Ajker Patrika

ফাইনালের চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফাইনালের চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ
ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। ছবি: বাফুফে

গ্রুপপর্বে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন সমালোচনার বাণ ধেয়ে আসছিল, তখন টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের পথটা হঠাৎ করেই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক আর চোটের ধাক্কা সামলে মারিয়া-ঋতুপর্ণারা আবারও শিরোপার মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছেন। ফাইনালে সন্ধ্যা ৭টায় কাল প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত।

টানা দুবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য এবারের নারী সাফের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ভারতের বিপক্ষে বড় হার, গোয়ার অতিরিক্ত আর্দ্রতার সঙ্গে লড়াই কিংবা মনিকা চাকমার চোটের মতো অবধারিত বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই এই তরুণ দলটিকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয় সব গ্লানি মুছে দিয়ে পুরো ড্রেসিংরুমকে আবার চেনা আত্মবিশ্বাসে ফিরিয়েছে।

চারপাশের নেতিবাচক সমালোচনা প্রসঙ্গে কোচ পিটার বাটলার গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মাঠের বাইরে ও ভেতরে আমাদের অনেক সমস্যা ছিল, ইনজুরি ছিল, তারপরও আমরা এমন ফলাফল এনেছি, যা অনেকে ভাবতেও পারেনি। আমি গ্লাস অর্ধেক খালি না দেখে অর্ধেক পূর্ণ দেখার নীতিতে বিশ্বাসী এবং পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক থাকতে চাই।’

সেমিফাইনালে ঋতুপর্ণা চাকমার সরাসরি কর্নার থেকে করা গোল নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা, তখনো বাটলারের পা মাটিতেই আছে। দলে কোনো একক ‘সুপারস্টার’ তৈরি করতে চান না তিনি। খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করতে গিয়ে কোচের ভাষ্য, ‘আমার দলের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে সে আলাদা বা বেশি বিশেষ কিছু নয়। মারিয়া মান্দা, তহুরা কিংবা মিলি—আমি সবাইকে সমান চোখে দেখি। আমি কোনো সুপারস্টার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই। আফরিনের মতো ১৮ বছর বয়সী তরুণী অসাধারণ খেলছে, অন্যদিকে স্টকহোম থেকে আসা আনিকার অবদান চমৎকার ছিল।’

কোচের এই দলগত দর্শনের সঙ্গে একমত অধিনায়ক মারিয়া মান্দাও। আগের দুবার সাফজয়ী দলের কেবল সদস্য হলেও এবার তিনি দলের অধিনায়ক। টানা তৃতীয়বার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না এই মিডফিল্ডার। নিজের তৃতীয় সাফ ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এবং খেলোয়াড় হিসেবেও মনের ভেতর রোমাঞ্চ কাজ করছে যে সুযোগ পেয়েছি আবার। বিগত দিনে দুটি সাফ জিতেছি; তৃতীয়বারের মতো আবার সুযোগ এসেছে, সব সময় তো আর এমন সুযোগ থাকে না। আসলে এই সুযোগটা পেয়েছি, এটা কাজে লাগানোর জন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এসেছি, পরিশ্রম করে এসেছি।’

একই হোটেলে দুই দল অবস্থান করায় কোনো মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মারিয়া বলেন, ‘চাপ বলতে এতটাও চাপ নিচ্ছি না; কারণ হলো তাদের সঙ্গে তখন খেলে এসেছি। আমরা লড়াই করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। বাইরে যা কিছু হচ্ছে, সেখানে আসলে ফোকাস দিচ্ছি না; খেলার দিকেই আমাদের মনোযোগ।’

ঘরের মাঠ হওয়ায় গ্যালারিতে ভারতের পাল্লা ভারী থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে স্বাগতিকদের কীভাবে কাঁদাতে হয়, তা ভালোই জানা মারিয়ার, ‘গত সাফ যখন খেলেছিলাম, তখনো কিন্তু নেপালে অনেক দর্শক ছিল, অনেক চাপ ছিল। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করে মোকাবিলা করেছি। মানসিকভাবে আমরা সবকিছুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের আসলে মোকাবিলা করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত