বাংলাদেশ কি ভারতের আধিপত্যের মুকুটে ভাগ বসাতে পারবে

দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে রেকর্ড ৯ বার শিরোপা জিতেছে দেশটি। তবে এবার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট, হামজা চৌধুরী-শমিত শোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিপক্ষ ভারতের দ্বিতীয় সারির দল, সব মিলিয়ে ২৩ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। উদ্বোধনী দিনে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পাশাপাশি মাঠে নামবে বাংলাদেশও। রাত ৮টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ ভুটান। ২০০৩ সালে সর্বশেষ সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে অধরা সেই ট্রফি। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই টুর্নামেন্টে নামছে দল।
বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় কারণ স্বাগতিক সুবিধা। গ্যালারিভরা দর্শকের সমর্থন, দলে মানসম্পন্ন প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের তুলনামূলক দুর্বল প্রস্তুতি, সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত আসরে সেমিফাইনাল খেলাকেই বড় কিছু মনে করা হচ্ছিল, এবার সেখানে ফেবারটি আয়োজকেরা।
বাংলাদেশের ফেবারিট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভারতীয় দলের কোচ নওশাদ মুসাও। ঢাকায় পা রেখেই তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল বাংলাদেশই।’ ফেবারিটদের ক্রমবিন্যাস করতে গিয়ে তাঁর অবস্থান ছিল আরও স্পষ্ট। নওশাদের মতে, প্রথমে বাংলাদেশ, এরপর ভারত এবং তৃতীয় স্থানে পাকিস্তান।
ভারতের এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে খেলোয়াড়দেরই। কোচ টমাস ডুলি শিষ্যদের মধ্যে সেই বিশ্বাস জাগাতে চান। ২৩ বছরের অপেক্ষার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সমর্থকদের জন্য, দলের জন্য জিততে চাই। ২৩ বছর ধরে যদি এই টুর্নামেন্ট জিততে না পারেন, এরপর যখন ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ, তখন দলের ভেতরে একটা বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে। খেলোয়াড়েরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে যে এবার আমরা সত্যিই কিছু করে দেখাতে পারব। সময় এসেছে এটা করার।’
ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সবদিক থেকেই এগিয়ে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৮২। অন্যদিকে ভুটান আছে ১৯২ নম্বরে। মুখোমুখি লড়াইয়েও বাংলাদেশের আধিপত্য। ১৭ ম্যাচের ১৩টিতেই জিতেছে দল। তবে লক্ষ্য যখন শিরোপা জেতা, তখন কেবল ভুটান ম্যাচের দিকে না তাকিয়ে সামগ্রিকভাবেই ভালো ফুটবল খেলতে চায় বাংলাদেশ।
ডুলি বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি, ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। যদি মনে করি, এটা সম্ভব নয়, তাহলে কখনোই সম্ভব হবে না। আমরা লড়াই করতে পারব, ভালো ফুটবল খেলতে পারব—এই বিশ্বাস রাখতে হবে। সমর্থকদের উপস্থিতি, শিরোপা জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ইতিবাচক চিন্তা আর একে অপরকে সহযোগিতা করে প্রয়োজনীয় দল গড়ে তোলার মাধ্যমে হয়তো নিজেদের ভেতর আরও ৫ থেকে ১০ শতাংশ শক্তি বাড়াতে পারি। সফল হতে হলে আমাদের এমন দলই দরকার।’
অধিনায়ক তপু বর্মণও এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের জন্য, ‘নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশেষ করে রক্ষণভাগ থেকে পুরো দলকে সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে, গোলরক্ষকও থাকবেন। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো সময় আমরা আর পাব না। ঘরের মাঠে সাফ ফুটবল আয়োজন আমাদের জন্য বড় সুযোগ। ২০০৫ সালের দলের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করলে আমার মনে হয়, অনেক পার্থক্য রয়েছে। সেই বিবেচনায় আমাদের সম্ভাবনাও বেশি। তবে সবাই যদি সম্মিলিতভাবে ভালো পারফর্ম করতে পারি এবং দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব।’









