
লিওনেল মেসিকে শুরুর একাদশে না দেখে ডালাস স্টেডিয়ামে আসা অনেক সমর্থকের মনেই হয়তো কিছুটা খটকা জেগেছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি আর্জেন্টিনা। বেঞ্চ থেকে এসে মেসির রেকর্ড গড়া গোল আর জিওভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের দারুণ নৈপুণ্যে জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয় নিয়ে পা রাখল নকআউট পর্বে। ৪ জুলাই মায়ামিতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
ডালাস স্টেডিয়াম আজ রূপ নিয়েছিল এক টুকরা বুয়েনস এইরেসে। আগের ম্যাচ থেকে ৯ পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৬ মিনিটেই হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে জালে বল পাঠিয়েছিলেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জিওভানি লো সেলসো। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে উদ্যাপনে কিছুটা বিলম্ব হয় তার। সেই আক্ষেপ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ পায়ের মাপা ও বাঁকানো শটে জর্ডানের প্রাচীর ভেদ করে বল জালে জড়ান লো সেলসো নিজেই। জর্ডান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা পজিশন নিতে ভুল করায় কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তাঁর।
জর্ডানের রক্ষণভাগের ওপর চাপ ধরে রেখে ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে নিকো তালিয়াফিকোর ক্রসে লাউতারো মার্তিনেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর ফিরতি বলে ডাইভিং হেড করতে যান মার্কোস সেনেসি। ঠিক তখনই জর্ডানের আল-রাশদানের পা সেনেসির মুখে আঘাত করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে লাউতারো মার্তিনেস খরা কাটান, যা বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল।
২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনার ওপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ধাক্কা দেয় জর্ডান। ৪৮ মিনিটে আবারও লো সেলসোর একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। ৫৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে হাদ্দাদের চমৎকার নিচু ক্রসে পা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান জর্ডানের বদলি খেলোয়াড় মুসা আল-তামারি। এই গোলের মাধ্যমে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযাত্রায় গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য কীর্তি গড়ে এশিয়ান দলটি।
জর্ডানের এই আকস্মিক গোলে যখন ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনার আভাস মিলছিল, তখনই ডাগআউট থেকে মাঠে নামেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে লো সেলসো, লাউতারো ও নিকো পাসকে তুলে নিয়ে মেসি, ম্যাক আলিস্তার ও থিয়াগো আলমাদাকে মাঠে নামান স্কালোনি। মেসি মাঠে নামতেই ডালাসের গ্যালারিতে শুরু হয় গর্জন। জর্ডান যখন সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ৮০ মিনিটে তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। ডি-বক্সের ২৫ গজ বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। প্রথাগত বাঁকানো উঁচু শটের বদলে এবার নিচু এক শট নেন মেসি। জর্ডান গোলরক্ষক আবুলাইলা আবারও ভুল দিকে পা বাড়িয়ে বলের লাইন মিস করলে বল জড়ায় জালে।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল। এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস লিখে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার রাজকীয় রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে তাঁর গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯-এ। দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে স্কালোনির কিছুটা ভাবনার জায়গা থাকলেও মেসির চেনা জাদু আর দলের অনায়াস জয় শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের মনে এনে দিয়েছে একরাশ তৃপ্তি।

শেষ হয়েছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের মাঠের লড়াই। এবার শুরু হচ্ছে আসল রোমাঞ্চ। ৪৮ দলের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে চূড়ান্ত হয়ে গেছে শেষ বত্রিশের সমীকরণ। এখন আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই—হারলেই বিদায়, আর জিতলে মিলবে শেষ ষোলোর টিকিট।
৩২ মিনিট আগে
শতভাগ জয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করল আর্জেন্টিনা। গ্রুপসেরা হয়েই নকআউট খেলতে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। যেখানে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখানো দল কেপ ভার্দে। তার আগে একটা পরিসংখ্যান বেশ ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
১ ঘণ্টা আগে
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩। এক চরম উন্মাদনা আর অবিশ্বাস্য ৯০ মিনিটের সাক্ষী হয়ে দুই দলই মাঠ ছাড়ে হাসিমুখে। অস্ট্রিয়া গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে শক্তিশালী স্পেনের, আর তৃতীয় দল হিসেবে কোনোমতে টিকে যাওয়া আলজেরিয়া লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে...
১ ঘণ্টা আগে
ম্যাচের ৮০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূরে মেসিকে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে নেওয়া মেসির নিচু শটটি জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা ভুল দিকে পজিশন নেওয়ার কারণে সরাসরি জালে জড়ায়। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা...
১ ঘণ্টা আগে