
মায়ামির প্রায় প্রতিটি সৈকতে গেলেই দেখা যাবে আর্জেন্টাইন দর্শকদের ভিড়। তবে গত পরশু বিকেলে মায়ামির ব্যান্ডশেল সৈকতে গিয়ে একটু অবাকই হতে হলো। বালুকাবেলায় উদোম গা এলিয়ে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন হাতে গোনা কিছু আর্জেন্টাইন দর্শক। প্রায় ৫০ হাজার আর্জেন্টাইন টিকিট ছাড়াই শুধু জাতীয় দলের টানে মায়ামিতে চলে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা কোথায়?
ব্যান্ডশেল সৈকতে থাকা আর্জেন্টাইন দর্শকেরা স্প্যানিশ ভাষায় বারবার বলতে থাকলেন, ‘সুর বিচে (সাউথ বিচে) যাও।’ আর্জেন্টাইন ফ্যানদের যত আয়োজন নাকি ওখানেই। সাউথ বিচে না গিয়েও বেশ বোঝা গেল এই শহরে মেসিদের খেলা। মায়ামির প্রায় প্রতিটি মোড়েই সেটার ছাপ, দেখা মিলছে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কোথাও ছোট ছোট আড্ডা, কোথাও স্বতঃস্ফূর্ত বিশাল সমর্থক সমাবেশ—সবকিছুই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে।
সন্ধ্যায় মায়ামির ব্যান্ডশেল সৈকত থেকে দ্রুত ছুটতে হলো ৩৪ কিলোমিটার দূরে শহরের ফোর্ট লডারডেল এলাকায় হোটেল ডালমারে। মায়ামিতে আর্জেন্টিনা দল উঠছে এখানেই। কানসাস সিটি থেকে তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে রাত ১০টায় হোটেল ডালমারে এসে পৌঁছাল আর্জেন্টিনা দল। যথারীতি মেসিদের একপলক দেখতে ডালমারের সামনে উৎসুক আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের ভিড়। টিম হোটেলের সামনে ইংরেজিতে অনীহা বেশির ভাগ দর্শকের সঙ্গে কথা বলে অন্তত এতটুকু বোঝা গেল, তাঁদের কৌতূহলের কেন্দ্রে ওই একজন—লিওনেল মেসি।
আর মেসির কাছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ পর্বের ম্যাচ মানে নিজের উঠানে দলকে শেষ ষোলোয় তোলার তাড়া। ২০২৩ সালের জুনে ইন্টার মায়ামি সিএফে নাম লেখানোর পর থেকে এই শহর মেসির ঘর হয়ে গেছে। মায়ামিতে এসে তাই সংবাদমাধ্যমকর্মীদের একটা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট মেসির ক্লাব, ঘরবাড়ির সন্ধান করা। তাঁর সতীর্থ বন্ধু রদ্রিগো দি পলেরও ঘরও এই মায়ামিতে। সেই উঠানে মেসিদের চ্যালেঞ্জ জানাতে এসেছে সাহসী কেপ ভার্দে।
কাল সকালে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতেই অনুশীলন করেছে কেপ ভার্দে। একই প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে সন্ধ্যায় ঝালিয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা দল। সংবাদমাধ্যমের সুযোগ ছিল ১৫ মিনিট অনুশীলন দেখার। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেরা নামবে এক সুখস্মৃতি নিয়ে—২০২৪ সালে এখানেই আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল কলম্বিয়াকে হারিয়ে।
কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী না হলেও আফ্রিকার ছোট্ট এক দ্বীপ হিসেবে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে একের পর এক রূপকথা লিখে চলেছে কেপ ভার্দে। গ্রুপপর্বে অপরাজিত থেকে উঠেছে শেষ ৩২ রাউন্ডে। শুধু বিশ্বকাপে কেন, গত ২০ মাস কোনো ম্যাচ হারেনি কেপ ভার্দে, টানা ১৫ ম্যাচ অপরাজিত তারা। স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে নকআউট পর্বে উঠেছে বলে কেপ ভার্দেকে শুধুই রক্ষণাত্মক দল ভাবার সুযোগ নেই। যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে প্রত্যাশিত গোল আসেনি তাদের। তবে নকআউটেও আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও আক্রমণ নিষ্ক্রিয় করে কেপ ভার্দে চাইবে মেসিদের গোল উৎসব বন্ধ রাখতে।
কিন্তু লিওনেল স্কালোনির কৌশল কি আর কেপ ভার্দের চাওয়া পূরণ হতে দেবে? দারুণ গতিতে ছুটতে থাকা আর্জেন্টিনার সামনে খুব বেশি প্রশ্ন নেই। তবে স্কালোনিকে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথম সংশয়টি বাঁ প্রান্তের রক্ষণে। সেখানে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও ফাকুন্দো মেদিনার মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। দ্বিতীয় প্রশ্নটি সেন্টারব্যাকে। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারলে নিকোলাস ওতামেন্দি কি একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারবেন? আর আর্জেন্টিনার তৃতীয় ধাঁধা আক্রমণভাগে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে কে শুরু করবেন—লাউতারো মার্তিনেস নাকি হুলিয়ান আলভারেস? লাউতারোর খেলার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানাচ্ছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম।
মায়ামিতে মেসি থাকেন, এ শহরেই স্প্যানিশভাষী বিপুলসংখ্যক লাতিন আমেরিকানের বাস। শহরটা এরই মধ্যে রূপ নিয়েছে এক টুকরা ‘বুয়েনস এইরেসে’। বিশ্বকাপের যেকোনো মাঠেই আর্জেন্টাইনরা যে আকাশি-সাদা ঢেউ তোলে, শুক্রবার হার্ড রক স্টেডিয়ামের ভেতর-বাইরে সেটা নিশ্চিত আরও বড় আকার ধারণ করবে। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা কেপ ভার্দে অবশ্য বলতে পারে, ‘ঢেউ’ যত বড়ই হোক, তারা এসব সামলেই তো রূপকথা লিখে চলেছে। যতই লিখুক; শক্তি, ছন্দ, ইতিহাস, পরিসংখ্যান অবশ্য আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখবে। কিন্তু মাঠের খেলায় কী হবে, সেটা না হয় শুক্রবারই দেখা যাক।

বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগ যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি তাদের সাফল্যের বড় ভিত্তি হয়ে উঠেছে রক্ষণ। আর সেই রক্ষণের শেষ আস্থার জায়গায় থাকা সিমন প্রমাণ করলেন শিরোপার স্বপ্ন দেখতে হলে গোলরক্ষকের দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১৩ মিনিট আগে
হতাশা আর গৌরবের ব্যবধান কতটুকু? হ্যারি কেইনকে জিজ্ঞেস করলে উত্তরটা হবে—মাত্র ১১ মিনিট। আটলান্টায় তখন ইংলিশ সমর্থকদের চোখে অন্ধকার। ডিআর কঙ্গোর কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিশ্বসেরা তারকায় ঠাসা ইংল্যান্ড দাঁড়িয়ে ছিল আরেকটি অপ্রত্যাশিত বিদায়ের সামনে।
৩৪ মিনিট আগে
প্রথমে অপেক্ষা, তারপর আধিপত্য, শেষে উদ্যাপন। স্পেনের জয়ের গল্পটা এমনই। গোল পেতে কিছুটা সময় লেগেছে, কিন্তু একবার গোলের দেখা পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন।
৪৩ মিনিট আগে
বিশ্বকাপের দলগুলোর অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে গরম। দিনে–দুপুরেও ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাতে নাখোশ হলেও অজুহাত দাঁড় করাতে চান না স্কালোনি, ‘আমি জানি না এটা খেলায় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না। বিষয়টা বেশ স্ববিরোধী, কারণ এর আগে আমরা দুপুর দুটোয় খেলেছি আর এখন মায়ামিতে খেলব সন্ধ্যা ৬টায়। তবে পরিস্থিতি কেবল আ
১ ঘণ্টা আগে