Ajker Patrika

বিশ্বকাপে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন জুয়ার চেয়ে ১০ গুণ বেশি

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ১৯
বিশ্বকাপে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন জুয়ার চেয়ে ১০ গুণ বেশি
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ চলাকালে জাঙ্ক ফুড ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন দেখা গেছে ৬৫ হাজারেরও বেশি বার। জুয়া প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের তুলনায় এসব বিজ্ঞাপন ছিল ১০ গুণ বেশি। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বিসিবি জানিয়েছে, ব্রিস্টল ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, উচ্চমাত্রায় চর্বি, লবণ বা চিনি রয়েছে এমন খাবার ও পানীয়ের ব্র্যান্ডের লোগো মোট ৬৫ হাজার ৭২২ বার দেখানো হয়েছে।

মাঠের পাশের বিজ্ঞাপন বোর্ডসহ বিভিন্ন স্থানে এসব বিজ্ঞাপন পুরো টুর্নামেন্টে মোট ২৮ দশমিক ১ ঘণ্টা দৃশ্যমান ছিল। ম্যাচ চলার মোট সময়ের ১৬ শতাংশেরও বেশি সময়জুড়ে দর্শকেরা এসব বিজ্ঞাপন দেখেছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে বিজ্ঞাপন দেখা গেছে ৫৭৬টি।

সবচেয়ে বেশি প্রচার পেয়েছে কোকা কোলা। প্রতিষ্ঠানটির লোগো দেখা গেছে ২১ হাজার ৮৯৩ বার। এরপর ম্যাকডোনাল্ডস ১৩ হাজার ৯১৫, পাওয়ারেড ১২ হাজার ৭৭৭ এবং লে’স ১২ হাজার ৮৭ বার বিজ্ঞাপনে এসেছে। চারটি প্রতিষ্ঠানই ফিফার আনুষ্ঠানিক অংশীদার।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জাঙ্ক ফুড ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন অ্যালকোহল ও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের ব্র্যান্ডের তুলনায় সাত গুণ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বিজ্ঞাপনের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ বেশি প্রদর্শিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের ব্র্যান্ডকে বারবার ফুটবল, উত্তেজনা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে সেগুলোর প্রতি মানুষের পরিচিতি বাড়ে এবং সেগুলোর ভোগ স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে।

শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে রাত ৯টার আগে টেলিভিশনে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠের বিজ্ঞাপন এই আইনের আওতায় পড়ে না।

যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকদের সংগঠনের সভাপতি গ্রেগ ফেল বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে আইনের একটি ফাঁক।’ তাঁর মতে, স্থূলতা বৈশ্বিক সমস্যা হওয়ায় বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এসব বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।’

গবেষণার সহলেখক ডা. এলিসা বেকার বলেন, ‘‘আমরা শিশুদের স্থূলতা ও খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের এক বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনটি অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের বিপণনে ছেয়ে গেছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত