Ajker Patrika

কলঙ্ক মুছে ইতিহাস লেখার সুযোগ

১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকে কোন দল কেমন, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস। আজকের পর্বে থাকছে ডিআর কঙ্গো—

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৫৪
কলঙ্ক মুছে ইতিহাস লেখার সুযোগ
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিতের পর কঙ্গোর ফুটবলারদের উদযাপন। ছবি: এএফপি

কিনশাসার মতো উৎসব খুব কম শহরই করতে জানে। ৩১ মার্চ রাতে সেখানে যা ঘটেছে, তেমন বড় উৎসব শহরটি খুব কমই দেখেছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রতিটি প্রান্ত যেন এক হয়ে গিয়েছিল লিনগালা ভাষার সেই অতিপরিচিত প্রবাদটির সুরে—‘রাত যতই দীর্ঘ হোক, ভোর আসবেই।’

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় আন্তর্মহাদেশীয় প্লে-অফের ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৫ দশকের হতাশার বোঝা নামিয়ে ফেলে ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ফিরে এল নীল চিতারা।

৫২ বছর বেশ দীর্ঘ সময়। কঙ্গোর ফুটবল ভক্তদের কাছে ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপের স্মৃতিগুলো ভূতের মতো তাড়া করে ফেরে। সেই স্মৃতিগুলো কোনো আত্মার নয়, বরং সবুজ জার্সি পরা এক দলের, যাদের বুকে ছিল বিশালাকার চিতা আর নাম ছিল ‘জাইর’।

আফ্রিকার প্রথম সাব-সাহারান দেশ হিসেবে সেবার বিশ্বকাপে যাওয়ার গৌরব অর্জন করলেও, মাঠের পারফরম্যান্স দলটিকে বিশ্বজুড়ে এক হাসির খোরাক বানিয়েছিল। যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯ গোল হজম কিংবা ব্রাজিলের বিপক্ষে ই লুঙ্গা মোয়েপুর সেই অপ্রাসঙ্গিক ফ্রি-কিকের কাণ্ড—সব মিলিয়ে ডিআর কঙ্গোর ফুটবল পরিচয় দশকের পর দশক ধরে বিদ্রূপাত্মক মোড়কে বন্দী ছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোবুতু সেসে সেকোর স্বাজাত্যবোধের কারণে ফুটবলের মানচিত্র থেকে অনেকটা হারিয়ে যেতে থাকে তারা।

কঙ্গোর এই রূপান্তরের মূল কারিগর ফরাসি মাস্টারমাইন্ড সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ২০২২ সালে যখন তিনি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন কঙ্গোর ফুটবল ছিল চরম বিশৃঙ্খলায়। আর সেখানেই মেলে ধরেন ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। যদিও অনেকের কাছে তা ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। ঘরোয়া লিগের ওপর নির্ভর না করে কোচ ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা কঙ্গোলিজ বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে ভেড়াতে শুরু করেন।

তাই এখন তারা কোনো চাপের মুখে ভেঙে পড়ে না। প্লে-অফ থেকে দলকে বিশ্বকাপে তোলার নায়ক এক্সেল তুয়ানজেবে। এক্সেল তুয়ানজেবে ঠিক তেমনই একজন, ইংল্যান্ডের যুব দলে খেলে বড় হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন শিকড়কেই।

সেড্রিক বাকাম্বু, অ্যারন ওয়ান বিসাকা, চ্যান্সেল এমবেম্বা এবং আর্থার মাসুয়াকুদের নিয়ে গড়া বর্তমান দলটি ১৯৭৪ সালের সেই ভীতসন্ত্রস্ত দলটির চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। ২০২৪ আফকনের সেমিফাইনালে খেলা বা জ্যামাইকার বিপক্ষে জয়—সবই এসেছে এক পরিকল্পিত ও পরিমিত প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে।

বিশ্বকাপের মূল আসরে কঙ্গোর জন্য পথ খুব একটা মসৃণ হবে না। কে গ্রুপে তাদের মোকাবিলা করতে হবে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের। তবে ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় ডিআর কঙ্গোর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হবে বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলা।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া ডিআর কঙ্গোর সাধারণ মানুষের কাছে ফুটবল এখন এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো। কিনশাসার রাস্তায় যে রুম্বা আর এনডোমবোলোর সুর বেজেছে, তা শুধু জয়ের গান নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও ফুটবলের পুনরুজ্জীবনের ধ্বনি। ইতিহাস হয়তো নিষ্ঠুর হয়, কিন্তু এবার ডিআর কঙ্গোর সামনে সুযোগ এসেছে কলঙ্ক মুছে ইতিহাসকে নতুন করে লেখার।

desabre

কোচ

সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে

পেশাদার ফুটবল তিনি কখনোই খেলেননি। কোচ হয়ে ওঠার পথে তা অবশ্য বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। উগান্ডার সঙ্গে ১৮ মাস কাটানোর পর, দ্বিতীয়বারের মতো কোনো আফ্রিকান জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের মনে এখন বইছে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ। ২০২২ সালে ডিআর কঙ্গোর দায়িত্ব নিয়ে শুরুতে তিনিই সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রথমে ভক্তরা তাঁকে নিয়ে সংকোচে থাকলেও এখন শুধুই কৃতজ্ঞতার মালা সাজাচ্ছে।

bakambu

তারকা

সেড্রিক বাকাম্বু

বাকাম্বুর অভিজ্ঞতা তাঁর খেলার ধরনেই স্পষ্ট; একজন স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করার জন্য তাঁর খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। ফ্রান্স, চীন, তুরস্ক ও স্পেন—ক্যারিয়ারের লম্বা পথচলায় তিনি নিজের গোল করার সহজাত প্রবৃত্তিকে সব সময় তীক্ষ্ণ রেখেছেন। রিয়াল বেতিসের এই তারকার প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমানভাবে উজ্জ্বল; বাছাইপর্বে চার গোল করার পাশাপাশি সহায়তা করেছেন তিন গোলে। ৩৫ বছর বয়সেও ডিআর কঙ্গোকে বিশ্বমঞ্চে স্মরণীয় সাফল্য এনে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।

র‍্যাঙ্কিং: ৪৬

অংশগ্রহণ: ২

সর্বোচ্চ সাফল্য: গ্রুপ পর্ব (১৯৭৪)

গ্রুপ পর্বের ম্যাচ:

১৭ জুন পর্তুগাল হিউস্টন রাত ১১টা

২৪ জুন কলম্বিয়া গুয়াদালাহারা সকাল ৮টা

২৮ জুন উজবেকিস্তান আটলান্টা ভোর সাড়ে ৫টা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত