ড গড়া যেন লিওনেল মেসির কাছে সবচেয়ে সহজ কাজ। বয়স ৩৯ ছুঁই ছুঁই হলেও জাদুকরী ফুটবলে মুগ্ধ করে চলেছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। আজ কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে পেছনে পড়ে গেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, থিয়েরি অঁরির মতো কিংবদন্তিরাও।
১ ঘণ্টা আগে
৩৮ বছর বয়সেও মাঠে তাঁর এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পেছনের মূল রহস্য ফুটবলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। নিজের ফিটনেস ও নিবেদন সম্পর্কে মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, ছোটবেলা থেকেই এটি আমার প্যাশন। যখন আমি ভালো অবস্থায় থাকি, আমি আমার সবটুকু উজার করে দিই।
২ ঘণ্টা আগে
জাদুকরী, মায়াবী, মনোমুগ্ধকর—লিওনেল মেসি আজ যে তিন গোল করেছেন, তা বর্ণনা করার জন্য এই শব্দগুলোও যেন কম হয়ে যায়। যেভাবে আলজেরিয়ার রক্ষণদুর্গ ভেদ করে হ্যাটট্রিক করেছেন, তা চোখে লেগে থাকার মতো। বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডকে নিয়ে বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর সতীর্থরা।
২ ঘণ্টা আগে