১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ । যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলছে ৪৮ দল । ‘ বিশ্বকাপের দল ’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন , সেটি তুলে ধরার প্রয়াস । আজকের পর্বে থাকছে নিউজিল্যান্ড

ফুটবলবিশ্বে বরাবরই নিউজিল্যান্ডের পরিচয় লড়াকু এক ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ না হেরেও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনো অমলিন। তবে এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা, বারবার বাছাইপর্বের শেষ বাধা পার হতে না পারার আক্ষেপ আর হৃদয়ভঙ্গ—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে অল হোয়াইটরা।
ফিফার নতুন নিয়মে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করা হয়েছে এবার; সেটা যেন নিউজিল্যান্ডের জন্যই। ওই অঞ্চলে তাদের বুড়ো আঙুল দেখানোর সামর্থ্য নেই কোনো দলেরই। বাছাইপর্বে তাহিতি, ভানুয়াতু কিংবা ফিজির মতো দলগুলোকে উড়িয়ে সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল ড্যারেন বেজলির দল। ফাইনালে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে। তবে মূল মঞ্চের লড়াইটা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, সেটা বেশ ভালোই জানা তাদের। আগামী জুনে উত্তর আমেরিকায় ‘জি’ গ্রুপে ইরান, মিসর ও বেলজিয়ামের মতো প্রতিপক্ষকে সামলাতে হবে কিউইদের।
বর্তমান দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ এবং আক্রমণভাগ। নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কাঁপানো ফরোয়ার্ড ক্রিস উড এখন দলের প্রাণভোমরা। তাঁকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ছক। মাঝমাঠে মার্কো স্ট্যামেনিকের মতো তরুণ তুর্কিরা যেমন গতি আনছেন, তেমনি রক্ষণভাগে মাইকেল বক্সালদের অভিজ্ঞতা দলকে জোগাচ্ছে বাড়তি ভরসা। কোচ ড্যারেন বেজলি, যিনি অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডকে দুর্দান্ত সাফল্য এনে দিয়েছিলেন, এখন সেই একই ধারায় সিনিয়র দলকেও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
নিউজিল্যান্ডের ফুটবল সংস্কৃতিতে এখন এক নতুন জোয়ার বইছে। ২০০৯ সালে যখন দলটি বাহরাইনকে হারিয়ে ২০১০ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল, তখন গ্যালারিতে বসে থাকা মার্কো স্ট্যামেনিক ও ম্যাকক্লিয়ারিরা কেবলই শিশু। সেই তাঁরাই এখন দলকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার অপেক্ষায়। তাই নিউজিল্যান্ডের এই বিশ্বকাপ-যাত্রা একটি প্রজন্মের স্বপ্নের প্রতিফলনও।
র্যাঙ্কিংয়ে ৮৫ নম্বরে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিউইদের পারফরম্যান্স আশা দেখাচ্ছে বেশ। মার্চে চিলির বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। নরওয়ের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ড্র করা নিউজিল্যান্ড এখন আর শুধু অংশ নিতেই বিশ্বকাপে যাচ্ছে না। ডিফেন্ডার মাইকেল বক্সালের ভাষায়, ‘আমরা অনেকবার হৃদয়ভঙ্গের শিকার হয়েছি, কিন্তু এবার আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
নিউজিল্যান্ডের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকাংশেই নির্ভর করছে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইরানের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের ওপর। এরপর মিসর এবং সবশেষে শক্তিশালী বেলজিয়ামের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে তাদের। ১৯৮২ আর ২০১০ সালের পর এটি তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ। আগের দুই আসরে কোনো জয়ের স্বাদ না পাওয়া নিউজিল্যান্ড এবার চায় ইতিহাসের পাতা নতুন করে লিখতে।
নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পাখি ‘কিউই’ উড়তে পারে না ঠিকই, কিন্তু মাঠের ফুটবলে এই কিউইরা এখন ডানা মেলতে প্রস্তুত।

কোচ: ড্যারেন বেজলি
২০২৬ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে এক অনন্য রেকর্ডই গড়বেন ড্যারেন বেজলি। এর আগে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অলিম্পিক ফুটবলেও কোচিং করিয়েছেন তিনি। ফিফা স্বীকৃত চারটি টুর্নামেন্টে কোচিং করানোর কীর্তি নেই আর কোনো কোচের। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। উলভসের সাবেক এই ইংলিশ ফুটবলার ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডকে জিতিয়েছেন ওএফসি নেশনস কাপ। নিউজিল্যান্ডে তিনি রয়েছেন দেড় দশকের বেশি সময় ধরে। এমনকি দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন তিনি।

তারকা: ক্রিস উড
২০১০ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনিই হতে পারেন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ। তবে ক্রিস উড বিশ্বকাপ খেলবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠার পর কিছুদিন আগে আবারও হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন নটিংহাম ফরেস্টের এই ফরোয়ার্ড। হতাশায় না পুড়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য নিশ্চয়ই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবেন তিনি। না হলে বেশ বড় ধাক্কাই খাবে কিউইরা। পরিসংখ্যানই তা বলে দেয়। এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৮৮ ম্যাচ খেলে ৪৫ গোল করেছেন উড।
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস
র্যাঙ্কিং: ৮৫
অঞ্চল: ওশেনিয়া
অংশগ্রহণ: ৩
সর্বোচ্চ সাফল্য: গ্রুপপর্ব (১৯৮২, ২০১০)
| ম্যাচ | জয় | ড্র | হার |
|---|---|---|---|
| ৬ | ০ | ৩ | ৩ |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) |
|---|---|---|---|
| ১৬ জুন | ইরান | লস অ্যাঞ্জেলেস | সকাল ৭টা |
| ২২ জুন | মিসর | ভ্যানকুভার | সকাল ৭টা |
| ২৭ জুন | বেলজিয়াম | ভ্যানকুভার | সকাল ৯টা |

গিল ফেরার পরও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। পাড়িক্কাল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পথে শ্রীলঙ্কার বোলারদের আর কোনো সুযোগ দেননি। পন্তও তাঁকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
এর প্রভাব পড়েছে তাঁদের অর্জনেও। জান্নাতের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি সোনা, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ গুণিতক ১০০ মিটার দৌড়ে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদকও বাতিল হবে।
২ ঘণ্টা আগে
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ছিল মিচেল স্টার্ক ও মেহেদী হাসান মিরাজের উত্তপ্ত মুহূর্তও। দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সময় মিরাজের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ান অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার। স্টার্কের ক্ষোভের কারণ ছিল, মিরাজ নাকি পিচের ওপর দিয়ে দৌড়াচ্ছে
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের জন্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন ডুলি। ২৩ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার এই টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, ‘সবাই জানে সাফ একটি কঠিন টুর্নামেন্ট এবং আমরা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এটি জিততে পারিনি। এই টুর্নামেন্টের জন্য সবকিছু এক
৫ ঘণ্টা আগে