Ajker Patrika

নীরবে-নিভৃতেই বিশ্বকাপ খেলতে গেল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ১৮: ৩৬
নীরবে-নিভৃতেই বিশ্বকাপ খেলতে গেল আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের উদ্দেশে আর্জেন্টিনার যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা। ছবি: এক্স

অবশেষে অপেক্ষার অবসান। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা ঘরে তোলার মিশন শুরু করে দিল আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

গত কয়েক দিন ধরে‘লিওনেল আন্দ্রেস মেসি’ ট্রেনিং কমপ্লেক্সে প্রস্তুতি নিচ্ছিল দল। শনিবার মধ্যরাত পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটায় স্থানীয় সময় যখন ১২টা, ঠিক তখনই জাতীয় দলের ছবি ও লোগো সম্বলিত একটি বিশেষ বাস কমপ্লেক্সের ফটক পেরিয়ে হাইওয়ের দিকে এগিয়ে যায়। গন্তব্য ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত মিনিস্ত্রো পিস্তারিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এসেইসা)।

প্রিয় তারকাদের একঝলক দেখতে বিমানবন্দরের ভিআইপি সেকশনের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন অন্ধ ভক্ত আর সংবাদমাধ্যমকর্মী। তবে কোনোদিকে না তাকিয়ে ‘স্কালোনেতা’র (কোচ স্কালোনির দল) বাসটি সরাসরি রানওয়ের দিকে চলে যায়।

প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও লাগেজ চেকিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা বাসে চড়ে বিমানের দিকে এগিয়ে যান। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এরোলিনাস আর্জেন্টিনার বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট ‘এআর ১৯৭৮’-এর বুয়েনস আইরেস ছাড়ার কথা ছিল রাত ১টা ১০ মিনিটে। বিমানের এই নম্বরটি যেন আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের এক ঐতিহাসিক স্মারক। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে, রাত ২টা ১৬ মিনিটে রানওয়ে ছাড়ে বিমানটি। গভীর রাত হওয়ায় সে সময় কোনো টেলিভিশন চ্যানেলও এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেনি।

কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা আর এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতার মাঝে আর্জেন্টিনার এই দেশ ছাড়ার দৃশ্যটি ছিল কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর বুয়েনস আইরেসে ফেরার সম্পূর্ণ বিপরীত। সেবার বিশ্বজয়ীদের বরণ করতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল আর্জেন্টিনার রাস্তায়। তবে নিভৃতে দেশ ছাড়লেও ফুটবলারদের মনে কিন্তু সেই একই স্বপ্ন। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল শেষে আবারও সেই রাজকীয় উদযাপনে মাততে চান হুলিয়ান আলভারেসরা। বিমানে ওঠার পর আলভারেজের মুখে লেগে থাকা চওড়া হাসি যেন সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রমাণ।

বুয়েনস আইরেস থেকে উড়াল দেওয়া ২৬ জনের দল থেকে আছেন— হেরোনিমো রুইয়ি, গনসালো মন্তিয়েল, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, এসেকিয়েল পালাসিওস, এনসো ফার্নান্দেস, ভালেন্তিন বারকো, লো সেলসো, নিকোলাস পাস, হুলিয়ান আলভারেস, থিয়াগো আলমাদা, নিকোলাস গনসালেস, গিলিয়ানো সিমিওনে এবং হোসে মানুয়েল লোপেস।

মূল দলের পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে পাঁচজন তরুণ ফুটবলারকে দলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পেশির ইনজুরিতে ভোগা মন্তিয়েলের বিকল্প হিসেবে দলে রাখা হয়েছে অগাস্তিন গায় ও নিকোলাস কাপালদোকে। মন্তিয়েল সময়মতো ফিট না হতে পারলে এই দুজনের কেউ একজন জায়গা পেয়ে যেতে পারেন মূল স্কোয়াডে।

প্রায় ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে রোববার বিকেলের মধ্যেই কানসাস সিটিতে পৌঁছাবে আলবিসেলেস্তেরা। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার পর পুরো দল প্রথমবারের মতো হোটেল ক্যাম্পে একত্রিত হবে। আর সেখানে আগে থেকেই মায়ামিতে থাকা অধিনায়ক লিওনেল মেসি সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এরপর সোমবার থেকে যুক্তারাষ্ট্রে শুরু হবে স্কালোনির শিষ্যদের প্রথম মাঠের অনুশীলন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত