Ajker Patrika

৬ গোলের থ্রিলারে কপাল পুড়ল ইরানের

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১০: ৫১
৬ গোলের থ্রিলারে কপাল পুড়ল ইরানের
শেষ গোলের পর অস্ট্রিয়া গোলরক্ষকের উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

শুরুটা হয়েছিল একরকম, মাঝে চলল অন্যরকম আর শেষটা যা হলো, তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘মহানাটক’ বললেও হয়তো কম বলা হবে। কানসাস সিটির মাঠে আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি যে এভাবে প্রতি মিনিটে রং বদলাবে, তা হয়তো অতিবড় ফুটবল রোমান্টিকও কল্পনা করেননি। শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ৩-৩ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছেড়েছে দুই দল। এই ড্রয়ে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া দুই দল শেষ ৩২-এর টিকিট কেটেছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরের আসল ট্র্যাজেডিটা লেখা হয়েছে ইরানের কপালে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে গোল পার্থক্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের।

ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য ছিল দারুণ উপভোগ্য। দুই দলই প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশল ভেঙে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠেছিল। ২৮ মিনিটে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মার্কো আরনাউতোভিচের গোলে লিড নেয় অস্ট্রিয়া। ডেভিড আলাবার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তবে ৪৫ মিনিটে সমতায় ফেরে আলজেরিয়া। গোলটিতে যেন ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল। কর্নার ফ্ল্যাগে লেগে বল চলে আসে রিয়াদ মাহরেজের পায়ে, সেখান থেকে বল পেয়ে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক শটে জাল কাঁপান রাফিক বেলঘালি।

বিরতির পর ম্যাচের উত্তেজনা বাড়ে আরও। ৫৪ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মার্সেল সাবিৎজার অস্ট্রিয়াকে আবারও এগিয়ে নেন। কিন্তু আলজেরিয়াও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না। ৬০ মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ আলতো ট্যাপ-ইনে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান।

এরপরই শুরু হয় ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ও অদ্ভুত অধ্যায়। সমতায় থাকলে দুই দলেরই নকআউটে যাওয়ার পথ সুগম—এই অঘোষিত সমীকরণে ম্যাচের গতি হঠাৎ করেই শূন্যে নেমে আসে। ২৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা নিজেদের মধ্যে অলস পাস খেলেছেন, আর অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়েরা কেবল গা বাঁচিয়ে হালকা জগিং করেছেন। গ্যালারির দর্শকেরা এই ‘বোরিং’ ফুটবল দেখে চরম বিরক্ত হয়ে খেলা শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তারা জানতেন না, ফুটবল দেবতা তখনো ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ জমিয়ে রেখেছেন শেষ মুহূর্তের জন্য।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯০ মিনিট পেরিয়ে গেছে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দিয়ে আলজেরিয়াকে এগিয়ে নেন রিয়াদ মাহরেজ। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ৩-২ স্কোরে যখন ম্যাচ শেষ হওয়ার পথে, তখন টিভির সামনে থাকা ইরানি সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন। কারণ, এই ফলাফলে অস্ট্রিয়া বাদ পড়ে ইরানের পরের পর্বে যাওয়ার কথা।

কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্কটা যেন নিজের ভাগ্যেই লিখে রেখেছিলেন অস্ট্রিয়ার বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইদজিচ। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হেডে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান তিনি।

রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩। এক চরম উন্মাদনা আর অবিশ্বাস্য ৯০ মিনিটের সাক্ষী হয়ে দুই দলই মাঠ ছাড়ে হাসিমুখে। অস্ট্রিয়া গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে শক্তিশালী স্পেনের, আর তৃতীয় দল হিসেবে কোনোমতে টিকে যাওয়া আলজেরিয়া লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। আর পুরো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও না হেরে কেবল গোল পার্থক্যের চোরাবালিতে আটকে গিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিতে হলো হতভাগা ইরানকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত