Ajker Patrika

৭ বছর পর ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ২২: ০৪
৭ বছর পর ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ
বল পায়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। ছবি: বাফুফে

এ যেন অচেনা বাংলাদেশ! মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গত দুই আসরে একরকম বোতলবন্ধী করে রেখেছিল ভারতকে। কিন্তু এবার দেখা গেল উল্টোচিত্র। সেই ভারতের কাছে ৭ বছর পর আজ দেখতে হয়ছে পরাজয়ের মুখ। টানা তৃতীয় শিরোপার মিশনে আসা পিটার বাটলারের দল মাঠ ছেড়েছে ৩-০ গোলের হার নিয়ে।

গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে লড়াইটি ছিল ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। মালদ্বীপকে হারিয়ে দুই দলই নিশ্চিত করে রাখে সেমিফাইনাল। এই হারের ফলে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ, যেখানে ৩ জুন তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী নেপালের। দিনের অন্য ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে উঠেছে নেপাল। ভারত সেমিফাইনালে লড়বে ভুটানের বিপক্ষে।

ম্যাচের ফল ও মাঠের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আক্রমণভাগের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণভাগের মনোযোগের অভাব। বড় ম্যাচে কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হলে সুযোগের শতভাগ ব্যবহার করতে হয়, যা বাংলাদেশ করতে পারেনি।

ম্যাচের বয়স যখন মাত্র দেড় মিনিট, তখনই এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতীয় ডিফেন্ডার সিলকি দেবীর ভুলের সুবাদে বল কেড়ে নিয়ে গোলরক্ষককে একেবারে একা পেয়ে যান আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। কিন্তু মালদ্বীপের বিপক্ষে ১১ সেকেন্ডে গোল করা এই ফরোয়ার্ড সরাসরি গোলরক্ষক বরাবর শট নেন। আন্তর্জাতিক স্তরে এমন মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় গোল করার দক্ষতার অভাব এই সুযোগ নষ্টের মাধ্যমে আবারও ফুটে উঠেছে। শুরুর এই মানসিক ধাক্কা পুরো ম্যাচেই দলের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে।

বিপরীতে ভারত ম্যাচটি জিতেছে মূলত বাংলাদেশের উপহার দেওয়া ভুলের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে। স্বাগতিকদের তিনটি গোলই এসেছে ডিফেন্ডারদের ভুল সিদ্ধান্ত ও পজিশনিংয়ের কারণে। ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটির ক্ষেত্রে ভারতের পরিকল্পিত আক্রমণের চেয়ে ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর ভুল ক্লিয়ারেন্স বেশি দায়ী ছিল। সাধারণ একটি দূরপাল্লার ক্রস হেডের সাহায্যে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে তিনি বল তুলে দেন পেছনে অরক্ষিত থাকা পেয়ারি সাসার পায়ে। কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন পেয়ারি।

দ্বিতীয়ার্ধে যখন বাংলাদেশ দল গোল শোধে মরিয়া হয়ে কৌশলগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছিল, ঠিক তখন রক্ষণভাগের আরেকটি অনভিজ্ঞতা ম্যাচ থেকে দলকে ছিটকে দেয়। ৭৮তম মিনিটে বক্সের ভেতর ভারতের মালবিকাকে অপ্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ করে বসেন ডিফেন্ডার সুরমা জান্নাত। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে ভারতের বদলি নামা ফরোয়ার্ড লিন্ডা কম স্পট কিক থেকে ব্যবধান ২-০ করেন। এর আগে ৬৮তম মিনিটেও লিন্ডার একটি বিপজ্জনক শট ঠেকিয়েছিলেন মিলি। ভারতের বেঞ্চের শক্তি যেখানে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে ডাগআউট থেকে তেমন কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিট) ডান প্রান্ত দিয়ে আসা ক্রস বক্সে ফাঁকায় পান মালবিকা। তাঁকে মার্ক করতে পারেননি কোহাতি। মালবিকার শট তাই সহজেই জড়ায় জালে। ফলে ২০১৯ সাফের পর আবারও ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ।

কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের মাঝমাঠ ও উইংয়ের সঙ্গে স্ট্রাইকিং জোনের সমন্বয়ের অভাব ছিল। মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা কিংবা শামসুন্নাহার জুনিয়ররা উইং দিয়ে গতিময় ফুটবল খেলে বেশ কয়েকবার বল বক্সে পাঠালেও সেখানে পজিশন নেওয়ার মতো কোনো ফরোয়ার্ড ছিলেন না। মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও রক্ষণভাগের যে দুর্বলতা দৃশ্যমান ছিল, ভারতের বিপক্ষে তা আরও বড় হয়ে সামনে এসেছে। সেমিফাইনালে নেপালের জমাট ফুটবলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোচ বাটলারের তাই বড় ফাটলগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত