Ajker Patrika

বিতর্কিত রেফারিং আর মারামারির ম্যাচে বাংলাদেশের হতাশা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ১৩: ০৩
বিতর্কিত রেফারিং আর মারামারির ম্যাচে বাংলাদেশের হতাশা
বেশকিছু অপ্রত্যাশিত কাণ্ডে সমালোচিত হয়ে থাকল ম্যাচটি। ছবি: বাফুফে

লাল মাঠের উত্তেজনা রূপ নিল চরম নাটকীয়তায়। কখনো পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক, কখনো মাঠের ভেতরেই দুই দলের ফুটবলারদের হাতাহাতি—সব মিলিয়ে মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববারের রাতটি উপহার দিল এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। কিন্তু এত লড়াইয়ের পরও শেষ হাসিটা হাসতে পারল না মারুফুল হকের শিষ্যরা। মালদ্বীপের গোল্ডেন জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ফাইনালে যেতে যেখানে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না, সেখানে রেফারির কিছু প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত আর নিজেদের ভুলেই মূলত কপাল পুড়ল বাংলাদেশের।

ম্যাচের শুরু থেকেই চাঙা ছিল দুই দল। তবে ম্যাচের ১৩ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ২২ নম্বর জার্সিধারী ডিফেন্ডার প্রণয়ের এক দৃষ্টিকটু ভুলের চড়া মাশুল দিতে হয় দলকে। প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে ডি-বক্সের ভেতর অবিন্যস্তভাবে আটকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন তিনি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে মালদ্বীপকে এগিয়ে নেন তাদের স্ট্রাইকার; বাংলাদেশের গোলরক্ষক বলের দিক অনুমান করলেও দলকে রক্ষা করতে পারেননি।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ম্যাচের ২৫ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ আসতে পারত। মালদ্বীপের ডিফেন্ডাররা ডি-বক্সের ভেতর বাংলাদেশের এক ফুটবলারকে স্পষ্ট ফাউল করে ফেলে দিলেও রহস্যজনকভাবে রেফারি নীরব থাকেন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তি জানালেও মাঠের আম্পায়ার তাতে কান দেননি। রেফারির এই পক্ষপাতমূলক আচরণ ম্যাচের আবহে বড় ধাক্কা দেয়।

পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামে মারুফুলের শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে ফেলে স্বাগতিকদের। অবশেষে ৫৩ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। এবার আর পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিধা করেননি রেফারি। পেনাল্টি স্পট থেকে মিরাজুল ইসলামের চোখধাঁধানো জোরালো শট মালদ্বীপের জাল কাঁপিয়ে দিলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শেষ দিকে এসে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারায় দুই দলই। রেফারির কিছু একপেশে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে উল্টো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের আল আমিনকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে জয়ের জন্য অলআউট আক্রমণে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য।

নাটকের তখনো বাকি ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে মাঠের ভেতরের ফুটবলীয় উত্তেজনা রূপ নেয় কুৎসিত হাতাহাতিতে। দুই দলের খেলোয়াড়েরা একে অপরের ওপর চড়াও হলে ম্যাচটি প্রায় ভণ্ডুল হওয়ার উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত রেফারির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লাল-সবুজ দলকে। আর এই ড্রয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল বাংলাদেশের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত