
ফ্রান্সের জালে বল পড়তেই তাঁকে আর পায় কে! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর সেই রাতের নায়ক পেদ্রো পোরো। কিন্তু উচ্ছ্বাসের মাঝেও ২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের কণ্ঠে ধরা পড়ল ক্লান্তি। ফাইনালে ওঠার আনন্দের চেয়ে যেন শরীরের অবসাদই তখন বেশি স্পষ্ট।
জয়ের পর তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন সতি হলো। এটি (গোল করা) আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। শুরু থেকেই দলের মানসিকতায় আমি খুব খুশি। যা করার দরকার ছিল, আমরা সবই করেছি।’
ফ্রান্সকে ২–০ গোলে হারানোর ম্যাচে স্পেনের দ্বিতীয় গোলটি করেন পোরো। দানি অলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ম্যাচটি প্রায় নিশ্চিত করে দেন। হয়েছেন ম্যাচসেরাও, তবে ম্যাচ শেষে গোলের চেয়ে দলকেই সামনে আনলেন ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার, ‘এটা দলের জন্য। সবাইকে অভিনন্দন।’
স্পেনে পোরোকে অনেকে 'হুগাদর দে কাইয়ে' (রাস্তার খেলোয়াড়) বলে ডাকেন। রাস্তায় বড় হয়েছেন বলে নয়, বরং তাঁর মানসিকতার জন্য। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা, দলের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এবং কঠিন মুহূর্তে পিছিয়ে না আসার মানসিকতাই এনে দিয়েছে এই পরিচয়।
এই মানসিকতার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর দন বেনিতোতে। যেখানে জনসংখ্যা মাত্র ৪০ হাজার। সেখানেই বড় হয়েছেন পোরো। অনুশীলন না থাকলেও মাঠ ছাড়তেন না। নিজের দলের খেলা না থাকলে অন্য দলের কোচদের কাছেও গিয়ে খেলতে চাইতেন। শৈশবের কোচ কার্লোস মোরেনোর ভাষায়, পোরোকে আলাদা করেছিল তাঁর জয়ের ক্ষুধা। এক ম্যাচে ছয় গোল করেও দল হেরে যাওয়ায় মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি।
বাবা–মা দুজনই কাজ করতেন। তাই ছোটবেলার বড় একটা সময় কেটেছে দাদার কাছে। অনুশীলন থেকে ম্যাচ—সব জায়গায় নাতির সঙ্গী ছিলেন দাদা আন্তোনিও। পোরো গোল করলেই হাতে তুলে দিতেন একটি মিষ্টি। পরে ১৪ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে রায়ো ভায়োকানোর একাডেমিতে যোগ দিতে হয় তাঁকে। সেই ত্যাগই খুলে দেয় বড় মঞ্চের দরজা।
জিরোনা, স্পোর্টিং লিসবন হয়ে টটেনহ্যামে নিজের জায়গা করে নেওয়া পোরো এখন স্পেনেরও রাইটব্যাকে নির্ভরতার নাম। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় করেছিলেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল। সেমিফাইনালে করলেন আরও একটি। রক্ষণেও ছিলেন সমান কার্যকর।
ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের পরিকল্পনা নিয়ে পোরো বলেন, ‘আমরা জানতাম, বল নিজেদের কাছে রাখতে পারলে আমরা ফাইনালের আরও কাছাকাছি চলে যাব।’ ডালাসে ঠিক সেটিই করেছে স্পেন। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফ্রান্সকে খুব কম সুযোগ দিয়েছে, আর নিজেরা সুযোগ পেয়ে গোল করেছে।
এখন সামনে বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে ১৯ জুলাইয়ের আগে পোরোর মাথায় আপাতত একটাই চিন্তা, ‘আমি খেলার মতো ফিট হতে পারব কি না, সেটা দেখা যাবে। এই মুহূর্তে বলব, আমি যেন মৃত। এখন রিকভারির সময়।’

এই হারের হতাশা লুকাননি এবারের বিশ্বকাপে ৮ গোল করা এমবাপ্পে, ‘সবার মতোই, অনেক হতাশ আমি। ফাইনালে ওঠা ছিল আমাদের স্বপ্ন। আমাদের দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর, ইতিহাস গড়ার সুযোগ দেওয়াও ছিল আমাদের লক্ষ্য। এখন মাথা উঁচু করেই এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। হতাশা অনেক বেশি, আমি ঠিক ভাষায় সেটা প্রকাশ করতে
২৯ মিনিট আগে
এই ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে ১৪ বছরের দায়িত্বের ইতি টানলেন দেশম। ২০১৮ বিশ্বকাপসহ তাঁর অধীনে ১২০ ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স।
১ ঘণ্টা আগে
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ডালাসের গ্যালারি লাল-হলুদ উৎসবে মেতে ওঠে। ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে স্পেন। এই জয়ে তারা শুধু ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালেই ফিরল না, ছুঁয়ে ফেলল ইতালির ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডও।
২ ঘণ্টা আগে
সেমিফাইনালের মঞ্চে এমন ভুলের সুযোগ খুব কমই মেলে। আর সেই সুযোগটা যদি পায় স্পেনের মতো দল, তাহলে সেটা গোলে পরিণত করতে ভুল করে না।
৩ ঘণ্টা আগে