Ajker Patrika

জয়তু স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক    
জয়তু স্পেন
বাসে চড়ে বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ছবি: এএফপি

১৬ বছর আগের এক রাতে কানেকটিকাটের নিভৃত কুঁড়েঘরে বসে ১৪ বছরের এক কিশোর ল্যাপটপে দেখছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই সোনালি মুহূর্ত। আনন্দে চিৎকার করতে করতে সেদিন লেকের চারপাশে চক্কর দিয়েছিল ছেলেটি। ১৬ বছর পর নিউজার্সির সবুজ গালিচা পেরিয়ে সেই রদ্রি নিজে বিশ্বসেরার ট্রফি হাতে তুলে নিয়ে লিখলেন ইতিহাস। ২০১০ বিশ্বকাপের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করার আনন্দে রাজকীয় উদ্‌যাপনে মেতে উঠেছে স্পেন।

সোমবার রাজধানী মাদ্রিদ রূপ নিয়েছিল এক রক্তিম নদীর। মনক্লোয়া থেকে সিবেলেস স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষ নেমে এসেছিল প্রিয় নায়কদের বরণ করে নিতে। ‘বিশ্বের রাজা’ লেখা খোলা ছাদের বাসে চেপে বিশ্বজয়ীরা যখন ট্রফি উঁচিয়ে এগোচ্ছিলেন, বাসের সামনে তখন গাভির পাশে পা ঝুলিয়ে বসেছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি। মাদ্রিদে ফিরে রাজপরিবার ও প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা শেষে বাসের ছাদে উঠে মাইক হাতে রদ্রি চিৎকার করে উঠেছিলেন, ‘স্পেন, আমরা বিশ্বজয়ী! আমাদের জন্ম দেওয়া মায়েদের জয় হোক, রাজার জয় হোক এবং জয় হোক স্পেনের!’ শৈশবের স্মৃতিকাতরতা ছুঁয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের প্রজন্ম ক্যাসিয়াস আর ইনিয়েস্তাকে কাপ তুলতে দেখে বড় হয়েছে। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’ হাঁটুর চোট সারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প মনে করে তিনি সতীর্থদের উদ্দেশে বলছিলেন, ‘আছাড় খেয়ে পড়ে গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর একটা কারণ সব সময় থাকে।’

বিজয় প্যারেড শুরুর আগে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বিশ্বজয়ী লা রোহা তারকাদের বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘তোমরা তোমাদের অধ্যবসায়, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং সাহসিকতা দেখিয়েছ। মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছ।’

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তো আরেক লক্ষ্য ছুড়ে দিলেন, ‘ফাইনালে উঠে দুটি ফাইনালের দুটিতেই জয়! ২০৩০ সালে আমরা যখন স্বাগতিক, তখন কেন তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখব না?’

রাত ১০টায় সিবেলেস স্কয়ার যখন এক বিশাল উন্মুক্ত স্টেডিয়ামের রূপ নেয়, বিশ্বজয়ী শিষ্যরা তাঁদের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে শূন্যে তুলে আছাড়-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। মাইক হাতে গান গেয়ে সবাইকে হাসিয়ে দিয়ে কোচ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমাদের এই সাফল্যকে এত কাছ থেকে অনুভব করার জন্য ধন্যবাদ; কারণ, এই সাফল্য আপনাদেরও। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী।’ উৎসবের মাঝেই ডিজিটাল পর্দায় ভেসে আসে পপ তারকা শাকিরার বিশেষ বার্তা, ‘স্পেন বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে কীভাবে এক মন আর এক প্রাণ হয়ে কাজ করতে হয়।’

এই শিরোপার পেছনে লুকিয়ে ছিল কতগুলো ব্যক্তিগত মুক্তির গল্প। যে ফেরান তোরেসকে একসময় পুরো দেশ তীব্র সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করেছিল, নিউজার্সির ১০৬তম মিনিটে তাঁর নেওয়া শটটিই শেষ পর্যন্ত স্পেনের আকাশে দ্বিতীয় তারকা হয়ে ফুটে ওঠে। নিজের অতীতের কষ্টের কথা মনে করে তোরেস বলেন, ‘ভাগ্য আগে থেকেই লেখা থাকে। ঈশ্বর তাদেরই দেন, যারা তার যোগ্য।’ রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকা ১৪ বছরের খুদে ভক্ত হেক্তর মোয়ার কেবল একটি কথাই বলতে পেরেছিল, ‘কারও মুখ থেকে গল্প শোনার চেয়ে এই দিনটা নিজের চোখে দেখার অনুভূতি একদমই আলাদা!’

বিশ্বজয়ের অনুভূতির সঙ্গে কি আর কোনো কিছুর তুলনা হতে পারে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত