Ajker Patrika

‘সুপার সাবে’ সুপার সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৩: ১২
‘সুপার সাবে’ সুপার সুইজারল্যান্ড

সোফি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের গোলখরা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলল সুইজারল্যান্ড। আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইসরা। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হলেও ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায় জোহাম মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস ব মাঠে নামার পর। এই দুই বদলি খেলোয়াড়ের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স এবং শেষ সময়ে গ্রানিত জাকার সফল লক্ষ্যভেদে বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।

খেলার প্রথম বড় সুযোগটি আসে ১৩তম মিনিটে। সুইস অধিনায়ক জাকার চমৎকার রক্ষণভেদী বল বাড়ানো থেকে জাল সীমানার কাছাকাছি ফাঁকা জায়গায় বল পান ড্যান রিডার। তিনি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ছুটে আসা ড্যান এনদোদেইয়ের দিকে নিচু করে বল বাড়িয়ে দিলেও, এনদোদেই ঠিকঠাক পায়ে বল ছোঁয়াতে না পারায় সহজ সুযোগটি হাতছাড়া হয় সুইজারল্যান্ডের।

এর মিনিট ছয়েক পর বঁা প্রান্ত দিয়ে বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরের দিকে বল বাড়িয়ে আবারও সুযোগ তৈরি করেছিলেন এনদোদেই, তবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা তা আটকে দেন। পরের মিনিটে বসনিয়ার ব্যাক্লাইনের ভুলের সুযোগ নিয়ে আবারও লক্ষ্য বরাবর বল মারেন এই সুইস খেলোয়াড়, তবে তা জালের বাইরে চলে যায়।

২৩ মিনিটে রেমো ফ্রয়লার বক্সের বেশ দূর থেকে ডান পায়ে জোরালো আঘাত করেন। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

​ ৩২ মিনিটে সুন্দর এক আক্রমণ সাজায় বসনিয়া। তরুণ আলাজবেগোভিকের কাছ থেকে সুইসদের গোল এলাকার বাঁ দিকে বল পান অভিজ্ঞ এডিন জেকো। তবে জেকোর বাড়িয়ে দেওয়া বলটি জালে পাঠানোর মতো কোনো সতীর্থ সেখানে ছিলেন না।

​প্রথমার্ধের শেষের দিকে আরও দুবার সুইস রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরান জেকো। ৪০ মিনিটে জেকো ডি বক্সের মাথা শট নেওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত থাকলেও, সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি দারুণ গতিতে এসে শেষ মুহূর্তে তা রুখে দেন। ৪৪ মিনিটে আলাজবেগোভিক ও কোলাসিনাচ নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে আরেকটি চমৎকার আক্রমণ চালালে সুইস রক্ষণভাগ বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে বিপদমুক্ত হয়।

​বিরতির পর ৫১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। এবারও আক্রমণের নেপথ্যে ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আকাঞ্জি। মাঝমাঠ থেকে তাঁর বাড়ানো চমৎকার বল ধরে বাম প্রান্ত দিয়ে গোল এলাকায় ঢুকে ভেতরের দিকে এসে নিচু করে বল মারেন এনদোদেই। তবে এবারও বসনিয়ার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ভাসিলজ; নিচু হয়ে দুর্দান্ত এক চেষ্টায় তিনি সুইজারল্যান্ডকে নিশ্চিত সাফল্য থেকে বঞ্চিত করেন।

৬৯তম মিনিটে দেদিচের নেওয়া কোণাকুণি দূরপাল্লার একটি বাঁকানো শট নি চমৎকারভাবে আটকে দেন সুইস গোলরক্ষক।

​অবশেষে ৭৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। বদলি নামা দুই খেলোয়াড়ের যৌথ প্রচেষ্টায় সাফল্য পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁপ্রান্ত দিয়ে ভার্গাসের বাড়ানো বল বসনিয়ার রক্ষণভাগ পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি। বাতাসে ভাসতে থাকা বলটি নিচে নেমে আসার মুহূর্তে মানজাম্বি চমৎকারভাবে শরীর ঘুরিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যাওয়া সেই বলে বসনিয়ার গোলরক্ষক হাত ছোঁয়ালেও তা আটকাতে পারেননি, ফলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।

৮৫ মিনিটে সুইজারল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় সাফল্য পায়। । এমবোলোর পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ফাঁক আয় থাকা ভার্গাস। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে, প্রথম সুযোগেই নিখুঁত এক কোণাকুণি শটে বলটি জালের দূরের কোণে পাঠিয়ে দেন তিনি।

৯০ মিনিটে তৃতীয় গোল ধরা দেয় সুইজারল্যান্ডের পায়ে। অধিনায়ক গ্রানিত জাকার বাড়ানো বল ধরে ভার্গাস খুঁজে নেন মানজাম্বিকে। তা নিখুঁত ছোঁয়ায় জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে হালি পূরণ করেন জাকা। এর আগে বসনিয়ার হয়ে সান্ত্বনার গোলটি করেন মাহমিচ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত