Ajker Patrika

নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক    
নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন নেইমার
সতীর্থদের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এই ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন সান্তোস সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার। ম্যাচের পরদিন কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই অনুশীলন কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো দাবি করেছে, ম্যাচের বিরতিতে দুই তরুণ সতীর্থ গাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে এই ফরোয়ার্ডের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হলেও নির্ধারিত রিকভারি সেশনে অংশ নেননি নেইমার। কিছু ছবি তোলা ও কফি পান করার পরই অনুশীলন কেন্দ্র ত্যাগ করেন। আগের দিন চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলে পেনাল্টি থেকে দলের দুটি গোলই করেছিলেন নেইমার।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, শনিবারের ঘটনার পর পরিস্থিতি বোঝার জন্য ক্লাব কর্মকর্তারাও ট্রেনিং সেন্টারে যান। সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ড্রেসিংরুমে তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে নেইমারের মন্তব্য স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পোকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন এবং ব্যঙ্গ করে নেইমার বলেন, ২০২৭ সালে হয়তো সে সিরি ‘বি’-তে চ্যাপেকোয়েন্সের হয়ে খেলবে। একই সঙ্গে ম্যাচের শেষ দিকে আত্মঘাতী গোল করা জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নেইমার। তিনি লেখেছেন, ‘বন্ধুরা, আমরা যে রোববারটা চেয়েছিলাম, এটা তা নয়। কিন্তু আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি দেখছি, ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি—এমন কিছু খবর বেরিয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এই তথ্য দিয়েছেন, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। আপনি যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। সেখানে পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে—আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই কথা বলেছি। আমরা নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি দাবি করেছি। কারণ আমরা প্রতিযোগিতাপ্রিয় এবং জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণদের আলাদা করে কোনো ধরনের ধমক দেওয়া হয়নি। এই মিথ্যাগুলো আমি মেনে নেব না।’

এটি অবশ্য সান্তোসে নেইমারকে ঘিরে প্রথম বিতর্ক নয়। গ্লোবো জানায়, তাঁর আচরণ নিয়ে ড্রেসিংরুমে আগে থেকেই অসন্তোষ রয়েছে। মাঠে সতীর্থদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় অনেক খেলোয়াড় নিজেদের ওপর চাপ অনুভব করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতে তরুণ ফরোয়ার্ড রবসন জুনিয়রকে চড় মারার ঘটনায়ও আলোচনায় এসেছিলেন নেইমার। পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির ইতি টানেন তিনি। সে সময় রবসন বলেছিলেন, ‘ঘটনাটি আমাকে কষ্ট দিয়েছিল। কারণ ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার আদর্শ। আমি তাকে সবসময় ভীষণ ভালোবাসতাম। বিষয়টি অনেক বড় করে দেখা হয়েছিল। ভুল হয়ে থাকলেও তিনি পরে ক্ষমা চেয়েছেন, নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। একজন প্রকৃত মানুষের মতো তিনি সেটা করেছেন। আমিও তার সঙ্গে কথা বলেছি। এখন সব ঠিক আছে।’

এদিকে চ্যাপেকোয়েন্স ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হওয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন নেইমার। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই কার্ড নিয়েছেন। এর জবাবে তিনি লেখেন, ‘ভুলটা আমারই হয়েছে। আমি কার্ড নিয়েছি, এখন আর কিছু করার নেই। কিন্তু দয়া করে এসব নিয়ে মনগড়া গল্প বানাবেন না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত